দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো। গত কয়েক বছর ধরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই শব্দটা। পুজো শুরুর আগেই টিকিট কেটে দুর্গাদর্শনের ব্যবস্থা। মূলত ভিনরাজ্য ও বিদেশি দর্শনার্থীরা যাতে ভিড় এড়িয়ে পুজো শিল্পের সাক্ষী হতে পারেন, সে জন্যই এই বন্দোবস্ত করা হত। তবে দর্শক টানতে এর সঙ্গে ইউনেস্কোর নাম জুড়তেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। জল গড়ায় একেবারে আদালত পর্যন্ত। ফলে এবারের পুজোর প্রাক্কালে স্বাভাবিকভাবেই জোরালো হয়েছে একটা প্রশ্ন। পালাবদলের বঙ্গেও কি প্রিভিউ শো হবে? সর্বজনীন পুজো দেখতে হবে গাঁটের কড়ি খরচ করে?
মাস আর্ট নামের সংস্থাটি বিগত কয়েক বছরে প্রিভিউ শো করে শহরের নামী-দামি পুজোর সঙ্গে পরিচিতি ঘটিয়েছে দেশি-বিদেশি দর্শকের। নিজেদের এই উদ্যোগের সঙ্গে ইউনেস্কোর নাম জুড়ে দেওয়ায় তা ভিনদেশের শিল্প ও উৎসবপ্রেমীদের কাছে হয়ে উঠেছিল আরও বেশি আকর্ষণীয়। এমনকী পিতৃপক্ষেও মণ্ডপ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এই আয়োজনের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও সম্পর্ক নেই। যা নিয়ে মামলাও হয়। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেবীপক্ষের আগে পুজোর উদ্বোধনের প্রশ্নই উঠছে না। যা হবে, মহালয়ার পর। ফলে প্রিভিউ শো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পুজোর ৪০দিন আগে নতুন করে সে পথে হাঁটার পরিকল্পনা নেই বলেই শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ পুজো এবার আক্ষরিক অর্থেই সর্বজনীন। টিকিট কেটে মা দুর্গার দর্শন করতে হবে না।
ফাইল ছবি।
বলে রাখা ভালো, শুধু মাস আর্টই নয়, আর্টলেন নামেরও অন্য একটি প্রি-এক্সিবিট শোয়ের আয়োজন হয়েছে কলকাতার দুর্গাপুজোয়। সেই সঙ্গে গতবার শিল্পী সুশান্ত পাল যে তিনটি পুজোর সৃজনের দায়িত্বে ছিলেন, সেই ক্লাবগুলিও টিকিটের বিনিময়ে প্রিভিউ শো আয়োজন করেছিল। কিন্তু সোমবার মিলন মেলায় পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণায় প্রিভিউ শো না হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। কারণ বিরোধী দল থাকাকালীন এই প্রিভিউ শো নিয়ে বিরোধিতাও করেছিল বিজেপি। কেন বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব টিকিট কেটে দেখতে হবে, সে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এবার আবার মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে মেগা শো। হবে চোখধাঁধানো ড্রোন শো। উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এহেন অভূতপূর্ব আয়োজনের মাঝে প্রিভিউ শো নিয়ে মানুষের কতখানি আগ্রহ থাকবে, সেটাও ভাবার বিষয়।
এখনও পর্যন্ত যা খবর, হাজারো জটিলতার মাঝে মাস আর্ট প্রিভিউ শোয়ের কথা ভাবছে না। এখনও তারা কোনও পুজোর সঙ্গে এনিয়ে আলোচনাতেও বসেনি। আর্টলেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদেরও কোনও মণ্ডপের তালিকা তৈরি হয়নি বলেই খবর। সুশান্ত পাল এবার টালা প্রত্যয়, বালিগঞ্জ কালচারাল, সন্তোষপুর এভিনিউ সাউথ এবং চোরবাগানের মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে। সেসব ক্লাবের তরফেও এখনও প্রিভিউ শো করার কোনও খবর নেই। পুজোর ৪০দিন আগে নতুন করে সে পথে হাঁটার পরিকল্পনা নেই বলেই শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ পুজো এবার আক্ষরিক অর্থেই সর্বজনীন। টিকিট কেটে মা দুর্গার দর্শন করতে হবে না।
