বিশ বাঁও জলে 'কেরালা স্টোরি ২' ছবির মুক্তি। টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই 'কেরালা স্টোরি ২' ঘিরে তীব্র বিতর্কের শুরু হয়েছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছিল এই ছবি মুক্তির দিন। এবার 'কেরালা স্টোরি ২' মুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করল কেরল হাইকোর্ট।
বিশেষ করে ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত এই ছবি নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। এমন এক বিষয় কীভাবে তুলে ধরা সম্ভন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এমন বিষয় পর্দায় দেখানোর ছাড়পত্র কীভাবে পেল এই ছবি সেই নয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে পুরো ছবিটি দেখার কথা জানিয়েছিলেন বিচারপতি বেচু কুরিয়াস টমাস। কিন্তু মুক্তির আগে এই ছবির বিশেষ প্রদর্শনী করতে একেবারেই নারাজ ছিলেন ছবির নির্মাতারা। শুধু তাই নয়, বিচারপতি যে বিষয় তুলে ধরেন তা হল, কেরালার মানুষ সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকেন। কিন্তু ছবিতে যা দেখানো হচ্ছে তা যে ভুল এমনটাই নয়, একইসঙ্গে উসকানিমূলক। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। এই বিষয় সেনসর বোর্ডের দেখা উচিত। বলে রাখা ভালো, এই মুহূর্তে এই ছবির মুক্তি আদালতের হাতে। তাই বিচারাধীন অবস্থায় ছবিটিকে কোনওভাবেই মুক্তি দেওয়া যাবে না।
একাধিক ভয়ার্ত নারীর মুখের আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের এক ভয়ঙ্কর কাহিনি। তাঁরা কেউ সুরেখা নাইয়ার, নেহা সন্ত। নেপথ্য কণ্ঠে উল্লেখ, “আমাদের মেয়েরা প্রেমে পড়ে না, ফাঁদে পড়ে। এবার থেকে আর সহ্য করবে না তারা। ঘুরে দাঁড়াবে।”
ঠিক কী রয়েছে ‘কেরালা স্টোরি ২’-এর ঝলকে, যার জন্যে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখাল এই সিনেমা? একাধিক ভয়ার্ত নারীর মুখের আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের এক ভয়ঙ্কর কাহিনি। তাঁরা কেউ সুরেখা নাইয়ার, নেহা সন্ত। নেপথ্য কণ্ঠে উল্লেখ, “আমাদের মেয়েরা প্রেমে পড়ে না, ফাঁদে পড়ে। এবার থেকে আর সহ্য করবে না তারা। ঘুরে দাঁড়াবে।” সেই মেয়েগুলির কেউ চেয়েছিল আইএএস অফিসার হতে তো কেউ চেয়েছিল নামী নৃত্যশিল্পী হয়ে সমাজে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে। কেউ আবার বলছেন, হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়েছিলেন শুধু ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সুখে ঘরকন্না করবেন বলে। কিন্তু সেই সুখ আসলে ফানুস! তাদের সিংহভাগই বলপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের শিকার। এমনকী টিজারেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এ দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর সেই সূত্রেই ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের মতোই সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের অভিযোগ উঠেছে।
