বদলের বঙ্গে তেরো বছর বাদে মুক্তি পাচ্ছে 'হাওয়া বদল'-এর সিক্যুয়েল 'আবার হাওয়া বদল'। ১৩ বছর পর ফিরছে আইকনিক ত্রিমূর্তি রুদ্রনীল ঘোষ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও রাইমা সেন। সঙ্গে অনুষা বিশ্বনাথন। আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে আসছে 'আবার হাওয়া বদল'। তার আগে সিনেমার প্রচারে রুদ্রনীল ঘোষ ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। রুদ্র-পরম জুটির পেটে খিল ধরানো সমীকরণ চেটেপুটে উপভোগ করেছিল বাংলা ছবির দর্শক। সিনেমার সিক্যুয়েলেও রয়েছে সেরকমই ঝলক। তবুও ছবির প্রচারে একসঙ্গে নেই রুদ্রনীল-পরমব্রত!
চর্চার মাঝেই একফ্রেমে তারকাযুগল। যৌথভাবে সিনেমার প্রচার সারলেন তাঁরা। তবে রুদ্রনীল একপ্রকার নিঃশ্চুপই বলা চলে, মজার গল্প শোনালেন পরম। কী বললেন অভিনেতা? সিনেমা মুক্তির এখনও বাকি ছ'দিন। তার আগে ছবিতে দুই অভিনেতার সম্পর্কের সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কাজ প্ল্যানিং করা আর সেই প্ল্যান মাফিক অন্ধের মতো বন্ধুকে অনুসরণ করাই রুদ্রনীলের জীবনের মূল মন্ত্র!
বিষয়টা খোলসা করে বলেন, "আমি প্ল্যানিং করব ও এনজয় করবে। এটা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। আমরা যখন প্রথম একসঙ্গে লন্ডন গিয়েছিলাম সেটা অবশ্য শুটিংয়ের জন্য নয় অন্য একটা কাজে। সেটাও বহুবছর আগে। তার কয়েক বছর আগেই লন্ডন থেকে আমি মাস্টার্স করে ফিরেছি। ও সবাইকে বলে বেরাত বাবানের সঙ্গে থাক। ওর সঙ্গ ছাড়িস না, লোকাল ছেলে। যেদিন যেখানে যেতাম সেই প্ল্যানটা আমি করতাম। ও পিছন পিছন যেত।"
কী বলছেন দুই বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষ এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়?
রাজনৈতিক মতান্তরের জন্য রুদ্র আর পরমব্রতর সম্পর্কে নাকি দূরত্ব বেড়েছিল। সিনেপাড়ার অন্দরে কান পাতলে শোনা যেত এমনই গুঞ্জন। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের পর রুদ্রনীল ঘোষের ডাকা বৈঠকে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি।
টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
পরমব্রত বলেছিলেন, “আমি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছি, তার প্রাথমিক কারণ রুদ্র আর আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। রুদ্র এবং আমার বন্ধুত্বের মধ্যে যতটা বেশি বন্ধুত্ব, তার থেকেও বেশি মতপার্থক্য রয়েছে। সেই মতপার্থক্য কখনও ব্যক্তিগত, কখনও রাজনৈতিকও। কিন্তু আমরা এই বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও রাজনীতি আসতে দিইনি।” মজার বিষয় সিনেমায় পরমব্রতর মুখে সংলাপ, 'গর্ভমেন্ট চেঞ্জ ওয়েদার চেঞ্জ'। বদলের বঙ্গে কাকতালীয়ভাবে এই সংলাপ বর্তমান পরিস্থিতির সমার্থক, তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
