জাতীয় রাজনীতিতে সমমনস্ক, হাতে হাত রেখে লড়াই। অথচ নির্বাচনের মুখে সমস্ত সমীকরণ একলহমায় বদলে ফেলতে জুড়ি নেই রাজনীতিকদের। দিন কয়েক আগেও এসআইআরের নামে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একযোগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনেছিল কংগ্রেস এবং তৃণমূল। কিন্তু বঙ্গভোটে (West Bengal Assembly Election) প্রচারে এসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) রাজ্যের শাসকদলকে বাছা বাছা ইস্যুতে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। মঙ্গলবার রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে প্রচারে এসে আর জি কর কাণ্ড থেকে বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান থেকে শিল্পক্ষেত্রের অবনতি - সব নিয়েই একের পর এক আক্রমণ শানালেন সোনিয়াপুত্র।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘আর জি করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তৃণমূলের গুন্ডাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আর সরকার এ বিষয়ে কোনও দায় নেয়নি। মমতাজি এখানে বেকারদের ভাতা দিচ্ছেন। বলছেন, ৫ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হচ্ছে আর ভাতার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ৮৪ লক্ষ। মজার কথা!''
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) রাজ্যের ২৯৪ টি আসনে একা লড়াইয়ের কথা যেদিন ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস, সেদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটে ভাঙনের ভবিষ্যৎ দেখা গিয়েছিল। পরে কলকাতায় দলের ইস্তেহার প্রকাশ করতে এসে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তৃণমূলকে নিশানা করে নানা মন্তব্য করেন। খাড়গের সেই তৃণমূল-বিরোধিতাকে সোমবার রায়গঞ্জের জনসভায় আরও উসকে দিলেন রাহুল গান্ধী। নারীসুরক্ষা প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ''আর জি করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তৃণমূলের গুন্ডাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আর সরকার এ বিষয়ে কোনও দায় নেয়নি। মমতাজি এখানে বেকারদের ভাতা দিচ্ছেন। বলছেন, ৫ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হচ্ছে আর ভাতার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ৮৪ লক্ষ। মজার কথা!'' কর্মসংস্থান ও শিল্প ইস্যুতে বাম জমানাকেও নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলা আগে শিল্পের হাব ছিল। কিন্তু প্রথমে বামফ্রন্ট সরকার আর পরে মমতাজি বাংলার শিল্পকে নষ্ট করেছে।''
রাহুলের (Rahul Gandhi) এই আক্রমণ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন বেকার যুবকদের ভাতা প্রকল্প চালু রেখেছিল। সেখানেও মাসে মাসে বেকাররা ভাতা পেতেন। শুধু নিন্দার মুখে পড়তে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের যুবসাথী প্রকল্পকেই। কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তৃণমূল বিরোধী সুর আরও চড়িয়ে রাহুল এদিন আরও বলেন, ‘‘এ রাজ্যে তৃণমূলের গুন্ডাদের হাতে মার খেতে হচ্ছে কংগ্রেস কর্মীদের। যা খুশি তাই করছে কংগ্রেস। এমনকী বিজেপির জন্য বাংলায় রাস্তা সহজ করে দিচ্ছে তৃণমূলই। তারা দুর্নীতি, হিংসা-হানাহানি না করলে বিজেপি এখানে কোনও সুযোগ পেত না।''
