দীর্ঘ তিন বছরের টানাপড়েনের পর অবশেষে আসার আলো দেখেছিল দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ (Diljit Dosanjh) অভিনীত 'সতলুজ' (Satluj)। সেন্সরের চোখ রাঙানিতে ছবির নাম পরিবর্তনও করা হয়। 'পাঞ্জাব ৯৫'-এর পরিবর্তে 'সতলুজ' নামে মুক্তি পেয়েছিল দিলজিতের সিনেমা। ৩ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে মুক্তির পরই রবিবার আচমকা সরিয়ে নেওয়া হল 'সতলুজ'কে।
ছবি মুক্তিতে দীর্ঘ লড়াই করেও 'হতাশ' পরিচালক হানি ত্রেহান, তবুও দমে যাওয়ার পাত্র নন। আগামীতে ফের ছবি দর্শকের দরবারে আসবে বলে আশাবাদী পরিচালক। দু'দিনের মধ্যেই ছবি সরিয়ে নেওয়ায় ওটিটির দর্শকেরও মনক্ষুন্ন হয়েছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না। জি ফাইভের তরফে বিবৃতি জারি করে ছবি সরিয়ে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে।
সিনেমার ঝলক
কী লেখা হয়েছে সেই বিবৃতিতে? কিছুটা আশার আলো দেখিয়ে জি ফাইভ জানাচ্ছে, 'সাম্প্রতিক বেশ কিছু পরিস্থিতির কারণে আপাতত ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হল। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ভারতে উপলব্ধ হবে না। যথাযথ আইনি ও প্রক্রিয়াগত উপায় অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব ছবিটিকে আবার দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।'
জি ফাইভের বিবৃতিতে পালটা কী বললেন পরিচালক?
দর্শককে সান্ত্বনা দিয়ে লেখা, 'যাঁরা এই ছবিটি দেখার জন্য সাবস্ক্রাইব করেছেন, সমর্থন করেছেন এবং ভালোবেসেছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। জি ফাইভ সবসময় 'সতলুজ' এবং টিমের সৃজনশীল কাজের সঙ্গে রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, শক্তিশালী গল্প বলার ক্ষমতা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এবং দর্শকমনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।'
১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে হাজার হাজার অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহ দাহ করার ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। আট ও নয়ের দশকে পাঞ্জাবের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে ছবি তৈরিতেই শুরু হয় বিতর্ক।
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই পরিচালক হানি ত্রেহান নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জি ফাইভের বিবৃতিটি শেয়ার করে পাঞ্জাবিতে লিখেছেন, 'তেরা ভানা মিঠা লাগে', যার বাংলা তর্জমা করলে হয়, 'ঈশ্বরের ইচ্ছেকেই সানন্দে গ্রহণ করলাম।' 'ভানা' শব্দটি পাঞ্জাবিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা বা ভাগ্যকে বোঝায়। এই বার্তার সঙ্গে ছিল করজোড়ের ইমোজি।
যশবন্তের ভূমিকায় দিলজিৎ
অন্যদিকে, দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ নিজস্ব ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ছবিটি হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে যশবন্ত সিং খালরার নিখোঁজ হওয়া ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন পর্দার যশবন্ত। যাঁর জীবনী অবলম্বনেই ছবির গল্প বুনেছিলেন পরিচালক হানি ত্রেহান।
প্রসঙ্গত, 'সতলুজ'-এ দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ প্রয়াত যশবন্ত সিং খালরার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে হাজার হাজার অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহ দাহ করার ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। আট ও নয়ের দশকে পাঞ্জাবের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে ছবি তৈরিতেই শুরু হয় বিতর্ক।
