দুর্গাপুজোয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আমিষ বিতর্ক নিয়ে চলছে জোর চাপানউতোর। তারই মাঝে ফের আমিষ খাবার নিয়ে ফতোয়া জারি করলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। তাঁর দাবি, যারা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান তারা ‘পাখণ্ডী’বা ভেকধারী বা ভণ্ড। পুজোর সময় আমিষ ত্যাগেরও নিদানও দিয়েছেন তিনি। আর যা ঘিরে পুজোর মুখে দানা বেধেছে বিতর্ক। যদিও ধর্মগুরুর এই নিদানকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বহিরাগত কোনও সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদাভ্যাস বদলে যাবে না। এবার এই ইস্যুতে সরব সঙ্গীতশিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত (Mekhla Dasgupta)।
সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বাগেশ্বর বাবাকে একহাত নিলেন গায়িকা। সুর চড়িয়ে কড়া ভাষায় সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন। সনাতন ধর্মের রীতি রেওয়াজ নিয়ে মেখলার বক্তব্য, 'সনাতন ধর্মের পরিসর আসলে এতটাই বড়...এত বড় যে শুধু ঘাস খাওয়া মাথায় পুরোটা ধরা সম্ভব না। গর্ব করে বুক ঠুকে বলতে পারি এত লিবারেল (উদারপন্থী, সংস্কারমুক্ত) ধর্ম পৃথিবীতে আর দুটো নেই। এখানে রজস্বলা দেবীরও পুজো হয়। এক দিকে শিব সর্বত্যাগী তো অপর দিকে বিষ্ণু সমৃদ্ধির দেবতা। কৃষ্ণ অর্জুনকে প্রয়োজনে নিজের গুরু-আত্মীয়ের হত্যার পরামর্শও দিচ্ছেন। মা কালী দিগম্বরী শ্মশানচারিণী তো মা লক্ষ্মী ধনসম্পদের আধার! রাধা কৃষ্ণের প্রেমের সম্পর্ককে পুজো করা হয়। উপোস করে পুজো, আবার উচ্ছিষ্ট দিয়ে পুজো, মূর্তিপুজো, আবার নিরাকার ব্রহ্মসাধনা। সনাতন ধর্ম ইজ অল ইনক্লুসিভ। ইট ইস নট জাস্ট আ রিলিজিয়ন (সনাতন ধর্মে এসব কিছু অন্তর্ভুক্ত। এটা শুধু একটা ধর্ম নয়)।'
ক্ষোভ উগরে দিয়ে মেখলার সংযোজন, 'এই মাছ মাংস খেয়েই বাংলা প্রচুর কৃতি সন্তান তৈরী করেছে। আর একটা অন্য রাজ্য থেকে এতরকম বিষয়ে এত কৃতি পাওয়া মুশকিল। ক্ষমতা থাকলে আরেকটা অন্য রাজ্য থেকে আরেকটা রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি , বিবেকানন্দ, কিশোর কুমার তৈরী করে দেখাক। আমিষ নিয়ে ভেজিটেরিয়ানরা (নিরামিষাশী) এত বাতেলা মারে, তারপর দেখা যায় গোমাতার ছেলে সন্তান হলে বিফ হয়ে বিদেশে এক্সপোর্ট (রপ্তানি) হয়ে যায়। দেশের মানুষের টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে বসে থাকাদের মধ্যেও সম্ভবত ভেজিটেরিয়ানরাই (নিরামিষাশী) এগিয়ে। নিজেরা ব্র্যন্ডেড জামা পরে অন্যকে মোহ মায়া ত্যাগের জ্ঞান দেয়। আম বাঙালির অনেক অনেক দোষ আছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে গোবরে যে কটা ভালো পদ্মফুল ফোটে তাদের সুবাসে বাকি গোবরের গন্ধ মিলিয়ে যায়।'
মেখলা ও বাগেশ্বর বাবা। ছবি: সোশাল মিডিয়া
