সদ্য মন্দা কেরিয়ারের শাপমোচন ঘটিয়ে দাপুটে প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছিলেন, কিন্তু এর মাঝেই কিনা আইনি টানাপোড়েনে রণবীর সিং (Ranveer Singh)! একদিকে যখন বিশ্বজুড়ে বিজয়রথ ছুটিয়েছে 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ', তখন নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে কর্ণাটক উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রণবীর সিং।
"জনসমক্ষে মন্তব্য করার আগে তারকাদের আরও সাবধানী হওয়া উচিত। কোনও দেবদেবীকে নিয়ে ঠাট্টা-রসিকতা একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। কর্ণাটকের জনগণের অনুভূতিকেও উপেক্ষা করা যাবে না। আপনি বড্ড বেপরোয়া। আপনার স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন তো কর্ণাটকের মেয়ে। তাই এখানকার স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত ছিল।”
ঠিক কী ঘটেছে? পঁচিশ সালের নভেম্বর মাসে 'কান্তারা'র এক দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঋষভ শেট্টির দৈব নৃত্যকে 'ভূত' বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন রণবীর সিং। 'ইফি'র মঞ্চ থেকে সেই বিতর্কিত মন্তব্য ভাইরাল হতেই বলিউড অভিনেতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তোলে কর্নাটকের তুলু সম্প্রদায়। যার জেরে এফআইআর-এর পাশাপাশি 'ধুরন্ধর' অভিনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হয় ফৌজদারী মামলাও। সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে কর্ণাটক উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন রণবীর সিং। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে অভিনেতাকে পালটা তীব্র ভর্ৎসনা করা হয় আদালতে। এবার খবর, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়ার জন্য কর্ণাটক হাই কোর্টে একটি হলফনামা পেশ করতে চলেছেন রণবীর সিং। এই হলফনামার মাধ্যমেই কান্তারার 'দৈব নৃত্য' অনুকরণের ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন তিনি। এপ্রসঙ্গে রণবীরের আইনজীবী আদালতে জানান, "'ধুরন্ধর' তারকা মহীশূরের চামুণ্ডী মন্দিরে সশরীরে উপস্থিত থেকে ক্ষমা চাইতে ইচ্ছুক।" কারণ প্রতিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল যুক্তি দেন, "অভিনেতা এর আগে ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু মৌখিকভাবে বা সরাসরি কোনও ক্ষমা চাননি।" সেই প্রেক্ষিতেই রণবীরের আইনজীবী চামুণ্ডী মন্দিরে গিয়ে অভিনেতার নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেন।
‘কান্তারা’র মিমিকে রণবীর সিং। ছবি: সংগৃহীত
গত শুনানিতে বিচারপতি এম নাগপ্রসন্নের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে পিটিশন দাখিল করে অভিনেতা যুক্তি দেন, "ঋষভ শেট্টির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছিলাম। আর সেটাকেই অন্যায়ভাবে অপরাধের রং লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।" পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশ জোড়া আইনি নোটিস জারি করায় রণবীরের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, "অভিনেতার উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।" কিন্তু কোর্টে পালটা রণবীর সিংকে ভর্ৎসনা করে বলা হয়, "আপনি তো তারকা। বহু মানুষের কাছে আপনারা অনুপ্রেরণা। কাজেই আপনার আরও দায়িত্বজ্ঞান থাকা উচিত। আপনি মিমিক্রি করুন। কিংবা যা ইচ্ছে হয় করুন, কিন্তু কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অধিকার আপনার নেই। আপনি রণবীর সিং হোন বা যে কেউ, মুখে লাগাম থাকা উচিত।"
রণবীর সিংয়ের উদ্দেশে আদালতের তরফে এও বলা হয় যে, "জনসমক্ষে মন্তব্য করার আগে তারকাদের আরও সাবধানী হওয়া উচিত। কোনও দেবদেবীকে নিয়ে ঠাট্টা-রসিকতা একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। কর্ণাটকের জনগণের অনুভূতিকেও উপেক্ষা করা যাবে না। আপনি বড্ড বেপরোয়া। আপনার স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন তো কর্ণাটকের মেয়ে। তাই এখানকার স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত ছিল।” এর আগে ক্ষমা চেয়ে রণবীর সিং জানিয়েছিলেন, "আমি শুধু ঋষভ শেট্টির অসাধারণ পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি জানি, এই ধরণের দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য কতটা কসরত করতে হয়। তাই মন থেকে ওঁকে শ্রদ্ধা করি। আমি বরাবর আমাদের দেশের প্রত্যেকটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে গভীরভাবে সম্মান করে এসেছি। কিন্তু যদি কারও ভাবাবেগে আমি আঘাত করে থাকি তাহলে মন থেকে ক্ষমা চাইছি।" কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। এবার মন্দিরে গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করলেন কর্ণাটক হাই কোর্টের কাছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, আগামী ১০ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
