shono
Advertisement

Breaking News

Celeb on Subhendu Adhikari

শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতি থেকে ভয়মুক্ত টলিউড, বিজেপি সরকারের কাছে আর কী আশা কৌশিক-মানসীদের?

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা নাকি শুধুই শঙ্কা বামমনস্ক টলিউড সেলেবদের মনে? ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র স্টার কৌশিক সেন থেকে মানসী সিনহা, চন্দন সেন, অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়রা কী বলছেন?
Published By: Kasturi KunduPosted: 04:26 PM May 10, 2026Updated: 05:57 PM May 10, 2026

৯ মে ব্রিগেডে ঐতিহাসিক মুহূর্তের 'সৃষ্টিকর্তা' প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হুডখোলা গাড়িতে হাত নেড়ে মূল মঞ্চে প্রবেশ থেকে নতজানু হয়ে প্রণাম, মোদিতে মুগ্ধ বঙ্গবাসী। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নবম তথা বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা নাকি শুধুই শঙ্কা বামমনস্ক টলিউড সেলেবদের মনে? ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র স্টার কৌশিক সেন থেকে মানসী সিনহা, চন্দন সেন, অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়রা কী বলছেন?

Advertisement

শিল্পী সত্ত্বা বাদ দিয়ে নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য কৌশিক সেন। নতুন সরকার প্রসঙ্গে কৌশিক সেনের বক্তব্য, "বিপুল সংখ্যক ভোটে জিতে এই সরকার গঠিত হয়েছে। আশা করব পুরনো সরকারের সকল সমস্যা, দুর্নীতি মুছে একটা মুক্ত রাজ্য গঠন করবে। যেখানে প্রত্যেকটা মানুষ ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ কিন্তু গ্রামে থাকে। সরকারি সুবিধাগুলো কিন্তু শহুরে মানুষদের থেকে তাঁদের অনেক বেশি প্রয়োজন। যাঁরা নিম্নবিত্ত, অসহায় তাঁদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হোক। সর্বক্ষেত্রে শিক্ষার বিকাশ ঘটুক। একজন নাগরিক হিসেবে এটুকুই আমার আশা।"

কৌশিকের কথা

অভিনেত্রী মানসী সিনহার গলাতেও সেই একই সুর। তাঁর মতে, "পনেরো বছরে গোটা রাজ্যের শিরদাঁড়া ভেঙে গিয়েছে। দিকে দিকে সিন্ডিকেট রাজ চলেছে। নতুন সরকারের থেকে আশা করব, একটা সুন্দর বসবাসযোগ্য রাজ্য গড়ে তুলবে। সরকারি স্কুলগুলো তাদের হারানো ঐতিহ্য, মর্যাদা ফিরে পাবে। তবে একটা বিষয় অবশ্যই যেন মাথায় রাখে, জনতা যেন সন্তুষ্ট হয়। একবার যখন জনগণ উত্তর দিয়েছে তখন বারবার দেবে সেই বিষয়ে কিন্তু, আর কোনও সন্দেহ রইল না। মমতা-অভিষেক জুটির শাসানির উত্তর জনতা জনার্দন দিয়েছে। রাজ্যের উন্নতিই কাম্য়।"

বিপুল ভোটে জয়ী নতুন সরকারকে নিয়ে আশাবাদী ঊষসী। তাঁর মতে, 'নতুন সরকার এসেছে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। এ রাজ্যের অসংখ্য মানুষ ভোট দিয়ে তাঁদের জিতিয়েছেন, আশা করি নতুন সরকার তাঁদের ভরসার দাম দেবেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এ রাজ্যের মাটির মতোই বৈচিত্রে ভরা। নানা ধর্ম, নানা সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে পাশাপাশি থেকে এসেছেন! রবীন্দ্রজয়ন্তীকে শপথগ্রহণের দিন হিসেবে নির্বাচন করেছে যে সরকার, আশা করব বাংলার আত্মার মর্মের এই ধ্বনি তাঁদের হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আপাতত শান্তি চাই, আইনের শাসন চাই। রাজনীতির নাম করে যে হানাহানি চলছে, নতুন সরকার তা বন্ধ করার জন্য সক্রিয় হোন আপাতত এইটুকুই চাই।'

পাশাপাশি টলিউডের সুস্থ পরিবেশ প্রত্যাশী ঊষসীর সংযোজন, 'শিল্পী হিসেবে টলিউডে সুস্থ পরিবেশ চাই। কোনও বিশেষ দলের তাঁবেদারি না করে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের পরিবেশ ফেরানো হোক, ভয়ের পরিবেশ কাটুক। শিল্পী আর কলাকুশলীদের সুরক্ষার জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে ফলপ্রসু হোক।' নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই 'ডিগবাজি' খেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই। তাঁদের উদ্দেশে ঊষসীর খোঁচা, 'শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীরা দলে দলে পাল্টি খাচ্ছেন। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত পুরোদমে যাঁরা আগের সরকারের প্রচার করেছেন তাঁরাই এখন মিন মিন করে পাল্টির গান গাইছেন। কেউ বলছে নতুন শাসক দলের পার্টির ওমুক দাদার গালের না কমানো দাড়ি কী ভালো। অন্যজন বলছেন আমার শরীরটুকুই শুধু ওঁদের সঙ্গে ছিল মন আপনাদের বরাবরই। কেউ আবার সবুজ পাঞ্জাবিগুলো ঘরের ন্যাতা করে গেরুয়া বসন কিনতে বেরিয়ে পড়েছেন। এই সব দেখে নতুন সরকার শিক্ষা নিক! সিংহভাগ শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবীদের গদগদভাব নেহাতই পদ্মপাতার জল, আশা করি তাঁরা তা বুঝতে পারবেন। বছরের পর বছর জামার রং না পালটেও যাঁরা বেঁচে থাকতে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য টলিউডে টিকে থাকা সহজ হোক সেটাই কাম্য।'

ধীরে চলো নীতি বর্ষীয়ান অভিনেতা চন্দন সেনের গলায়। বলছেন, "এই মুহূর্তে মোদি সরকারের অন্যান্য রাজ্যের ট্র্যাক রেকর্ড দেখলে আশা করার প্রশ্নই জাগে না। আসল চেহারাটা তো বোঝা যাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর। দিল্লি থেকেই সবটা নিয়ন্ত্রিত হবে নাকি অন্য কোনও পথ অবলম্বন করবে, সেগুলো বুঝতে মোটামুটি ছ'মাস সময় লাগবে।"

চন্দন সেনের বক্তব্য

পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সমাজমাধ্যমের পোস্টে একটা বিষয় কিন্তু একদম স্পষ্ট যে প্রতিশ্রুতির উপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাই নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী যেন সেই প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে সক্ষম হন। নিজের কোনও প্রত্যাশার কথা সরাসরি বলেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সরকারকে বার্তা, 'শপথগ্রহণের সময়, একটা কথা মনে রাখবেন, বাংলা রেনেসাঁ পরবর্তীকালে বঙ্গভঙ্গের সময় ধর্মান্ধতা ও ভেদাভেদের মানসিকতার তীব্র বিরোধিতা করে হিন্দু–মুসলমান ঐক্যকে বাংলার আত্মার শক্তি বলে মনে করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ব্রিটিশদের 'ভাগ করে শাসন' করার নীতির বিরুদ্ধে তিনি রাখিবন্ধন উৎসবের আহ্বান জানিয়েছিলেন। যেখানে হিন্দু ও মুসলমান একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে ভ্রাতৃত্বের শপথ নিয়েছিলেন। স্বদেশ, বঙ্গভঙ্গ ও জাতীয়তাবাদ' প্রসঙ্গে রচিত প্রবন্ধসমূহে আমাদের প্রাণের রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন হিন্দু-মুসলমানকে পরস্পরের বিরোধী করিয়া রাখিয়া ভারতবর্ষের কোনও মঙ্গল হইতে পারে না। এরপরও যদি ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় মেরুকরণকে রাজনীতির পুঁজি করে দেশে ও রাজ্যে শাসন চালিয়ে যেতে চান, তাহলে তা শুধু রবীন্দ্রনাথের অবমাননা হবে না, বঙ্গসংস্কৃতির অবমাননা হবে।'

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement