মধ্য কলকাতার নামী হোটেলে ছবির প্রচারে হাজির টিম 'অভিমান'। আগের দিনই 'দেশু৭'-এর মহরত হয়ে গিয়েছে। তার মাঝে 'অভিমান'-এর প্রমোশন। ব্যস্ত শুভশ্রীও (Subhashree Ganguly)। কতটা ওয়ার্কোহলিক তিনি? শুভশ্রীর উত্তর, "তেমন বলব না। তবে কাজ করতে ভালোবাসি। কাজের প্রতি ভীষণ প্যাশনেট, কমিটেড। তাই বলে সবসময়ই আমি কাজ নিয়ে ভাবি, এমনটা নয়। কাজের মাঝেই সবকিছু করি। পরিবারকে সময় দিই। আমি সবসময় ব্যালান্স করতে চেয়েছি।"
এই প্রথম প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক ছবিতে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। বুম্বাদার সঙ্গে প্রথম কাজে আপ্লুত শুভশ্রী। তাঁর বিপরীতে কাজ করতে পারাটা শুভশ্রীর কাছে বড় প্রাপ্তি। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সংযোজন, "আমার প্রাপ্তির ঝুলিতে প্রচুর কিছু যোগ হয়েছে। বুম্বাদা আছেন মানে একটা ভরসার জায়গা। বুম্বাদাকে দেখে অনেক কিছু শিখেছি। উনি আমার ইন্সপিরেশন, আমার আইডল। এত বছর কাজ করার পর, সাড়ে চারশোর বেশি ছবি করার পর একটা মানুষের যে ডেডিকেশন, যে কাজের খিদে, সফল হওয়ার পরেও বারবার প্রত্যেকটা কাজে নিজেকে আরও বেশি করে প্রমাণ করার যে তাগিদ এটা সত্যিই শেখার মতো।"
ব্যাক টু ব্যাক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সঙ্গে কাজ করলেন অভিনেত্রী। শুভশ্রীর কথায়, "ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সঙ্গে আমার কমফর্ট জোন অন্য লেভেলের। আইডি আমাকে নিজের মেয়ে বলেন। উনি আমাকে মা বলে ডাকেন। প্রফেশনালি আইডির জার্নিকে আমি সম্মান করি। মিউজিক ডিরেক্টর হিসাবে উনি খ্যাতনামা। তবে ডিরেক্টর হিসাবে উনি যে গল্পগুলো বলছেন সেগুলো খুব ইন্টারেস্টিং। কোনও ছবি কিছু মানুষের ভালো লাগবে, কিছু মানুষের ভালো লাগবে না। আইডির কিছু ছবি খুব ভালো চলেছে, কিছু ছবি নিয়ে চর্চা হয়েছে। আবার কিছু ছবি চলেনি।"
ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সঙ্গে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক বললেন। সেক্ষেত্রে সেটে বকাঝকার থেকে স্নেহ-আদরে আগলে রাখেন পরিচালক। শুভশ্রীর জবাব, "শুধু আমি নই, কারও সঙ্গেই আইডি কড়া নন। আর আমি ভীষণ ডেডিকেটেড একজন অ্যাক্টর। আমাকে কোনও পরিচালক বকেন না। সেটে রেডি হয়ে যাই। যাতে কোনও পরিচালকের বকার সুযোগ না থাকে। আমি ডিরেক্টরস আর্টিস্ট।"
তাহলে বাধ্য ছাত্রী শুভশ্রী? চটপট উত্তরে নায়িকা বলেন, "হ্যাঁ একদম। স্কুলেও দেখবে যে ছাত্র-ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে সব হোমওয়ার্ক করে যায় তাদের প্রতি টিচারের আলাদা নজর থাকে। যদিও আমি স্কুলে বাধ্য ছিলাম না। কিন্তু এখন বাধ্য। আমি ডিরেক্টরদের ফেভারিট।" এর আগেও নানা ধরনের সম্পর্কের সমীকরণের ছবি করেছেন শুভশ্রী। তিনি মনে করেন সম্পর্কের গল্পের আবেদন দর্শক দেখতে পছন্দ করে।
শুভশ্রীর মতে , "আমরা সবাই ভালোবাসতে ভালোবাসি। আমরা সবাই প্রেমে পড়তে ভালোবাসি। অভিমান করতে ভালোবাসি। বিরহের যে যন্ত্রণা সেই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে ভালোবাসি। তাই সেই সম্পর্কের ছবি যখন দর্শক দেখেন তখন ভাবেন এই অভিমানটা না করলেই ভালো হত। ফোন করে মিটিয়ে নেওয়া যেত। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে গেছি যে আমরা আমাদের অনেক ফিলিংসকে ইগনোর করে যাই। সিনেমা ঠিক তেমনই একটা মিডিয়াম যেখানে আড়াই ঘণ্টা সেই দিকগুলোকে ছুঁয়ে যাওয়া যায়।"
শুভশ্রী কি অভিমানী? অভিমান প্রকাশ করতে পারেন? অকপট জবাব, "আমি আসলে খুব সহজ একজন মানুষ। আমি অভিমান করলে সেটা ট্র্যাগ করতে ভালোবাসি না। আমার ভালোবাসাটা খুব স্ট্রং। আমি কথা বলে অভিমান মিটিয়ে নেওয়াতে বিশ্বাসী। কারণ আমার মনে হয়, আমাদের জীবনটা খুব ছোট।"
