shono
Advertisement
Parambrata Raima

'বয়স নিয়ে রাইমা কখনও প্যানিক করে না', হাওয়া বদলের মরশুমে খুনসুটি পরমব্রতর

মতের অমিল হলেও বন্ধুত্বে সেই প্রভাব পড়েনি। রুদ্রনীল ঘোষ সম্পর্কে বললেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ইন্ডাস্ট্রি, বন্ধুত্ব, রাজনীতি নিয়ে অকপট তিনি। সঙ্গী রাইমা সেন।
Published By: Kasturi KunduPosted: 01:05 PM Jun 08, 2026Updated: 02:54 PM Jun 08, 2026

‘হাওয়া বদল’-এর সিকুয়েল আসছে এ সপ্তাহে। ভেবেছিলাম পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় আর রুদ্রনীল ঘোষকে একসঙ্গে সাক্ষাৎকারে পাওয়া যাবে। পেলাম না কেন?

Advertisement

পরমব্রত : নিশ্চয়ই কিছু কারণ আছে। মনে হয়, সেই কারণটা আমার থেকেও বেশি রুদ্রই বলতে পারবে।

ছবি নিয়ে কতটা এক্সাইটেড?

রাইমা : আমি খুবই এক্সাইটেড। কারণ, শেষবার আমাকে আর পরমকে একসঙ্গে দেখা গেছে যতদূর মনে পড়ছে ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ ছবিতে। এত দিন পর আমাদের একসঙ্গে স্ক্রিনে দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে, আমি জানি। আড়াই বছর আগে ‘আবার হাওয়া বদল’-এর শুটিং হয়েছে। সিক্য়ুয়েল ফিরছে ১৩ বছর পর।

বিগত বছরগুলোয় আপনি অভিনেতা এবং পরিচালক হিসেবে অনেকটা বদলেছেন। বদলের সঙ্গে সঙ্গে ছবি আসা নিয়ে, কতটা আশাবাদী?

পরমব্রত: মানুষ যখন ‘আবার হাওয়া বদল’ দেখবেন, তখন একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যাবে ‘হাওয়া বদল’ ওয়ান যে পরিচালনা করেছিল, সেই মানুষটা এক হলেও, তার ক্রাফ্‌ট ইভলভ করেছে শেষ ১৩ বছরে অনেকটাই। যেমন আমরা প্রত্যেকেই মানুষ হিসেবে এবং শিল্পী হিসেবেও ইভলভ করি।

রাইমা কি একটু চিন্তিত যে আড়াই বছর আগে কেমন দেখতে লাগছিল?

রাইমা : হ্যাঁ, কারণ ‘আবার হাওয়া বদল’-এর সময় মোটা হয়ে গিয়েছিলাম। এই ছবির জন্য ওজন বাড়াতে হয়েছিল। বয়সও বেড়েছে।

পরমব্রত : রাইমার কখনও বয়স নিয়ে কোনও ঝামেলা নেই। অনেকের অফিসিয়াল বয়স বাড়তে চায় না। ওর তেমন নয় (হাসি)।

১২ জুন ছবিটা রিলিজ করছে। এবং এমন একটা সময় যখন নানা বক্তব্য রাখার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে।

পরমব্রত : বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন যদি ওঠেই তাহলে তো গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে ওঠা উচিত। ২০২৪-এ যখন পরিচালকদের ইসুকে কেন্দ্র করে লড়াইটা শুরু হয়, তখন সব তাবড় নাম সঙ্গে ছিলেন। ২৫-এর গোড়ার দিকে তো সবাই ভিডিও বার্তা দিয়ে আপস করে সরে যান। কাজের, উপার্জনের তাগিদেই করতে বাধ্য হন। কিন্তু সেটাও তো এই প্রসঙ্গে বলতে হবে। এই দু মাস আগে, রাহুলের মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা চলল কদিন ধরে, তার পুরোভাগে তো স্বরূপ বিশ্বাস ছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়ররা থেকে শুরু করে নবাগত সবাই তো তার কথাতেই সিদ্ধান্ত নিলেন, পায়ে পা মেলালেন। সবাই দেখেছে। স্বরূপ বিশ্বাসের স্বরূপ তো আর কারুর অজানা ছিল না! তাও করতে বাধ্য হয়েছেন! আমি সামনের সারিতে থেকে নিজের অর্থ, পেশা সব ত্যাগ করে লড়াইটাকে আদালত অবধি নিয়ে গেছিলাম এবং যতদিন পেরেছি লড়ে গেছি, এবং আমার সরে যাওয়াটা আরও সাম্প্রতিক কালে বলে হয়তো লোকের মনে আছে এবং চোখে লেগেছে। কিন্তু আপস সবাই করেছেন,করতে হয়েছে, নাহলে কেউ কাজ করতে পারত না। অন্য সাক্ষাৎকারে আমি বলেছি কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে লড়াই করেছি। কখন সরে এসেছি। সেগুলো যঁারা ধৈর্য ধরে শুনছেন তাঁরা নিশ্চিত ভাবেই বুঝতে পেরেছেন। এর বাইরে আলাদা করে জবাবদিহি করার নেই।

একটি প্রেস কনফারেন্সে আপনার বক্তব্য ছিল, কাজ ছিল না বলে স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কে ভালো কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, আপনার কোম্পানির জন্য, সন্তানের জন্য। সেক্ষেত্রে আপনার দ্বিচারিতা সামনে এসেছে।

পরমব্রত : অতদিন লড়াইটা করার পর বলতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমি তো অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজকও। কেউ জানতে চায়নি, আমার ইনভেস্টারদের টাকা কী করে ফেরত দিচ্ছি। বা স্টাফদের স্যালারি কী করে দিচ্ছি বা সংসার কী করে চলছে। সোশাল মিডিয়ায় মানুষ শুধু ভূরি ভূরি কমেন্টস করছেন। যে ইনভেস্টররা বিশ্বাস করে আমাদের সংস্থায় টাকা দিয়েছিলেন তাঁদের কাছে আমি দায়বদ্ধ। গত নভেম্বর থেকে আজ অবধি আমি অল্প অল্প করে হলেও তাঁদের টাকা ফেরত দিচ্ছি। কিন্তু তখন আমি দ্বিচারিতার কথা ভাবব, না বাঁচব কী করে ভাবব? আমার ক্ষেত্রে শুধু সংসার নয়, আমাদের কোম্পানির সঙ্গে হয়ে যাওয়া বিরাট একটা স্ক্যামের ফলে বিরাট দেনা ছিল। তা সত্ত্বেও আমি পরিচালকদের এই লড়াইয়ের মধ্যে থেকেছিলাম। তারপর একটা পয়েন্টে কিছু পরিচালককে স্বরূপ বিশ্বাস বাধ্য করেন আমাদের কেসে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। তাদের সম্মিলিতভাবে তৈরি করা বিশৃঙ্খলায় মাননীয় বিচারপতি বুঝতে পারেন যে, ওঁর রায়গুলোকে দাম দেওয়া হচ্ছে না, হবেও না। তাই আমাদের পিটিশনটা ডিসমিস করে দেন। তখন আমাদের কাছে কোনও উপায় থাকে না। ঋণ শোধ না করে পালিয়ে যাওয়ার লোক আমি নই। তার জন্য এই আপস আমাকে করতে হয়েছিল।

স্বরূপ বিশ্বাসের পতন নিয়ে কী বলবেন?

পরমব্রত : রবি ঠাকুরের গানের একটা লাইন বলব, অন্য কনটেক্সটে যদিও– যেদিন ঘটানাটা ঘটেছে সেদিন থেকে এই গানটার কথা মনে হচ্ছে ‘যা হওয়ার তা হবে, যে আমারে কাঁদায় সে কি অমনি ছেড়ে রবে!’

যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, মানুষ সিনেমা নিয়ে আগ্রহী হবে?

পরমব্রত: দ্য শো মাস্ট গো অন, অ্যান্ড ইট গোজ অন! তবে আমার আর একটা বক্তব্য নিয়ে চর্চা চলছে, যে নতুন সরকারের কাছে আমার কী প্রত্যাশা। সেটা নিয়েও তিন-চার রকমের মানে করা হয়েছে।

জুটিতে পরম-রাইমা

কী রকম?

পরমব্রত : রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার। সরকার কিন্তু সবার! তাই তার কাছে প্রত্যাশা সবার থাকে। যে দল সরকার গঠন করেছে তার সমর্থকের যেমন থাকে, তেমনি তার বিরোধীরও থাকে! কারণ সবাই নাগরিক! আমাদের দেশে আমরা দল আর সরকার বার বার গুলিয়ে ফেলি, সেটা আমাদের চেতনার ব্যর্থতা। পশ্চিমবঙ্গে যারা সরকার গঠন করলেন তঁাদের রাজনৈতিক লড়াই এবং পরিশ্রমের প্রতি আমার সম্মান আছে। একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে আমার বিরোধিতা করার অধিকারও আছে, অ্যাট লিস্ট, থাকার কথা!

আবার হাওয়া বদল

আপনার একটি পুরনো সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচনা চলছে। যেখানে বলেছিলেন, রুদ্রনীলের সঙ্গে একসারিতে ক্রেডিবিলিটি-ওয়াইজ উচ্চারিত হতে চান না। কী বলবেন?

পরমব্রত : রুদ্রর ওই আসপেক্টটা নিয়ে আজও একই কথা বলব। ব্যক্তি রুদ্র, অভিনেতা রুদ্র আলাদা আমার কাছে। ওই কথা বলার পরেও রুদ্র আমার বন্ধু থেকেছে। আমরা ‘আবার হাওয়া বদল’ শুট করেছি। ‘সাবাশ ফেলুদা’ শুট করেছি রুদ্রকে নিয়ে। ব্যক্তি রুদ্র সেই কম সংখ্যক মানুষের মধ্যে যে আমার বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছিল মাত্র পঞ্চান্ন জনের মধে্য। আমার বাড়ির ছাদে সেই নিমন্ত্রণ ছিল। কারণ ব্যক্তি রুদ্র আমার পঁচিশ বছরের বন্ধু। অভিনেতা রুদ্রর প্রতি আমার ব্যাপক সম্মান এবং ভালোবাসা আছে। কিন্তু ওর রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে আমার প্রশ্নচিহ্ন আছে। আমি বলতে চেয়েছি, পলিটিক্যাল ক্রেডিবিলিটি নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।

আপনি বলেছেন এই পঁচিশ বছরের এই বন্ধুত্বে রাজনীতি কখনও আসেনি...

পরমব্রত : এসেছে, আবার আসেনি। আমি যে রুদ্রকে চিনতাম তার রাজনৈতিক মতাদর্শ একাধিকবার বদলাতে দেখেছি। সেই জন্যই ওই প্রশ্নটা উঠে এসেছিল। আমার খারাপ লাগা আমি ওকে ব্যক্তিগত পরিসরে বলেও ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ওরই। তার মানে এই নয়, ওকে নিয়ে কাজ করব না। পেশাদারি সৌজন্য একফোঁটাও কমতি হবে না এটাও বলেছিলাম। আমি বলব, যতই মতবিরোধ হোক না কেন, ভালো বন্ধুত্বই বজায় থেকেছে।

'আবার হাওয়া বদল'-এর প্রচারে

একটি ইস্যুতে আপনার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে...

বিষয়টা সাবজুডিস। এখন মন্তব্য করব না।

রাইমা-পরমব্রত-রুদ্রনীল আইকনিক ট্রায়ো ‘হাওয়া বদল’-এর। আশাবাদী?

রাইমা : খুবই আশাবাদী। প্রথম ছবিটা দর্শকের খুব ভালোবাসা পেয়েছিল, তাই সবাই সিক্রযুয়েলের জন্য অপেক্ষা করছিল। তাই সব কিছু সত্ত্বেও তিন জনের কেমিস্ট্রি দর্শকের ভালো লাগবে বলেই মনে হয়। বন্ধুত্বের খুব বড় জায়গা আছে ছবিতে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement