রাজনীতি আর গ্ল্যামার দুনিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারকাদের রাজনৈতিক ময়দানে অবতরণের খবর নতুন নয়! এযাবৎকাল বহু তারকা সাংসদ-বিধায়ক পেয়েছে দেশবাসী। সে বলিউড হোক কিংবা বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রি। ভোটবাক্স ভারী করতে প্রচারের ময়দানে তারকামুখের ঝলক, নতুন নয়। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election) দুয়ারে কড়া নাড়তেই বাংলার রাজ্য-রাজনীতিতে বড় চমক! খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রার্থী ঘোষণার দিনই জোড়াফুল শিবিরে যোগ দিচ্ছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)।
সূত্রের খবর, অভিনেতা ইতিমধ্যেই জোড়াফুল শিবিরে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রথমটায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। তাহলে কি ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকায় 'বড় বাজি' হতে চলেছেন পরম? এইমুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এহেন জল্পনা তুঙ্গে।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) দুন্দুভি ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে। রবিবারই নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ্যে এসেছে। ভোটের বাংলায় যে একাধিক তারকাচমক থাকছে, তেমন আভাস আগেই মিলেছিল। কারণ মাসখানেক ধরেই টলিপাড়ার একাধিক সেলেবের নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন বহাল। সেই তালিকায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নামও শোনা যায়। এবার সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়া আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা। সূত্রের খবর, অভিনেতা ইতিমধ্যেই জোড়াফুল শিবিরে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রথমটায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। তাহলে কি ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকায় 'বড় বাজি' হতে চলেছেন পরম? এইমুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এহেন জল্পনা তুঙ্গে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে রাজ্য সরকারের অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য হিসেবে দেওচা পাঁচামির পাথারচাল, গাবারবাথান ও হরিণশিঙা গ্রামে গিয়ে মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন অভিনেতা। বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অধীনস্ত ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’ এই কমিটিটি গঠন করে। ন’জনের সেই কমিটির চেয়ারম্যান হন পরমব্রত। তবে গত বছর ফেডারেশন বনাম পরিচালক গিল্ডের সংঘাতের আবহে শাসকদলের সঙ্গে পরমব্রতর বিরোধিতার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যার সমাধান হয়। এরপরই অভিনেতার সুর নরম করে জানিয়েছিলেন, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা 'হঠকারী সিদ্ধান্ত' ছিল। সেসময়ে এক ভিডিও বার্তায় ফেডারেশনকে ‘সুবৃহৎ পরিবার’ বলে সম্বোধন করে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। পরমব্রত বলেন, "এই ইন্ডাস্ট্রিতে গত ২৫ বছর ধরে কাজ করার সুবাদে জানি, এই ফেডারেশন একটি সুবৃহৎ পরিবার। পরিবারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি যদি হয় আলাপ-আলোচনাতেই মেটানো শ্রেয়। আমার বলতে দ্বিধা নেই যে, এই গোটা ব্যাপারটাকে আদালত বা আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি কিছুটা হঠকারী ছিল। এর পিছনে কিছু ভুল তথ্য, মিস কমিউনিকেশন, কনফিউশন, ভুল বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজ করেছিল।সঠিক ছিল না। ফেডারেশনের গুরুত্ব নিয়ে আমি সবসময় সচেতন ছিলাম। সুনিশ্চিতও ছিলাম।" এরপর আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অভিনেতাকে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যায়।
পুত্র নিষাদের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
গত ডিসেম্বর মাসে পরমব্রতর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তাঁর পুত্র নিষাদের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানেও যান মুখ্যমন্ত্রী। খুদেকে আদর করে বিশ্ববাংলার একটি বিশেষ উপহারও তুলে দিয়েছেন তারকা মা-বাবার হাতে। সম্প্রতি বঙ্গসম্মান প্রাপ্তির পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন অভিনেতা। এবার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা তুঙ্গে।
