নয়ের দশকের একজন সফল তারকা গোবিন্দা (Govinda)। আজও তাঁর অভিনয় গুণে মুগ্ধ তাঁর দর্শককুল। তবে সফল অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি গোবিন্দার নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক অপবাদ। আর তা হল দেরিতে শুটিং করতে আসার মতো অভিযোগ। গোবিন্দার সম্পর্কে প্রচলিত ছিল যে তিনি নাকি সর্বদাই সেটে দেরি করে আসতেন। অপেশাদারের তকমা এঁটে দেওয়া হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। সময়ের কোনও জ্ঞান ছিল না নাকি গোবিন্দার। যা বোধহয় এখনও পিছু ছাড়েনি বলিউডের 'হিরো নম্বর ওয়ান'র। অভিনেতার এই অভ্যাসের জন্য একবার তাঁকে রীতিমতো ধমকেছিলেন পরিচালক প্রিয়দর্শন। বলেছিলেন, 'সময়মতো শুটিংফ্লোরে আসো নাহলে অভিনয় ছেড়ে দাও'। ঠিক কী ঘটেছিল? এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক প্রিয়দর্শন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে প্রিয়দর্শন বলেন, "ভাগম ভাগ ছবির শুটিং করার সময় গোবিন্দাকে এই ছবিতে নেওয়ার আগে সত্যিই ভীষণ ভীত ছিলাম। তার এক এবং একমাত্র কারণ শুটিংফ্লোরে গোবিন্দার দেরি করে আসার রেকর্ড। যা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। এই নিয়ে আমি প্রথমেই তাই সাফ জানাই গোবিন্দাকে। বলি, "তোমার এই দেরি করে আসার বিষয় সম্পর্কে আমি ভালোভাবে জানি। সুতরাং তুমি যদি সঠিক সময়ে ফ্লোরে না আসতে পারো আমরা ছবির শুটিং শেষ করতে পারব না। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি এই ছবিটা নিও না। কিন্তু যেটা না বললেই নয়, তা হল অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিদিন শুটিংয়ে গোবিন্দা সময়ে আসতেন। সত্যিই তাঁর সঙ্গে কাজ করার এক খুব ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার।"
প্রিয়দর্শন বলেন, "ভাগম ভাগ ছবির শুটিং করার সময় গোবিন্দাকে এই ছবিতে নেওয়ার আগে সত্যিই ভীষণ ভীত ছিলাম। তার এক এবং একমাত্র কারণ শুটিংফ্লোরে গোবিন্দার দেরি করে আসার রেকর্ড।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হিন্দি সিনেদুনিয়ার লাইমলাইট থেকে দূরে গোবিন্দা। ছবি- সংগৃহীত
প্রিয়দর্শন আরও বলেন, "আমার পদ্মশ্রী প্রাপ্তির পর আমাকে সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এটিই কি আমার জীবনের সর্ব্বোচ্চ অ্যাচিভমেন্ট জীবনের। তাতে আমি উত্তর দিয়েছিলাম, না, আমার জীবনের সবথেকে বড় অ্যাচিভমেন্ট সলমন খান ও গোবিন্দাকে ভোর ৫টায় শুটিং ফ্লোরে নিয়ে আসা ও ছবির কাজ শেষ করা।" অন্যদিকে সাম্প্রতিককালে এক রিয়ালিটি শোয়ে এই নিয়ে মুখ খোলেন গোবিন্দা। তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে আমি নাকি কখনও সময়ে শুটিং ফ্লোরে পৌঁছাতাম না। আমি কেন কারও বাবার সাধ্যি নেই যে পাঁচ-পাঁচটা শিফটে শুটিং করে সঠিক সময়ে ফ্লোরে পৌঁছাবে। আমি ঠিক পাঁচটা শিফটেই শুটিং করতাম। এতগুলো ছবির শুটিং কীভাবে একটা মানুষ সামলাবে?"
