পাকিস্তান বিরোধী প্রেক্ষাপটের জেরে গত ডিসেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে মুক্তির আলো দেখেনি 'ধুরন্ধর'। মাত্র এক মাসে হু হু করে হাজার কোটির গণ্ডি পেরনো সিনেমাকে বাহারিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল। যার জেরে আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে প্রবল ধাক্কাও খেয়েছিল আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবি। এবার সিক্যুয়েল রিলিজের প্রাক্কালে ইসলামাবাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন বলিউডের ব্লকবাস্টার পরিচালক।
"আমার কিছু যায়-আসে না! তবে পাকিস্তানি দর্শকরা যদি আমাদের উপর আস্থা রাখেন, তাহলে অবশ্যই তাঁদের এই ছবিটা দেখা উচিত। কারণ, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলছি...।"
“এটা নতুন হিন্দুস্থান, ঘরে ঢুকে মারতেও পিছপা হয় না…”, ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় পয়লা ঝলকেই হুঁশিয়ারি দেগেছিলেন আদিত্য। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar 2)-এর ট্রেলারেও দেখানো হয়েছিল প্রতিবেশী দেশ যখন ধর্মের ঝান্ডা তুলে মানবিকতার উপর প্রশ্ন তোলে, তখন ‘ঘাড় ধরে’ সেদেশকে নিজের জায়গা দেখাতে ভোলে না নতুন ভারত। এবার সিক্যুয়েলও যদি পাকবিরোধী সংলাপের জেরে নিষিদ্ধ হয়, তাহলে কি ব্যবসায় প্রভাব পড়বে? প্রশ্ন রাখা হয়েছিল আদিত্যর কাছে। জবাবে পরিচালক যা বললেন, সেটাই এখন চর্চার শিরোনামে। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ পরিচালকের মন্তব্য, "আমার কিছু যায়-আসে না! তবে পাকিস্তানি দর্শকরা যদি আমাদের উপর আস্থা রাখেন, তাহলে অবশ্যই তাঁদের এই ছবিটা দেখা উচিত। কারণ, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলছি, আমরা পাকিস্তানের নাগরিকদের বিরোধিতা করছি না। তাঁরা বুঝতে পারবেন যে এই সিনেমাটি পাকিস্তানের জনগণ সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলছে না। আমাদের ছবিতে যে বার্তা রয়েছে তার সবটাই সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে। আমরা শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি কোন দেশ বা তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়।"
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ট্রেলারে ‘হামজা’ রণবীর সিং। ছবি- সংগৃহীত
গত ৫ ডিসেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ নতুন বছরেও প্রেক্ষাগৃহে রমরমিয়ে চলছে। হাজার কোটির গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডের খান-কাপুরদের রেকর্ডও ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছেন রণবীর সিং। এবার সিক্যুয়েলের ‘হামজা’ও যে দর্শকদের জন্য বড় চমক রেখেছেন, তার আগাম আভাস ট্রেলারেই মিলেছে। রহমান ডাকাইতের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের লিয়ারি শহরের সিংহাসনে কে বসবে? কে-ই বা করাচির ভাগ্য নির্ধারণ করবে? সেই প্রশ্ন জিইয়ে রেখেই প্রথম পর্ব শেষ হয়েছিল। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিতে সেই গল্পই দেখাবেন আদিত্য ধর। যেখানে প্রতিশোধস্পৃহ হামজা আলিকে আরও নৃশংসভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তুখড় স্ট্র্যাটেজি আর পাক মুলুকের মাটিতে মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে কীভাবে টিকে থাকে সে? বালোচদের অবস্থানই বা এক্ষেত্রে কী হবে? ফাঁস হবে ‘ধুরন্ধর ২’তে।
