দিন কয়েক ধরেই কন্নড় ছবি 'কেডি: দ্য ডেভিল'-এর আইটেম গান নিয়ে তুমুল বিতর্ক। যে গানের দৃশ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির জেরে বিতর্কে জড়িয়েছেন নোরা ফতেহি। বুধবারই কন্নড় সিনেমার ওই ‘যৌন ইঙ্গিতমূলক’ আইটেম নম্বর নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল সংসদে। সেখানেই তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব চটুল গানটিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেন। আপত্তি উটেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফেও। এমনকী নোটিস পাঠিয়ে তলব করা হয়েছে মহিলা কমিশনের তরফেও। এবার আরও বিপাকে বলিউডের নোরা সুন্দরী! ফতোয়া জারি হল নোরা ফতেহির বিরুদ্ধে।
"কন্নড় সিনেমার ওই বিতর্কিত গানটিতে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশ্লীল বিষয়বস্তু রয়েছে। আর এই ধরনের বিষয়বস্তু প্রদর্শন বা প্রচার 'হারাম' এবং 'গুনাহ-এ-কবিরা' (গুরুতর অপরাধ)। তাই ধর্মীয় নীতি বিসর্জন দিয়ে এধরণের অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া আখেড়ে সমাজের জন্যই ক্ষতিকর।..."
এইমুহূর্তে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একনম্বর 'আইটেম গার্ল' নিঃসন্দেহে নোরা। 'মুন্নি' মালাইকা পরবর্তী অধ্যায়ে সিনেপর্দায় শরীরী হিল্লোলে দর্শকমনে প্রভাব ফেলতে প্রযোজক-পরিচালকদের একমাত্র ভরসা তিনিই। বিগবাজেট হোক কিংবা মাঝারি বাজেটের সিনেমা আইটেম নম্বর হিট করতে হলেই ডাক পড়ে তার। তবে এবার কন্নড় ছবি 'কেডি: দ্য ডেভিল'-এর 'সারকে চুনার তেরি সারকে' গানে পারফর্ম করে বেজায় বিতর্কে জড়িয়েছেন নায়িকা। যদিও নিন্দুকদের নিশানায় গানের লিরিক্স। তবে গানের দৃশ্যে নোরার অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং শরীরী ভাষা নিয়েও কম চর্চা হচ্ছে না! এমন আবহেই 'মুসলিম পার্সোনাল দরুল ইফতা'-এর প্রধান মুফতি মৌলানা ইব্রাহিম হুসেন নোরা ফতেহির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের ধর্মগুরু মৌলানা চৌধুরী ইব্রাহিম হোসেনের মন্তব্য, "কন্নড় সিনেমার ওই বিতর্কিত গানটিতে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশ্লীল বিষয়বস্তু রয়েছে। আর এই ধরনের বিষয়বস্তু প্রদর্শন বা প্রচার 'হারাম' এবং 'গুনাহ-এ-কবিরা' (গুরুতর অপরাধ)। তাই ধর্মীয় নীতি বিসর্জন দিয়ে এধরণের অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া আখেড়ে সমাজের জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে জনমানসে এর কুপ্রভাব পড়ে।"
'কেডি: দ্য ডেভিল'-এর আইটেম গানে নোরা ফতেহি। ছবি- সংগৃহীত
বিতর্কে পড়ে নোরা জানিয়েছিলেন, “আমি এই গানটির শুটিং করেছিলাম তিন বছর আগে কন্নড় নামক একটি ভাষায়। যে সিনেইন্ডাস্ট্রিকে মূলত ‘স্যান্ডালউড’ বলা হয়ে থাকে। আমি কন্নড় ভাষা জানি না। নাচের কোরিওগ্রাফের সময় আমাকে অনুবাদ করে যা শোনানো হয়েছিল, সেখানে গানের কথায় কোনও অশ্লীলতা ছিল না। ওঁরা যা বুঝিয়েছিলেন, আমি সেটাই অনুসরণ করেছিলাম মাত্র। তবে এটাও ঠিক যে, আমি যেহেতু কন্নড় ভাষা বুঝি না, তাই ওঁদের উপরই ভরসা রাখতে হয়েছিল আমাকে। কিন্তু গানটির হিন্দি সংস্করণে এমন সব লিরিকস বা কথা ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনুপযুক্ত। আর এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না। গানটি শোনার পর আমি পরিচালককেও জানিয়েছিলাম যে এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি এই প্রজেক্ট থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিলাম। আপনারাও দেখেছেন এই গানের কোনও প্রচার আমি করিনি। কারণ আমার ভাবমূর্তিতে এর প্রভাব পড়ছে।” নোরা এও জানান যে, প্রথমত সঞ্জয় দত্তের মতো তারকার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ এবং দ্বিতীয়ত বিগবাজেট সিনেমার আইটেম নম্বর বলেই তিনি এই গানে পারফর্ম করতে রাজি হয়েছিলেন। নায়িকার সংযোজন, “ভাগ্যিস বিতর্ক হয়েছে, তাই গানটি সরানো হল। নইলে আমি তো নেপোকিড নই বা আমার ক্ষমতার জোরও নেই। আমাদের মতামতও গুরুত্ব পায় না। তাই বিতর্কের জোরে গানটি নিষিদ্ধ হওয়ায় ভালোই হয়েছে একদিন থেকে।” তবে সাফাই গেয়েও রেহাই মিলল না অভিনেত্রীর!
নোরা-সঞ্জয়ের 'অশ্লীল' গানে ক্ষিপ্ত জাতীয় মহিলা কমিশন। ছবি- সংগৃহীত
আগামী ২৪শে মার্চ নোরা ফতেহি এবং সঞ্জয় দত্তকে তলব করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। দুই বলিউড তারকার সঙ্গে গীতিকার রাকিব আলম, প্রযোজক ভেঙ্কট কে নারায়ণ এবং পরিচালক কিরণ কুমারকেও তলব করা হয়েছে। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় কমিশনে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেককে। তবে তার অন্যথা হলে যে তারকাদের চরম পরিণতি ভুগতে হবে, সেবিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
