ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে 'ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড'-এর হাত ধরে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ শ্যামৌপ্তি মুদলির। কেরিয়ারের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের নেপথ্যে অবশ্যই উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থা। অভিনয় কেরিয়ারের প্রথম বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছে ২৯ মে, শুক্রবার। তারকাখচিত সন্ধ্যায় মনের মানুষ রণজয় বিষ্ণুর হাত ধরে প্রিমিয়ারে হাজির হন শ্যামৌপ্তি। নাচে-গানে জমজমাট 'ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড'-এর প্রিমিয়ার। স্ত্রীর প্রথম ছবি দেখে মুগ্ধ অভিনেতা। কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই শ্যামৌপ্তির অভিনয়ের নিরপেক্ষ মতামত দিয়েছেন। নিজেকে একজন সাধারণ দর্শকের আসনে বসিয়ে শ্যামৌপ্তির অভিনয়ের বিশ্লেষক রণজয় বিষ্ণু বলেন, "ধরে নিন ওঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই, আমি অডিয়েন্স হিসাবে বলছি ও এই ছবিতে দারুণ কাজ করেছে।"
তিনি শুধু শ্যামৌপ্তির গুনগ্রাহীই নন, তাঁর কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন অভিনেতা। আর সেটাই হওয়া উচিত বলে মনে করেন রণজয় জায়া শ্যামৌপ্তি। প্রথম সিনেমায় স্বামীর মুখে এহেন প্রশংসা শুনে আপ্লুত অভিনেত্রী। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে শ্যামৌপ্তি বলেন, "আমি সবসময় চাই আমার কাজের যথার্থ বিচার হোক। কেউ যেন মন রক্ষার্থে প্রশংসা না করে। রণজয় আমার কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক। ভালোকে ভালো আর খারাপকে খারাপ বলে। ওঁর সিনেমাটা ভালো না লাগলে আমাকে সেটাই বলত। আর এই নিরপেক্ষ বিশ্লেষণটাই আমার কেরিয়ারের উন্নতিতে সাহায্য করবে।"
সিনেমায় হাতেখড়ি, প্রথম ছবিই দর্শকমহলে প্রশংসিত। সেই সঙ্গে রণজয় নিজে বলেছেন দারুণ অভিনয়। স্ত্রীর এই সাফল্য উদযাপনে বিশেষ কোনও উপহার? এই মর্মে শ্যামৌপ্তির সংযোজন, "আমার কাছে উপহার মানে শুধু কোনও জিনিস নয়। জিনিস তো যে কোনও সময় যে কাউকে দেওয়া যায়। ওটা ভীষণ ম্যাটেরিয়ালিস্টিক। আমার কাছে প্রকৃত উদযাপন বা ভালোবাসার উপহার বলতে সেই মানুষটার সঙ্গ।যে আমাকে সঠিক পথে চালনা করবে। আমাকে বুঝবে, আমার ভালো-খারাপ যে কোনও সময়ে পাশে থাকবে। আমার ছবি রণজয়ের ভালো লেগেছে, মন খুলে প্রশংসা করেছে এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার।"
প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী তথা স্ত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির প্রথম ছবি মুক্তির দিন রণজয় সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, 'দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হল। বহুবছরের অপেক্ষা, দীর্ঘ অনুশীলন এবং সারল্যের চাবি দিয়ে অবশেষে আজ আমাদের অভিনেতাদের সবথেকে বড় প্রাপ্তি যাঁরা সেই দর্শকের সামনে আসতে চলেছে ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড। এই পথ চলায় ধাক্কা খাওয়া তারপর কারও সাহায্য ছাড়া বারবার উঠে দাঁড়ানোর সেই সকল লড়াইয়ের প্রথম দরজা খুলতে চলেছে। আমি এবং তোর সমস্ত গুনগ্রাহীরা আজকের দিনটার জন্য বহু মাস ধরে অপেক্ষা করে আছি। আমি অনেক আগে তোকে বলেছিলাম আমার মনে হয় তুই আমার স্বপ্নটা সত্যি করছিস। দূর থেকে দাঁড়িয়ে সেটা প্রত্যক্ষ করার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ইন্ডাস্ট্রি আরও একটা নতুন প্রতিভার খোঁজ পেল।'
