হাতে হাত রেখে কথা দিয়েও 'চিরদিনই' একসঙ্গে পথ চলা হল না 'কৃষ্ণ-পল্লবী'র। পয়লা সিনেমার সেটে প্রেম থেকে সাতপাক ঘোরা, সংসার পাতা, মা-বাবা হওয়া, সম্পর্কে চিড় ধরার পর আবারও সহজ সমীকরণে একে-অপরের হাত ধরা, এই দীর্ঘসময়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রেমআখ্য়ান, মান-অভিমানের সাক্ষী থেকেছে স্টুডিওপাড়া। তবে অদৃষ্টের হিসেব কে-ই বা জানত! হয়তো তাঁদের পথচলা এটুকুই ছিল। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) প্রয়াণের পর পরিবারের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। সোমবার কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে স্বামীর অস্থি হাতে বেরনোর সময়ে অভিনেত্রী যেন রণক্লান্ত এক যোদ্ধা। চোখেমুখে একরাশ জমা কান্না। তবে এই কঠিন সময়েও প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে নেটভুবনের কিছু নীতিপুলিশদের ট্রোল-মিমের বন্দুকবাজি বন্ধ হয়নি! এমতাবস্থায় অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ালেন জয়া আহসান (Jaya Ahsan)।
"'ঝরা পালক'- এর সময় প্রথম এবং শেষ কাজ করা একসঙ্গে। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন অরুণোদয়। চেহারায় হয়তো মিল নেই, তবু যখন তাঁর সঙ্গে অভিনয় করলাম, মনে হল জীবনানন্দের কবিতার এক নির্বিঘ্ন স্রোত তাঁর অন্তরে প্রবাহিত। সেই পরিচয় থেকেই শিল্পী হিসেবে তার গভীরতা আমায় মুগ্ধ করেছে। অভিনয়ে, কথায়, আদর্শে এবং লেখনীতে যে অরুণোদয় নির্মেদ, মায়াময়, স্পষ্ট এবং চিরন্তন।"
রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ও সহজ একফ্রেমে। ছবি- ফেসবুক
রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী। অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণের যন্ত্রণা ঘিরে ধরেছে জয়াকেও। অভিনেত্রী এইমুহূর্তে বাংলাদেশে রয়েছেন। সেখান থেকেই হাপুঁস নয়নে রাহুলের সঙ্গে কাজের স্মৃতিতে ডুব দিলেন জয়া আহসান। সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় পরিচালিত 'ঝরা পালক' সিনেমায় রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী। সেটাই রাহুলের সঙ্গে তাঁর প্রথম এবং শেষ কাজ। অভিনেতার প্রয়াণে নস্ট্যালজিয়ার সরণি বেয়ে সেসব স্মৃতিই উজাড় করে দিলেন জয়া আহসান। অভিনেত্রীর মন্তব্য, 'রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এক অপরিসীম মগ্ন মানুষ, চিরনিদ্রায় এক অনন্য শিল্প। এ যেন ভাবতেই পারা যায় না। তার সঙ্গে আলাপ অনেক আগেই। 'ঝরা পালক'- এর সময় প্রথম এবং শেষ কাজ করা একসঙ্গে। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন অরুণোদয়। চেহারায় হয়তো মিল নেই, তবু যখন তাঁর সঙ্গে অভিনয় করলাম, মনে হল জীবনানন্দের কবিতার এক নির্বিঘ্ন স্রোত তাঁর অন্তরে প্রবাহিত। সেই পরিচয় থেকেই শিল্পী হিসেবে তার গভীরতা আমায় মুগ্ধ করেছে। অভিনয়ে, কথায়, আদর্শে এবং লেখনীতে যে অরুণোদয় নির্মেদ, মায়াময়, স্পষ্ট এবং চিরন্তন। সেই অরুণোদয়কে মনে করে যেতে চাই প্রতি মুহূর্ত।'
এই বিধ্বস্ত সময়ে প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে জয়া আহসানের বার্তা, "'প্রিয়াঙ্কা, তুমি লড়াইয়ের সমনাম। আজকের এই ঝড়-ঝাপটার দিনে সামলে থেকো। আগলে রেখো সহজকে।" ২০১২ সালে সহজের জন্ম। স্বামী রাহুলের সঙ্গে মান-অভিমান হলেও সন্তানকে বরাবর আগলে রেখেছেন প্রিয়াঙ্কা। দীর্ঘদিন সিঙ্গল মাদার হিসেবেই সহজকে বড় করেছেন। রাহুলও কিন্তু বরাবর স্ত্রীকে সেই কৃতীত্ব দিয়েছেন। বিচ্ছেদ মামলা তুলে ছেলের জন্যেই আবার একছাদের তলায় ফিরেছিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি। কিন্তু নিয়তির ফেরে সেই জুটিতেই ভাঙন। এই কঠিন সময়ে প্রিয়াঙ্কাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে সেই 'লড়াই'য়ের কথাই হয়তো মনে করিয়ে দিলেন জয়া আহসান।
