ফেব্রুয়ারি মাসেই দিল্লি উচ্চ আদালতে বড় স্বস্তি পেয়েছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে এগারো দিন বাদে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান অভিনেতা। জেলমুক্তির পরই শাহজাহানপুরে নিজের পৈতৃক ভিটেতে গিয়েছিলেন। সেখানে পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান পর্ব মিটিয়ে বর্তমানে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়াতেও ফিরেছেন রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। এবার আসন্ন সিনেমা 'ভূত বাংলা'র প্রচারে এসে এগারো দিনের হাজতবাস নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেতা!
"আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গিয়েছে এখন। পুরো বিশ্বের কাছে আমি ঋণী। আর এই ঋণের বোঝাতেই আজীবন ডুবে থাকতে চাই। গত ৪০ বছরে, বহু অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার যেন পুনর্জন্ম হল।..."
সম্প্রতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল, সিনেপর্দার 'ছোটে পণ্ডিতে'র সংশোধনাগারের রোজনামচা। জেলে কীভাবে দিন কাটছিল রাজপাল যাদবের? জানা যায়, বলিউড তারকা বলে তিহাড় জেলে বাড়তি কোনও সুবিধে তিনি পাননি। সংশোধনাগারের বাকি বন্দিদের মতোই অভিনেতার খাওয়াদাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিশ্রামও নিতে হচ্ছিল ঘড়ির কাটা ধরে। বলিউড মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রাজপাল যে 'সেলে' ছিলেন, সেখানে একসময়ে ছোটা রাজন, গ্যাংস্টার নীরজ বাওয়ানার মতো কুখ্যাতদের রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়। সকাল ৬টা বাজতেই রাজপালকে এক কাপ চা আর রুটি দেওয়া হচ্ছিল প্রাতঃরাশ হিসেবে। বারো ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধে ৬টায় আবার রাতের খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছিল। ডাল-ভাত, রুটি-সবজি… ব্যাস! এরপর খিদে পেলেও সংশোধনাগারে আর খাওয়ার অনুমতি ছিল অভিনেতার। এতটুকুই নাকি, তিহাড় জেলে বন্দি থাকাকালীন আরও কোনও চরম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় কৌতুকাভিনেতাকে? বন্ধু অক্ষয় কুমারের সঙ্গে পরবর্তী সিনেমার প্রচারে এসে সেপ্রসঙ্গেই কথা বললেন রাজপাল যাদব।
রাজপাল যাদব। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
"আমি একজন লড়াকু মানুষ। হতে পারি ভিন্ন ধাতুতে গড়া। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। গঙ্গায় ডুবে প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু সেসময় নিজেকে বলি- লড়ে যাও। জেলে থাকার অভিজ্ঞতাটাও সেরকমই।..."
তিহাড়ে কাটানো ওই 'অভিশপ্ত' ১১ দিন যেন অভিনেতার কাছে পুনর্জন্ম! রাজপাল বললেন, "জেল থেকে বেরিয়েই নিজেকে শিশুর মতো মনে হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে জীবনে এখন শুধুই স্বস্তি। আপনারা সবাই এখানে রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, এমনকী সারা বিশ্বের অগণিত মানুষ আমার পাশে এইসময়ে দাঁড়িয়েছেন। কুড়ি বছর যাঁদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছি, বিপদের সময়ে তাঁদের পাশে পাওয়ার থেকে আর বড় প্রাপ্তি কী-ই বা হতে পারে! সে কোনও ছোট শিশু হোক বা বয়োজ্যেষ্ঠ, মানুষ আমার জন্য যথাসাধ্য প্রার্থনা করেছেন। নিজেদের সবটা দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, দর্শক অনুরাগীদের এহেন ভালোবাসাই যেন আমাকে আরও একশো বছর তরুণ করে দিয়েছে।" এরপরই চেক বাউন্স মামলার প্রসঙ্গ টেনে হালকা রসিকতা করে রাজপালের সংযোজন, "সেইজন্যই আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গিয়েছে এখন। পুরো বিশ্বের কাছে আমি ঋণী। আর এই ঋণের বোঝাতেই আজীবন ডুবে থাকতে চাই। গত ৪০ বছরে, বহু অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার যেন পুনর্জন্ম হল।”
দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং কারাবাস অধ্যায় পেরিয়ে এখন কী মনে হয়? প্রশ্ন যেতেই রাজপাল বললেন, "আমি একজন লড়াকু মানুষ। হতে পারি ভিন্ন ধাতুতে গড়া। শৈশবে মৃত্যুকে খুব কাছাকাছি দেখেছি। গঙ্গায় ডুবে প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু সেসময় নিজেকে বলি- লড়ে যাও। জলের প্রবল চাপ তোমাকে নিচের দিকে টেনে নামাতে চায়। ভেসে ওঠার চেষ্টা করো। জেলে থাকার অভিজ্ঞতাটাও সেরকমই।"
