সাম্প্রতিক অতীতে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম-এর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন জীতু কমল। কখনও সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে 'ধান্দাবাজ' বলে কটাক্ষ করেছেন, তো কখনও বা ফোরামের বিরুদ্ধে শিল্পীদের অভাব-অভিযোগ মূল্যায়ণ না করার অভিযোগ এনেছেন। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন জীতু। সেলেবপাড়ার অন্দরেও যা নিয়ে কম ফিসফাস হয়নি! এমনকী অভিনেতাকে পালটা 'স্থান-কাল-পাত্র' বিচার করে ব্যক্তিগত সমস্যা তুলে ধরার নিদান দিয়েছিলেন একাংশ। বুধবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে মুখ খুলেছেন কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
"কী করে একজন দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও, যোগ্য মানুষের চাকরি নিজের নামে করে? আবার সেই রকম মানুষই ফোরামের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে বসে থাকেন দিনের পর দিন এবং কলকাঠি নেড়ে চলেন! ইন্ডাস্ট্রির মাথারা এগুলো জানতেন না?"
'অভিমানী' জীতু সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে লিখেছিলেন, "ফোরাম অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান! এই মিথ্যে কথাটা বলবেন না...।" অভিনেতা প্রশ্ন তুলেছিলেন, "কী করে একজন দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও, যোগ্য মানুষের চাকরি নিজের নামে করে? আবার সেই রকম মানুষই ফোরামের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে বসে থাকেন দিনের পর দিন এবং কলকাঠি নেড়ে চলেন! ইন্ডাস্ট্রির মাথারা এগুলো জানতেন না?" এমনকী সংশ্লিষ্ট অভিযোগ পোস্টগুলিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম-ছবিও জোড়েন তিনি। জীতুর এহেন অভিযোগ নিয়ে শোরগোলও কম হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের রাজনীতিতে অভিনেতা এও অনুরোধ করেছেন যে, "নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতি ঢুকতে দেবেন না, দয়া করে।" সত্যিই কি আর্টিস্ট ফোরামে রাজনৈতিক আস্ফালনের অস্তিত্ব রয়েছে? কিংবা ফোরাম কি সত্যিই বিগত আড়াই দশকে শিল্পীদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ?
আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কী বললেন?
"সমস্যা সমাধানের জন্য সবসময় ফোরাম পাশে রয়েছে। কারোর অভিযোগ থাকতেই পারে। সেই অভিযোগ আমি..."
কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এপ্রসঙ্গে বলেন, "২৭ বছর ধরে এই ফোরাম সদস্যদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। সমস্যা সমাধানের জন্য সবসময় ফোরাম পাশে রয়েছে। কারোর অভিযোগ থাকতেই পারে। সেই অভিযোগ আমি এবং রঞ্জিতদা (মল্লিক), আমরা সবাই বলছি সোশাল মিডিয়ায় লেখার আগে আমাদের জানাতে। আমরা তাহলে যথাসাধ্য সমাধানের চেষ্টা করব। সোশাল মিডিয়ায় লিখেই যদি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত তাহলে ২৭ বছর ধরে আর্টিস্ট ফোরাম থাকত না।" ইন্ডাস্ট্রির 'জ্যেষ্ঠপুত্র'র সংযোজন, এই দাবি তাঁর একার নয়, বরং ফোরামের কার্যকর কমিটির বাকিদেরও। প্রসেনজিৎ জানালেন, "গত ২৭ বছর ধরে শিল্পীরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে পারিশ্রমিক পান কিংবা তাঁদের কাজের সময়সীমা যাতে ঠিক থাকে, ফোরাম সেই ব্যবস্থাও করেছে।"
আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে জীতু কমলের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত 'এরাও মানুষ' ছবি ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, সেসময় থেকে। সেসময়ে অভিনেতা বলেন, "আর্টিস্ট ফোরাম থেকে আমাকে বলা হয়েছিল, আমি যেন তিন-চার দিন সময় দিই। কথা বলে মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, কেউই কোনও উত্তর দিল না এই বিষয়ে। আর কেউ প্রশ্নও করল না। আমিও তো মানুষ। বহু দিন ধরে কাজও করছি। তাই নিজেই উদ্যোগ নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিলাম।" এবার জীতু-সহ বাকি যেসব শিল্পীরা সোশাল মিডিয়ার পাতায় ফোরামের বিরুদ্ধে 'বিষোদগার' করছিলেন, তাঁদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন খোদ 'ইন্ডাস্ট্রি'।
