সিনেদুনিয়ার সাত দশকের প্রথায় ছেদ! ফি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ব্যক্তিত্বরা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিতে এযাবৎকাল দিল্লিতে উড়ে যেতেন। তবে এই প্রথমবার অনুষ্ঠানের আসর রাজধানী থেকে গুজরাটে সরতেই সিনেজগতের একাংশ আপত্তি তোলে। এমন আবহেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হল, শুধু দিল্লি-গুজরাট নয়, এবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
কেন বদলে যাচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চ? মনে করা হচ্ছে 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি'র সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে মিশিয়ে দিতেই এই পরিকল্পনা। এর পরই অনুষ্ঠানের ভেন্যু বদলে সিনেজগতে ফিসফাস শুরু হয়। এমন আবহে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নতুন বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল...
সোমবারই জানা গিয়েছিল যে, চলতিবারে ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হবে গুজরাটের একতানগর থেকে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি' যেখানে রয়েছে, সেখানেই হবে অনুষ্ঠান। নিয়মানুযায়ী পুরস্কার বিতরণ করবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। জানা যাচ্ছে, তিনি একতানগরে যাবেন। এবং সেখান থেকেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। কিন্তু কেন বদলে যাচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চ? মনে করা হচ্ছে 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি'র সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে মিশিয়ে দিতেই এই পরিকল্পনা। এর পরই অনুষ্ঠানের ভেন্যু বদলে সিনেজগতে ফিসফাস শুরু হয়। এমন আবহে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নতুন বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল যে, এবার থেকে ফি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত হবে সংশ্লিষ্ট পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অতঃপর বিগত ৭২ বছরের প্রথায় যে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্র, তা বলাই বাহুল্য।
৭১তম জাতীয় পুরস্কার বিরতণী অনুষ্ঠানে শাহরুখ-রানি, বিক্রান্ত
৭২ বছরের প্রথা বদল। অর্থাৎ গত কয়েক দশকের দিল্লিকেন্দ্রিক ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এবার দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাবে এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র সম্মাননা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আর শুধু রাজধানী দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হবে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এবার থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানকে রাজধানীর গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। সারা ভারতের চলচ্চিত্র জগতের প্রতিভাদের নিয়ে এবছর একতা নগরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল মন্ত্র হবে- 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর ভাবনা।" এতদিন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হয়ে এসেছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতেন। তবে এবার ৭২ বছরের প্রথা বদল। অর্থাৎ গত কয়েক দশকের দিল্লিকেন্দ্রিক ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এবার দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাবে এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র সম্মাননা।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হয়। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান। অন্যদিকে ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য এই সম্মানে ভূষিত হন মাম্মুট্টি। সেরা হিন্দি ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘শ্রীকান্ত’। বিনোদনমূলক সেরা সেরা ফিচার ফিল্ম ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, সেরা ফিচার ফিল্ম ‘আর্টিকল ৩৭০’। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জয়রাজের নেতৃত্বে এগারো সদস্যের জুরি বোর্ড এ বছরের বিজয়ীদের নির্বাচন করেছে। ওইদিন মোট ৪৩টি জাতীয় পুরস্কার ঘোষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’ এবং ‘লাপাতা লেডিস’-এর পাশাপাশি ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’, ‘স্ত্রী ২’, ‘হনুমান’, ‘মাঞ্জুম্মেল বয়েজ’ এবং ‘প্রেমালু’র মতো ব্লকবাস্টার ছবিগুলি। সৌরভ পালোধী পরিচালিত ‘অঙ্ক কী কঠিন’ ছবি থেকে সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার পাচ্ছে ঋদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, তপোময় দেব ও গীতশ্রী চক্রবর্তী। সেরা সিনেমার সম্মান পেয়েছে অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ‘চালচ্চিত্র এখন’। জাতীয় মঞ্চে বাংলার জয়জয়কার, তা কথা বলাই বাহুল্য।
