সশরীরে তিনি আর নেই। গত বছরের নভেম্বরেই অমৃতলোকে পাড়ি দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। বলিউডের 'হি-ম্যানে'র শূন্যতায় গুণমুগ্ধদের হৃদয় খাঁ খাঁ করে। স্মৃতিতে আজও তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। শুধু দেশের মাটিতে নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও 'বীরু'র শূন্যতা যেন একইরকম। লন্ডনের মাটিতে 'বাফটা'র মঞ্চে ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ। আর তা দেখে চোখে জল অনুরাগীদের।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে 'বীরু' স্মরণ
কমেডি থেকে রোম্যান্স এমনকী অ্যাকশন, সমস্ত উপজীব্যই ভরপুর তাঁর অভিনীত ছবিতে। তিনিই বলিউডের ‘হিম্যান’ ধর্মেন্দ্র। ‘শোলে’ ছবিতে তাঁর চরিত্র ‘বীরু’ আজও দাগ কাটে দর্শকের মনে। বলিউডের কাল্ট ক্লাসিক ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর অভিনয় আজও গেঁথে রয়েছে সকলের মনে। সঙ্গে ‘জয়’ অর্থাৎ অমিতাভের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের রসায়ন এক আলাদা সংজ্ঞা তৈরি করেছিল। রাজ খোসলার পরিচালনায় ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ ছবিতে ধর্মেন্দ্রর অভিনয় জীবনে কালজয়ী ছবিগুলির মধ্যে একটি। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও ভোলেননি দর্শক। হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ছবি ‘চুপকে চুপকে’ ধর্মেন্দ্রর ফিল্মি জীবনের আর এক উল্লেখযোগ্য ছবি। গল্পের প্রেক্ষাপট, হাস্যরস ও বুদ্ধিদীপ্ততায় ভরপুর এই ছবি আজও দর্শকের মনে দাগ কাটে। ধর্মেন্দ্র এই ছবিতে স্ক্রিনশেয়ার করেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর, অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চনের সঙ্গে। প্রবাদপ্রতিম অভিনেতার ফিল্মি জীবনের আরও এক হিট ছবি ‘ফুল আউর পাথর’ বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
ধর্মেন্দ্রর অভিনয়, এই ছবির গল্পের প্লট, ছবির মিউজিক সবমিলিয়ে ধর্মেন্দ্র অভিনীত এটি একটি কাল্ট ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমকম ঘরানার ‘দিললাগি’ ছবি সমানভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘হকিকত: স্যাক্রিফাইস ফর কান্ট্রি’, ছবিতে বাহাদুর সিং চরিত্রে রীতিমতো তাক লাগিয়েছিলেন সকলকে। হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘অনুপমা’ ছবিতে ‘অশোক’ চরিত্রে নজর কেড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। রমেশ সিপ্পির পরিচালনায় সীতা আউর গীতা ছবিতে হেমা মালিনীর সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর যুগলবন্দি বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল। তাঁর ফিল্মি জীবনে এই ছবি এক মাইলস্টোন বলা যায়, যা আজও দর্শককে বিনোদনের রসদ জোগায়। সেই ‘হি-ম্যান’ই পদ্মসম্মানেও ভূষিত হন সদ্যই। তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্মরণে যেন গাঁয়ে কাঁটা দেয় অনুরাগীদের।
