তারকাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের খুটিনাটি প্রায়ই হয়ে ওঠে পেজ থ্রির খবরে। কিন্তু, সেলিব্রিটিদের জীবনের অনেক অজানা কাহিনি চাকচিক্যের আড়ালেই রয়ে যায়। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের জীবনেও রয়েছে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর মুহূর্ত যা প্রকাশ্যে আসলে ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। প্রবীণ স্টান্টম্যান মোহন বাগ্গাদ বিগ বির জীবনের ঘটে যাওয়া এমনই এক হাড়হিম করা ঘটনা শেয়ার করেছেন। শুটিংয়ের মাঝে অত্যুৎসাহী হয়ে আনকোরা বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ে মত্ত হয়ে ওঠেন অমিতাভ!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা গল্প শোনালেন মোহন বাগ্গাদ। অভিষেকের জন্মের পর এই মারাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন অমিতাভ। যুক্তি দিয়েছিলেন, বচ্চন পরিবারে শের জন্মেছে। তাই বাঘের সঙ্গে লড়াই করবেন। এক সংবাদমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "আমি 'খুন পসিনা' ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের জন্য একটি স্টান্ট করেছিলাম। যেখানে একটি বাঘ ছিল। অমিতজির আসল স্টান্টম্যানের গায়ের রং কিছুটা কালো ছিল। তাই নির্মাতাদের মনে হয়েছিল দৃশ্যটির জন্য ওই স্টান্টম্যান উপযুক্ত নন। পরিচালক অ্যাকশন ডিরেক্টর বীরু দেবগনকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর টিমের কেউ এই কাজটি করতে পারবে কি না। তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি করব কি না। বাঘের সঙ্গে স্টান্ট করতে ভয় লাগছিল, তবুও রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।"
আরও বলেন, "আমাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল আমি যেন বাঘের দিকে মুখ না করি। কারণ বাঘ যদি কোনও কারণে থাবা দিয়ে আঘাত করে তাহলে মুখ পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেতে পারে। কয়েকটি শট দেওয়ার পর আমি ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাই। এরপর টানা দুই-তিন দিন আমি ওই দৃশ্যে অভিনয় করি। অমিতজি যখন আমাকে স্টান্টটি করতে দেখলেন তখন অত্যুৎসাহী হয়ে উঠে বলেন, আমিও এই স্টান্টটা করব।" এর নেপথ্যে অনুপ্রেরণা ছিল একরত্তি অভিষেক বচ্চন।
বাঘের সঙ্গে স্টান্ট বিগ বির
১৯৭৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অমিতাভ বচ্চনের ছেলে অভিষেক বচ্চনের জন্মের খবরই তাঁকে এই বিপজ্জনক স্টান্ট করার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্টান্ট মাস্টার বলেন, "আমরা কান্দিভালিতে শুটিং করছিলাম। তখন অমিতজি একটি ফোন পান। তাঁকে বলা হয়, আপনার ঘরে পুত্রসন্তান এসেছে। তখন তিনি বলেন, এটা যদি শের হয় তাহলে আমিও শের। আমার ঘরে একটা শের জন্মেছে। এরপর তিনিও আনন্দের সঙ্গে কয়েকটি শট দেন।"
তবে যে বাঘের সঙ্গে তাঁরা স্টান্ট করেছিলেন তার কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। সেলাই করে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে তেড়েফুঁড়ে থাবা বসাতে এগিয়ে আসত। ভয়ংকর অঊিজ্ঞতা ভাগ করে মোহনের সংযোজন, "বাঘটি আমার মুখে এমন থাবা বসিয়েছিল যে একনও আমার মুখে সেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার এক বন্ধুর ১০-১২টি সেলাইও পড়েছিল। আসলে বাঘগুলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল না। মুখ সেলাই করে বন্ধ করে রাখা হত। ফলস্বরুপ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেত।"
