তেইশ সালে মুক্তি পেয়েছিল সুদীপ্ত সেন পরিচালিত বহু বিতর্কিত ছবি 'দ্য কেরালা স্টোরি'। তিন বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে 'দ্য কেরাল স্টোরি ২'। দ্বিতীয় ভাগ মুক্তিতেও প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়েছিল। চার মাস পর ফের ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ১৮ জুন বৃহস্পতিবার কেরালা হাই কোর্ট আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহকে। একটি স্বতঃস্পূর্ত জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে সেন্সরের ছাড়পত্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছবি থেকে 'কেরালা' শব্দটি অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিচারপতি পি. ভি. কুনহিকৃষ্ণন এই মামলার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ইতিমধ্যেই ছবিটি দর্শক দেখে ফেলেছেন। এতদিন পর এই মামলা আদৌ যুক্তসঙ্গত? তবে আবেদনকারীর আইনজীবী চেলসন চেম্বারাথি এর বিরোধিতা করেছেন। এই মর্মে কী যুক্তি খাঁড়া করেছেন? ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তির কারণে এই মামলা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন চেলসন চেম্বারাথি। অন্যদিকে, সেন্সর বোর্ড তথা সিবিএফসি মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করার দাবি জানালেও আদালত এবিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে।
নতুন জটিলতার কেরালা স্টোরি ২
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে ছবির বিষয়বস্তু কেরলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। আবেদনকারী প্রযোজকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় যেমন ১৯৬, ১৯৭ এবং ২৯৯- ধারায় মামলা দায়ের করার দাবি তুলেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া, জাতীয় সংহতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত কাজকর্ম।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, পয়লা মে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ায় জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডকেও এই মামলার নথিভুক্ত করা হোক। আবেদনকারী অতিরিক্ত প্রমাণ হিসেবে জি এন্টারটেইনমেন্টের কনটেন্ট গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল অফিসারের কাছে পাঠানো একটি অভিযোগপত্র এবং একাধিক সামাজিক মাধ্যমের স্ক্রিনশট জমা দিয়েছেন।
কেরালা স্টোরি ২
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অনলাইনে প্রচারিত কিছু ক্লিপ কেরালাবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়ানোর উসকানি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, উচ্চতর আদালতের হস্তক্ষেপে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল 'দ্য কেরাল স্টোরি ২'। প্রাথমিক আইনি জটিলতাগুলিও পরে খারিজ হয়ে যায়।
