চরিত্রের প্রয়োজনে ক্যামেরার সামনে তারকাদের খুল্লমখুল্লা সাহসী অবতারে ধরা দেওয়ার রীতি নতুন নয়। তবু সিনেমার চিত্রনাট্যের মোচড়ে এযাবৎকাল বহু অভিনেত্রীকে সেটে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। মাসকয়েক আগে 'পেড্ডি' ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের অর্ধউন্মুক্ত বুক, পেট, কোমড়ে ক্যামেরা জুম করায় কম বিতর্ক হয়নি। অগ্নিশর্মা নায়িকার আপত্তিতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন খোদ পরিচালক। এবার শুটিংয়ে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন দিয়া মির্জা।
"একজন নারী হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার করা সবথেকে কঠিন কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। কারণ সেটে শত শত পুরুষের সামনে আমাকে প্রায় ব্রা-প্যান্টি পরে...।"
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কীভাবে অন্তর্বাস পরে সেটে একশো পুরুষের সঙ্গে শুটিং করতে হয়েছিল। দিয়া মির্জা বলছেন, "একজন নারী হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার করা সবথেকে কঠিন কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। কারণ সেটে শত শত পুরুষের সামনে আমাকে প্রায় ব্রা-প্যান্টি পরে শুট করতে হয়েছিল।" এহেন অভিজ্ঞতা দিয়াকে কোন পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছিল? এপ্রসঙ্গে নায়িকা জানালেন, "বিষয়টি খুব... কীভাবে বোঝাব? অস্বস্তিকর মনে হতে পারত, আসলে মনে হয়েও ছিল কিছুটা, কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই অনুভূতিটা চিরস্থায়ী হয়নি। কারণ শুটিংয়ের সময় ওই চরিত্রটি আমি পর্যালোচনা করেছিলাম। আমার চরিত্রের মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? সেটাই গুরুত্ব পেয়েছিল আমার কাছে। তাই তখন সেটে পাঁচশো জন আছে নাকি হাজার জন? এসব আমার কাছে আর বড় বিষয় ঠেকেনি।" এহেন অভিজ্ঞতা থেকেই দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পাঠ নিয়েছেন দিয়া মির্জা।
শুটিংয়ে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা দিয়া মির্জার
অভিনেত্রী জানালেন, "এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যেটা আমি কোনওদিন আশাও করিনি। নৃত্যপ্রশিক্ষক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই এই গানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুটিং করতে পেরেছিলাম। সেটে যাঁরা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।" ২০০৪ সালে ইমরান হাশমির সঙ্গে জুটি বেঁধে 'তুমসা নহি দেখা' ছবিতে অভিনয় করেন দিয়া মির্জা। সেই সিনেমার 'মুঝে তুমসে মোহব্বত হ্যায়' গানের শুটিংয়েই এমন অভিজ্ঞতা হয় অভিনেত্রীর। এতবছর বাদে সেকথাই ভাগ করে নিলেন দিয়া মির্জা।
