ছাব্বিশে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর থেকে মুখ ফিরিয়েছেন বহু আস্থাভাজন। শেষ পর্যন্ত যাঁরা মমতার আঁচলে বেঁধে আছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটপন্থী ময়নার মোদী বিরোধী পোস্ট ঘিরে ইন্ডাস্ট্রির দুই নারী ভিন্ন মেরুর দৃষ্টিভঙ্গি এখন 'টক অফ দ্য টাউন'। বলা ভালো ময়নার পোস্ট নিয়ে বাকবিতণ্ডায় সরগরম সমাজমাধ্যম। তাঁদের মধ্যে একজন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের দিদি দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় আর দ্বিতীয়জন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও সমাজকর্মী পিয়া চক্রবর্তী।
কিন্তু, পোস্টটা কী? বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন ময়না। পোস্টে লেখা, 'এবার শিক্ষামন্ত্রী গেছে পরেরবার মোদি যাবে।' অতঃপর সমাজমাধ্যমে শুরু দেবশ্রী-পিয়ার বাকযুদ্ধ। স্বঘোষিত মোদিভক্ত দেবশ্রী ময়নার পোস্টের প্রেক্ষিতে জানতে চেয়েছেন, 'জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় অন্ধত্ব বড় হয়ে গেল? সোশাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত অনেক লড়াই-তর্ক দেখা যায়। কিন্তু সম্প্রতি একটি বিষয় দেখে সত্যিই অবাক হতে হল। দলীয় অন্ধত্ব মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে!'
আরও যোগ করেছেন, 'একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার তাগিদে এবং নিজেদের ন্যারেটিভ ধরে রাখতে কেউ কেউ আজকাল এমন একটি চ্যানেলের কন্টেন্ট প্রচার করছেন যার উৎস আমাদের প্রতিবেশী দেশ। যখন এই বিষয়টি ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তখন উত্তর আসছে চ্যানেল যাই হোক কন্টেন্ট নিয়ে কথা বলছি। সিরিয়াসলি? দেশীয় রাজনীতি চর্চা বা নিজেদের দলের সমর্থনে কথা বলার জন্য আমাদের কি এখন অন্য দেশের বা অন্য ভূখণ্ডের চ্যানেলের মুখাপেক্ষী হতে হবে?'
সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অভিনেত্রীর সংযোজন, 'যে কোনও সচেতন নাগরিক জানেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের উৎস কতটা স্পর্শকাতর বিষয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে। মতভেদ থাকাটা গণতন্ত্রের লক্ষণ। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ বা অন্ধ সমর্থন, দেশপ্রেম সেটা নিজস্ব।'
নিট কেলেঙ্কারিতে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে আন্দোলনের সময় মোদীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে 'ককরোচ' সমর্থক থেকে যুবসমাজের একাংশ। প্রায় একমাস আন্দোলনের পর অবশেষে 'জেন জি'র কাছে অদম্য জেদের কাছে হার মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই প্রেক্ষিতেই মোদিকে খোঁচা ময়নার। পালটা আক্রমণ অভিনেত্রী দেবশ্রীরও।
তাঁর মন্তব্যের ক্ষুরধার জবাব দিয়েছেন পরমপত্নী পিয়া। তাঁর মতে, কোনও সরকার বা কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলে তাঁকে দেশদ্রোহী বলা যায় না। বিশ্ব রাজনীতির উদাহরণ টেনে পিয়ার বক্তব্য, ট্রাম্পেরও বিরোধীতা করা হয়। সেটা এদেশের সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে আর সেটাই তো স্বাভাবিক।
এই প্রসঙ্গে একটা কথা না বললেই নয়, বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণপনে বেঁচেছিলেন তৎকালীন প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। তাই নিট কেলেঙ্কারিতে মোদির পদত্যাগের স্লোগানের ব্যাপক প্রচার চলছে ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমে। যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত তৃণমূলের ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশের কনটেন্ট নিয়ে দেবশ্রী প্রশ্ন তুলতেই পিয়ার পালটা জবাব, 'শুধু বাংলাদেশ কেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং আরও অনেক দেশেই এই আন্দোলনের প্রচার হয়েছে।'
