২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় উসকানির অভিযোগ। গড়িয়াহাট থানায় এফআইআর দায়ের অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের (parambrata chatterjee- Swastika Mukherjee) বিরুদ্ধে। দু'জনের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী তথা আইনজীবী জয়দীপ সেন।
জানা গিয়েছে, একুশ সালে টুইটারে (বর্তমানে এক্স) পরমব্রতর একটি পোস্টকে নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন জয়দীপ। তাঁর কথায়, সমাজমাধ্যমে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা ও সন্ত্রাসে উসকানি দিয়েছেন পরমব্রত। আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন স্বস্তিকা। ভোট পরবর্তী উত্তপ্ত পরিবেশে সমাজমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। গড়িয়াহাট থানায় জমা পড়া অভিযোগপত্রে আইনজীবী জয়দীপ সেনের দাবি, ২০২১ সালের ২ মে বিকেল চারটে নাগাদ যখন জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস তখন পরমব্রত সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, 'আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।' অভিনেত্রী স্বস্তিকা উসকানির পালে হাওয়া দিয়ে পালটা লেখেন, 'হাহাহা হোক হোক!' অভিযোগকারীর মতে, এর কয়েক ঘণ্টা পরেই বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে মারা হয়। এই ধরনের মন্তব্য কার্যত রাজনৈতিক হিংসাকে বাড়িয়ে তোলে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীর এই ধরনের পোস্ট এবং মন্তব্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর হলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঘটনাকালের নিরিখে তৎকালীন আইপিসির ধারাই প্রযোজ্য। সেই কারণে গড়িয়াহাট থানায় এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর আবেদন করা হয়েছে।
আইনি জটে পরমব্রত-স্বস্তিকা
চিঠির বয়ান অনুযায়ী, ওই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং শারীরিক নির্যাতনের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি বেলেঘাটার অভিজিৎ সরকারের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
