পঁচিশ সালের জুলাই মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। এবার রাজ্যসভায় প্রথমবারের ভাষণে ফিল্মি সংলাপ আউড়ে রাজনৈতিক দুনিয়ার লাইমলাইট কাড়লেন কমল হাসান। যে ভিডিও বর্তমানে দাবানল গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নেটভুবনে। তবে রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে 'কল্কি ২৮৯৮ এডি'র মারকাটারি সংলাপ বলে মাক্কাল নিধি মাইয়াম সুপ্রিমো যেমন প্রশংসা কুড়োচ্ছেন, তেমনই সমালোচনাও ধেয়ে এসেছে।
২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'কল্কি' সিনেমায় মাত্র কয়েক মিনিটের দৃশ্যে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন কমল হাসান। নাগ অশ্বীন পরিচালিত যে ছবিতে দক্ষিণী মেগাস্টারকে ভিলেন সুপ্রিম ইয়াসকিনের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। স্বল্প দৈর্ঘ্যের উপস্থিতিতেই তেলুগু কবি শ্রী শ্রীর লেখা পংক্তি এক সংলাপ আউড়ে সেযাত্রায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কমলকে। এক দৃশ্যে দাক্ষিণাত্যভূমের মেগাস্টারকে স্বভাষায় বলতে শোনা যায়, "জগন্নাথ রথচক্রালু বস্তুন্নাই বস্তুন্নাই...।" অর্থাৎ 'ভগবান জগন্নাথের রথের চাকা আসছে, আসছে...।' আর 'কল্কি ২৮৯৮ এডি'র ভিলেনের মুখে ঈশ্বরের এহেন নামজপ নিয়ে তুমুল কাটাছেঁড়া হয়েছিল চব্বিশ সালের জুলাই মাসে। এবার বছর দুয়েক বাদে রাজ্যসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে সেই সংলাপকে হাতিয়ার করেই গণতন্ত্রের কথা বললেন কমল হাসান। যে ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নেটভুবনে।
রাজ্যসভায় ঠিক কী বলেন কমল হাসান? ফিল্মি সংলাপের আধারে দক্ষিণী মেগাস্টারকে বলতে শোনা যায়, "জগন্নাথ রথচক্রালু বস্তুন্নাই বস্তুন্নাই। নেনু এম চেপ্তুন্নানো, তেলুগু ভালাকি অর্ধম অবতুন্দি।" অর্থাৎ ভগবান জগন্নাথের রথের চাকা আসছে এবং তেলুগুভাষীরা আমার কথার মানে বুঝবেন। এরপরই মাক্কাল নিধি মাইয়াম নেতার সংযোজন, "আসুন, এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের গণতান্ত্রিক শক্তি দিন। জগন্নাথের রথের চাকার মতোই এই গণতান্ত্রিক জয়রথ সমস্ত মতপার্থক্যকে পিষে ফেলবে, তবে সাধারণ মানুষ এতে কখনোই ভুক্তভোগী হবেন না। আমরা তা হতে দেব না। অমর কেউ নয়। কোনও সরকারই স্থায়ী নয় এবং স্থায়ীত্বের লক্ষ্য থাকাও উচিত নয়। বিশ্বের ইতিহাসে কোনও সরকার এখনও তা অর্জন করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। এই সরকারও সর্বজনীন রাজনৈতিক অলিখিত আইনের অধীনে পড়ে।" বলা হয়, তেলুগু কবি শ্রী শ্রীর লেখা এই পংক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় এবং সামাজিক বৈষম্যের অনিবার্য পতনের প্রতীক। মোদি সরকারকে বিঁধতে গিয়ে এবার রাজ্যসভায় সেই সংলাপকেই হাতিয়ার করলেন কমল হাসান। যা কিনা সিনেমায় সমালোচিত হলেও বাস্তবে বহুল প্রশংসিত হচ্ছে। যদিও গেরুয়া শিবির সমর্থকরা পালটা ঈশ্বরের অপমান বলে সুর চড়িয়েছেন।
