হিন্দি মেগার অত্যন্ত পরিচিত মুখ রাজীব খন্ডেলওয়াল। ‘কহী তো হোগা’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজেও হাত পাকিয়েছেন রাজীব। দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নিজেকে খুব একটা লাইমলাইটে রাখতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না রাজীব। তবে ১০ মে মাতৃদিবসের প্রক্কালে প্রয়াত মায়ের ক্যানসারের সঙ্গে অদম্য লড়াইয়ের সেই কঠিন কাহিনি থেকে ব্যক্তিগত অনুশোচনার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন অভিনেতা রাজীব খন্ডেলওয়াল।
‘তুম হো না’শোয়ের সঞ্চালক রাজীব নিজের অনুষ্ঠানের একটি পর্বে তাঁর মায়ের অসুস্থতা নিয়ে কথা বলার সময় বলেন, প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। আর সেই অনুশোচনা আমৃত্যু বহন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজীবের সংযোজন, "মায়ের মৃত্যুতে আমি নিজেকে অনেকটাই দোষী মনে করি কারণ মায়ের যে উপসর্গগুলো দেখা দিয়েছিল তখন আমি সেগুলোর গুরুত্ব বুঝতে পারিনি। দেশের সমস্ত মহিলাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করে এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হচ্ছে, তাই আমি আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ করব যদি কারও দীর্ঘদিন ধরে পিঠে ব্যথা থাকে, খিদে কমে যায়, পেটে ফেঁপে থাকে বা গ্যাসের সমস্যা থাকে তাহলে দয়া করে কোনওরকম গাফিলতি বা বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করান।"
রাজীব বিশেষভাবে মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যাকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের গুরুত্ব ব্যাখা করতে গিয়ে রাজীবের আফসোস, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার যদি প্রথম দিকে ধরা পড়ে, তাহলে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু মায়ের ক্ষেত্রে সেটাই ছিল বিরাট ভুল!
মায়ের সঙ্গে রাজীব
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও প্রতিযোগীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, পরিবারের মহিলাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে এবং কোনও উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। মাকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই নিজেকে সান্ত্বনা, ‘তিনি এখন আমার মধ্যেই বেঁচে আছেন।’
অন্যদিকে মাতৃদিবসে মন ভারাক্রান্ত অভিনেত্রী জারিন খানের। মাকে হারানোর পর প্রথম মাতৃদিবস সেই সঙ্গে ৯ এপ্রিল ছিল মায়ের প্রথম জন্মদিন। সমাজমাধ্যমে প্রয়াত মায়ের উদ্দেশে খোলা চিঠি মেয়ে জারিন খানের। মায়ের জন্মদিনের কেক কাটার একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে জানান, সবাইকে কেক খাওয়ানোর অভ্যাস ও ভালোবাসার ঐতিহ্য বজায় রাখবেন। তিনি লেখেন, 'শুভ জন্মদিন মা। সবাই যেন পেট ভরে খায়, সেটাই ছিল তোমার জীবনের লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, আমি সেই কাজ চালিয়ে যাব।'
মায়ের স্মৃতিচারণায় জারিন
