বিচ্ছেদের সাত বছর পর দার্জিলিং-এর পাহাড়ি রাস্তায় মুখোমুখি প্রাক্তন প্রেমিকযুগল। অপ্রত্যাশিত এই সাক্ষাৎ যেন পাহাড়ি ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে হৃদয়জুড়ে বয়ে যাওয়া উষ্ণ স্রোত! মনের ভিতর জমে থাকা মান অভিমানের বরফ গলে সেদিন তাঁরা ফিরে গিয়েছিলেন জীবনের ফেলা আসা সুন্দর দিনগুলোতে। সেই সঙ্গে যেন পাহাড়ি ঠান্ডায় আরও একবার মনে মধ্যে জমাট বাঁধছিল বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণগুলো। পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বারবার ফিরে যাওয়া সেই প্রেমের দিনগুলোতে! পরস্পরকে না বলা অনুভূতি আকড়ে সেই মুহূর্ত যেন হয়ে উঠেছিল পুরনো প্রেমকে নতুন করে অনুভব করার এমন এক উদযাপন যাকে সময়ও মুছে ফেলতে পারেনি। ঠিক এভাবেই ভেঙে যাওয়া প্রেম ফিরে পেয়েছেন টলিপাড়ার দুই প্রাক্তন প্রেমিকযুগল। হৃদয়বিদারক এমনই এক অসমাপ্ত প্রেমকাহিনি যা সারাজীবন কাদের ছায়াসঙ্গী?
তাঁরা দুজনেই টলিপাড়ার অত্যন্ত পরিচিত মুখ। কিন্তু, মজার বিষয় পুরো ঘটনাই ঘটবে সিনেমার পর্দায়, বাস্তবে নয়। সৌজন্যে সুমন মৈত্র পরিচালিত আসন্ন বাংলা ছবি 'জারিয়া ২'। ২০২৫-এ মুক্তি পেয়েছিল সুমন মৈত্র পরিচালিত নিখাদ প্রেমের ছবি 'জারিয়া'। রাজেশ্বর ও অমৃতা চট্টোপাধ্যায়ের অন স্ক্রিন কেমেস্ট্রি দাগ কেটেছিল দর্শকের মন। বছর ঘুরতেই সিক্যুয়েল 'জারিয়া ২' নিয়ে হাজির পরিচালক। ছবি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন অনিমেষ গঙ্গোপাধ্যায়। দ্বিতীয়ভাগে গল্পে পরিবর্তনের সঙ্গে রদবদল ঘটেছে মুখ্য চরিত্রেও। রাজেশ্বরের বিপরীতে এবার দেখা যাবে 'গাঁটছড়া' খ্যাত শ্রীমা ভট্টাচার্যকে। প্রথমবার শ্রীমা-রাজেশ্বর জুটিকে পর্দায় দেখতে মুখিয়ে রয়েছে আপামর বাংলা ছবির দর্শক। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে সিনেমার শুটিং, তবে ছবি মুক্তির দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
ফিরে পাওয়া হারিয়ে যাওয়া প্রেম!
দার্জিলিঙ মানেই বাঙালির আবেগ। এমন দৃশ্যের শট দিতে গিয়ে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছিলেন শ্রীমা? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে বলেন, "দার্জিলিঙ মানেই নস্ট্যালজিয়া। আমাদের সিনেমার গল্পের সঙ্গে পরিবেশ মানুষকে আরও আবেগপ্রবণ তুলে করবে। অভিমানের মেঘ যখন বৃষ্টি হয়ে নেমে আসার মতো দৃশ্যে শট দিয়েছি তখনই তো বাঙালির আবেগে সুরসুরি দিয়েছে। এই চরিত্রটা আমার কাছে কুলফি আইসক্রিমের মতো। শ্রেয়সিনী চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে জেনেছি, এই চরিত্র আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ব্যক্তিগতজীবনের অনেক স্মৃতি মনের ভিতর ভিড় করে এসেছিল।"
পাহাড়ি ঠাণ্ডায় পুরনো প্রেমের উষ্ণ ছোঁয়া
আউটডোর শুটিংয়ে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন শ্রীমা বা তাঁর পরিবার? এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সংযোজন, "রাহুলদার ঘটনার পর অনেকবার এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। তবে আমার ইউনিট ভীষণ ভালো ছিল। প্রত্যেকের ভীষণ খেয়াল রেখেছিল। পাহাড়ি এলকায় শুটিং চলছিল বলে প্রতি মুহূর্তে সুবিধা অসুবিধাগুলো নিয়ে প্রত্যেকে খুবই সচেতন ছিলেন। আমি প্রাথমিকভাবে একটু নার্ভাস থাকলেও পরে বুজেছিলাম আমি নিরাপদ। মা চিন্তায় ছিলেন, তবে আমি বুঝিয়েছিলাম যে এখানে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।"
