নতুন গ্লাসে পুরনো 'ককটেল'! আহা, কী সুস্বাদু! কতটা জমল শাহিদ কাপুর, কৃতী শ্যানন আর দক্ষিণী সুন্দরী রশ্মিকা মন্দানার 'ককটেল ২'? সইফ আলি খান, দীপিকা পাডুকোন আর ডায়না পেন্টির 'ককটেল'-এর সুনাম তো আজও লোকমুখে ফেরে। সেই 'ককটেল'-এর স্বাদ দ্বিতীয় ভাগে দ্বিগুন হল নাকি প্রথমভাগের সেই জনপ্রিয়তার কাছে জোর ধাক্কা?
বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, প্রেমে ব্যথা সবটাই বিদ্যমান 'ককটেল ২'-এ। সিনেমা মুক্তির আগেই দর্শক প্রথমভাগের সঙ্গে তুলনা করা শুরু করে দিয়েছিলেন সে কথা কিন্তু, অস্বীকার উপায় নেই। 'ককটেল ২' মুক্তির পর এসে গেল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যেখানে বোঝা যাচ্ছে দাড়িপাল্লা কোনদিকে ভারি।
কেমন হল 'ককটেল ২'?
সইফ, দীপিকা আর ডায়নার সমীকরণ মাথায় নিয়ে যদি 'ককটেল ২' দেখতে হলমুখী হন তাহলে কিছুটা হতাশ হতেই পারেন। তবে নিজ নিজ অভিনয় গুণে শাহিদ, রশ্মিকা আর কৃতী অত্যন্ত সাবলীল সেটা বলাই বাহুল্য। এই ছবি থেকে কয়েকটা শিক্ষণীয় বিষয়ও কিন্তু আছে। যেমন ধরুণ, প্রেম করলে ভালোবাসায় সম্পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত। চোখ বন্ধ করে বন্ধুকে বিশ্বাসী করা মোটেই উচিত নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রেম করলেই যে পরস্পরের খুটিনাটি জানতে হবে তাহলেই প্রকৃত ভালোবাসা আর নাহলে প্রেমে গভীরতা নেই এই ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে একেবারে ঝেরে ফেলতে হবে।
'ককটেল ২'-এর প্রতিটি বাঁকে পরিচালকের এই অনুভূতিগুলোর বুনোট অত্যন্ত নিখুঁত। দীর্ঘ ১৬ বছর সম্পর্কে রয়েছে দিয়া (রশ্মিকা) আর কুনাল (শাহিদ)। ছাত্রজীবনের প্রেম ঠিক যেমন হয় সেরকম। দিয়া ভীষণ পরিণত কিন্তু, প্রেম মজবুত হলেও বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয় কুনাল। ঠিক সেই সময়ে দেবদূতের মতো দিয়া-কুনালের জীবনে অ্যালির (কৃতী শ্যানন) আবর্ভাব। অনেকদিনের প্রেমে কুনালের একঘেয়ামি এসেছে কিনা তা পরীক্ষা করতে অ্যালিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দিয়া। ব্যাস, খেলা পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেল।
'ককটেল ২'-এ কৃতী-রশ্মিকার সঙ্গে শাহিদ
বান্ধবীর প্রেমিককেই মন দিয়ে বসল অ্যালি। কিন্তু, কুনাল? আদর্শ প্রেমিক নাকি অ্যালির আবেদনে দিয়ার প্রতি মোহভঙ্গ হল? সেই ট্যুইস্টের জন্য সিনেমার একদম শেষ দৃশ্য পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বন্ধুত্ব আর প্রেমের সম্পর্কের 'ককটেল' তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার মতোই বিষয়। কিন্তু, কিছুক্ষেত্রে যেন প্রাপ্তবয়স্ক দিয়া আর অ্যালির ঝগড়া অত্যন্ত হাস্যকর। স্বল্পবসনা আধুনিক নারী অ্যালির গ্ল্যামারাস লুক 'ককটেল ২'-এর অন্যতম আকর্ষণ।
'ককটেল ২'
কুনালের প্রেমিকার চরিত্রে দিয়া যেন বড্ড 'নিরস'। তবে লাল লেহেঙ্গায় নববধূর সাজে সত্যিই অপরূপা। সৌন্দর্যের দিক থেকে পর্দায় রশ্মিকা 'দ্য বেস্ট'। রইল বাকি শাহিদ কাপুর। কুনালের চরিত্রকে সেরার সেরাটা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, সইফকে বোধহয় ছুতে পারলেন না। ঠিক যেমন ডায়নার প্রাণোচ্ছল ইমেজটা রশ্মিকার মধ্যে কোথায় যেন 'মিসিং'। 'পার্টি গার্ল' দীপিকার সঙ্গে যেন সেয়ানে সেয়ানে টেক্কা কৃতীর। গানের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে 'ককটেল'-ই সেরা।
