ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে বিতর্কিত সিরিজ ‘লরেন্স অফ পাঞ্জাব’এর (Lawrence of Punjab) নির্ধারিত মুক্তির দিন ২৭ এপ্রিল। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের মতো গ্যাংস্টারের জীবন ও উত্থানের অন্তরালের যে গল্প রয়েছে সেই প্রেক্ষাপটেই তৈরি এই ডকু সিরিজ। কিন্তু, গ্যাংস্টার, সমাজের অন্ধকার দিক ফুটিয়ে তোলাই কাল হল? বিশ বাঁও জলে ডকু সিরিজ 'লরেন্স অফ পাঞ্জাব'? কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই সিরিজ সম্প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সিরিজ মুক্তির আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উচ্চ আদালতে শুনানির সময় ‘লরেন্স অফ পাঞ্জাব’এর স্ট্রিমিং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
পাঞ্জাব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতেই উচ্চ আদালেতের এই পদক্ষেপ। শুনানির সময় ভারত সরকার আদালতকে জানায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক বিষয়টি পর্যালোচনা করেই আসন্ন সিরিজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন্দ্রের মতে, 'লরেন্স অফ পাঞ্জাব' অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। তাই আপাতত এই সিরিজের স্ট্রিমিং স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উচ্চ আদালত।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অফিসিয়াল চিঠি মারফৎ জানানো হয়েছে, 'পাঞ্জাব পুলিশের মতে এই সিরিজে যে সকল উপাদান রয়েছে তা সংগঠিত অপরাধ এবং অপরাধীদের আরও গৌরবান্বিত করবে। এই ডকু সিরিজটি তরুণ প্রজন্মের উপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব বিস্তার করবে। সিরিজের আকারে সংগঠিত অপরাধকে তরুণ প্রজন্মকে আকৃ্ষ্ট করতে পারে।'
উল্লেখ্য, জনস্বার্থ মামলায় সিরিজটির স্ট্রিমিং বন্ধের আবেদন করা হয়েছিল। আদালতে জানানো হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেই সিরিজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশাবাদী সিরিজের নির্মাতারা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অফিসিয়াল চিঠি মারফৎ জানানো হয়েছে, 'পাঞ্জাব পুলিশের মতে এই সিরিজে যে সকল উপাদান রয়েছে তা সংগঠিত অপরাধ এবং অপরাধীদের আরও গৌরবান্বিত করবে। এই ডকু সিরিজটি তরুণ প্রজন্মের উপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব বিস্তার করবে। সিরিজের আকারে সংগঠিত অপরাধকে তরুণ প্রজন্মকে আকৃ্ষ্ট করতে পারে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের মতো গ্যাংস্টারকে কেন্দ্র করে ডকু সিরিজের সংবেদনশীলতা এবং এই ধরনের বিষয়বস্তু জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিজের মুক্তিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে।'
সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার মাধ্যমে প্রযোজকদের তরফে প্রকাশিত প্রেস বিবৃতি অনুযায়ী, 'লরেন্স অফ পাঞ্জাব ছাত্র রাজনীতি থেকে সঙ্গীত, জীবনের মতাদর্শ এবং সংবাদমাধ্যমের কী প্রভাব এই বিষয়গুলোর সংমিশ্রণেই গল্প। লরেন্স বিষ্ণোইকে একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে, গল্পটি ব্যক্তিগত পর্যায়ের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে এবং এর পরিণতির ওপর আলোকপাত করবে।' পরবর্তী শুনানিতে ‘লরেন্স অফ পাঞ্জাব’ মুক্তির ছাড়পত্র পায় কিনা তারই অপেক্ষায় নির্মাতা থেকে সিরিজিপ্রেমীরা।
