বড় পর্দায় ছত্রপতি শিবাজিকে দেখার অপেক্ষায় সিনেপ্রেমীরা। প্রথমবার রাজবেশে রীতেশকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন ভক্তরা। রোম্যান্টিক বা কমেডি নায়কের খোলস ছেড়ে ছকভাঙা চরিত্রে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন রীতেশ (Riteish Deshmukh)। শুধু একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, 'রাজা শিবাজি'র নির্দেশনার দায়িত্বেও খোদ রীতেশ দেশমুখ। আগামী ১ মে ছবি মুক্তির আগে মুম্বইয়ে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হয়ে গিয়েছে ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান। দর্শকমহলে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছে সিনেমার ট্রেলার। তার মাঝেই রাজা শিবাজি (Raja Shivaji Controversy) নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠল স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক প্রচারক ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Dhirendra Shastri) বিরুদ্ধে। যিনি মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধাম মন্দিরের প্রধান, তাই তিনি 'বাগেশ্বর বাবা' নামেও পরিচিত।
২৯ বছর বয়সী শাস্ত্রী শনিবার আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ছত্রপতি শিবাজি ও সতেরোর দশকের মারাঠি সাধক সমর্থ রামদাসের সাক্ষাতের একটি কাহিনি তুলে ধরেন। যেখানে বলা হয়, প্রতীকীভাবে রাজমুকুট রামদাসের মাথায় পড়িয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন রাজা শিবাজি। পরে রামদাস সেই মুকুট ফের ছত্রপতি শিবাজির হাতে তুলে দিয়ে তাঁর তত্ত্বাবধানেই রাজপাট ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানান। তাঁর এই মন্তব্যে বিরোধী ও শাসক উভয় শিবিরের সমালোচনার ঝড়। মহারাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদের সুর চড়িয়েছেন।
রীতেশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, 'কেউ যখন এসে আমাদের পূজ্য দেবতাকে নিয়ে বিকৃত ও অর্থহীন কথা বলে একজন শিবভক্ত হিসেবে অত্যন্ত অসম্মানজনক। এই ধরনের তুচ্ছ প্রচেষ্টা আমাদের ঐতিহ্যকে খাটো করতে পারবে না।'
কংগ্রেস কর্মীরা অমরাবতীতে মিছিল করেন, মারাঠি সংস্থা সম্ভাজি ব্রিগেড নাগপুরে বিক্ষোভ দেখায় এবং সোলাপুর ও শিরডিতেও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার, এনসিপি মন্ত্রী ছগন ভুজবল সহ অনেকেই শাস্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোলহাপুরের ছত্রপতি সম্ভাজি রাজে ভোঁসলে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান। সম্ভাজি রাজে ভোঁসলে বলেন, "যারা ইতিহাস না জেনে এভাবে বিভ্রান্তিকর কথা বলেন তাঁদের অনুষ্ঠান মহারাষ্ট্রে বন্ধ করা উচিত।তাঁদের সমর্থনে যদি কেউ এগিয়ে আসেন তাহলে জনগণ তাঁদেরও জবাব দেবে।"
শিবাজির চরিত্রে রীতেশ
শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতের প্রশ্ন, কেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত তাঁকে সংশোধন করেননি। তাঁর বক্তব্য, "অন্য কেউ শিবাজি মহারাজ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করলে বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করত। মহারাষ্ট্রে এসে কেউ যদি ইতিহাস বিকৃত করে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।" এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল বলেন, "ইতিহাসে শিবাজি মহারাজ ও রামদাস স্বামীর সাক্ষাতের কোনও প্রমাণ নেই। শাস্ত্রীর বক্তব্য ইতিহাসকে বিকৃত করছে ।" কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার শাস্ত্রীকে ‘ভণ্ড বাবা’ বলে কটাক্ষ করেন।
সমালোচনার মুকে নীরবতা ভেঙেছেন 'বাগেশ্বর বাবা' ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, "ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু একজন হিন্দু সম্রাট। তিনি কীভাবে তাঁর গুরুকে সম্মান করতেন তা বোঝাতে আমি নিজের মতো করে একটি গল্প সকলের সামনে উপস্থাপন করেছি। কাউকে অসম্মান করার কোনও ইচ্ছেই আমার ছিল না। তবুও যদি আমার কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।" উল্লেখ্য, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে 'বাগেশ্বর বাবা' অতীতেও কুসংস্কার ছড়ানোর অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন।
শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে ছত্রপতি শিবাজি নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ উঠতেই সমাজমাধ্যমে সরব রীতেশ। তিনি লিখেছেন, 'কেউ যখন এসে আমাদের পূজ্য দেবতাকে নিয়ে বিকৃত ও অর্থহীন কথা বলে একজন শিবভক্ত হিসেবে অত্যন্ত অসম্মানজনক। এই ধরনের তুচ্ছ প্রচেষ্টা আমাদের ঐতিহ্যকে খাটো করতে পারবে না। তবে যেমন সহ্যাদ্রি পর্বতমালা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিদ্যমান তেমনই একটি নাম কোটি বছর পরও অটুট থাকবে। আর সেই নাম হল, ক্ষত্রিয় বংশের গৌরব সিংহাসনের অধিপতি সম্রাটদের সম্রাট ছত্রপতি মহারাজ।'
