মঙ্গলবার আটলান্টায় মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে যা ঘটল সেটা কোনও ম্যাজিকের চেয়ে কম কিছু নয়। জীবনের কিছু মুহূর্ত রূপকথার মতো হয়। যেখানে হেরে যেতে যেতেও শেষমুহূর্তে জয়োচ্ছ্বাসের হাসি হাসা যায়। মঙ্গলবার রাতে যেন লিওনেল মেসির হাত ধরে সেই মহাকাব্যই লিখল আর্জেন্টিনা। চূড়ান্ত হতাশার মুহূর্তেও কীভাবে হাসিমুখে জয় ছিনিয়ে নেওয়া যায়, শেষ পনেরো মিনিটের ঝোড়ো পারফরম্যান্সে সেই ম্যাজিক দেখিয়ে দিল ফুটবল মহাতারকা। আর মেসির এহেন জয় মহাকাব্য থেকেই জীবনদর্শনের অমূল্য রসদ খুঁজে পেলেন অপরাজিতা আঢ্য।
"জীবনে যখনই সংকট আসে, আমি ভয় পাই। মনে হয় এবার বুঝি আর পারব না। বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে, ঈশ্বরকে ডাকি, কাঁদি। সেই মুহূর্তে সহজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, হাসতে তো আরও পারি না। কিন্তু লিওনেল মেসিকে যত দেখি, তত একটা জিনিস শিখি।..."
গোলের পর মেসি। ছবি: সোশাল মিডিয়া।
দিদিমার কথা মনে করিয়ে অভিনেত্রী বললেন, আমার দিদিমা একটা কথা বলতেন— 'গাইতে গাইতে যার গলায় সুর নেই, সেও একদিন একটু একটু গাইতে শিখে যায়।' আজ বুঝি, কথাটা শুধু গান নয়, জীবনেরও। আমি ফুটবলের মানুষ নই। অফসাইড, প্রেসিং, ফলস নাইন, উইং— এসব এখনও পুরো বুঝি না। কিন্তু খেলাটা দেখতে ভালোবাসি। আর দেখতে দেখতে, ভালোবাসতে ভালোবাসতেই, খেলার ভাষাটাও একটু একটু করে শিখে ফেলেছি। তাই আজকের আর্জেন্টিনা–ইজিপ্ট ম্যাচ শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ হয়ে রইল না, জীবনের একটা বড় শিক্ষা হয়ে গেল। কীরকম? অপরাজিতার কথায়, "জীবনে যখনই সংকট আসে, আমি ভয় পাই। মনে হয় এবার বুঝি আর পারব না। বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে, ঈশ্বরকে ডাকি, কাঁদি। সেই মুহূর্তে সহজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, হাসতে তো আরও পারি না। কিন্তু লিওনেল মেসিকে যত দেখি, তত একটা জিনিস শিখি। যখন আর্জেন্টিনা ২-০ পিছিয়ে, চারপাশের মানুষ প্রায় বিশ্বাস করেই ফেলেছে— এবার হয়তো বিশ্বকাপ শেষ, তখনও মেসির মুখে আতঙ্কের চিহ্ন ছিল না। ছিল এক শিশুর মতো শান্ত হাসি। সেই হাসিটা যেন বলছিল— 'শেষ বলে কিছু হয় না। শেষ মানেই, নতুন শুরুর অপেক্ষা।' আর তারপরই ঘটল সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষের কয়েক মিনিটে তিনটি গোল। যে ম্যাচ হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, সেটাই জয়ে বদলে গেল।" মেসির সেই অবিশ্বাস্য মননতত্ত্ব থেকে জীবনবোধের আরেক শিক্ষার কথাও ভাগ করে নিলেন অপরাজিতা আঢ্য।
"কখনও কখনও অন্যকে জায়গা করে দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় জয়। এই ম্যাচ আমাকে শিখিয়ে দিল— সংকটকে ভয় পেয়ে নয়, তাকে সাক্ষী রেখে বাঁচতে হয়। যে মানুষ ঝড়ের মাঝেও হাসতে পারে,..."
অপরাজিতা আঢ্য
মেসির 'টিম স্পিরিটে'র কথা আউড়ে অভিনেত্রী জানালেন, আমরা সবাই নিজের জায়গাটা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই। নিজের কমফোর্ট জোন ছাড়তে চাই না। কারণ সেখানে নিরাপত্তা আছে, আত্মবিশ্বাস আছে। কিন্তু বড় মানুষরা জানেন, কখন নিজের জায়গা একটু ছেড়ে দিতে হয়। কখন সতীর্থকে সামনে এনে তাকে বিশ্বাস করে তাকে উজ্জ্বল হওয়ার সুযোগ করে দিতে হয়। মহান নেতৃত্ব মানে সব আলো নিজের ওপর টেনে নেওয়া নয়। অনেক সময় অন্যের জন্য আলো জ্বালিয়ে দেওয়া। জীবনের খেলাতেও তাই। সব গোল নিজেকে করতে হবে না। সব কৃতিত্ব নিজের হতে হবে না। কখনও কখনও অন্যকে জায়গা করে দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় জয়। এই ম্যাচ আমাকে শিখিয়ে দিল— সংকটকে ভয় পেয়ে নয়, তাকে সাক্ষী রেখে বাঁচতে হয়। যে মানুষ ঝড়ের মাঝেও হাসতে পারে, ব্যর্থতার পরেও বিশ্বাস হারায় না, নিজের অহং সরিয়ে দলকে বড় করে দেখতে পারে—তার পাশে একসময় ভাগ্যও দাঁড়ায়, ঈশ্বরও দাঁড়ান। হয়তো সেই কারণেই বলা হয়— ঈশ্বর কোথাও দূরে নন। যে মানুষ নিজের ভয়কে জয় করে, অন্যকে জিততে শেখায়, অন্ধকারেও আশার আলো জ্বালিয়ে রাখে- ঈশ্বর তাঁর মধ্যেই প্রকাশ পান।" শেষপাতে অপরাজিতার সংযোজন, "আমি শুধু আর্জেন্টিনার জয় দেখিনি। আমি দেখেছি- হাসি দিয়ে ভয়কে হারানো যায়, বিশ্বাস দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলে জীবনও কখনও কখনও নিজের স্কোরলাইন বদলে দেয়।"
