চলতি সপ্তাহের সোমবারই দিল্লি উচ্চ আদালতে বড় স্বস্তি পেয়েছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে অবশেষে এগারো দিন বাদে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেয়ে শাহজাহানপুরে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন বলিউডের কৌতুকাভিনেতা। সেখান থেকেই এবার ফাঁস হল রাজপালের তুমুল নাচের ভিডিও। যা কিনা নেটভুবনে দাবানল গতিতে ভাইরাল।
এইমুহূর্তে দাদার মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজপাল যাদব। গত বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে ভাইঝির বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে সেই আবেদন প্রথমটায় খারিজ হলেও পরে সোমবার বকেয়ার দেড় কোটি মিটিয়ে তারপর জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। এরপরই সোজা শাহজাহানপুরে পৈতৃক ভিটেয় চলে যান রাজপাল। বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ভাইঝির বিয়ে। সেই প্রেক্ষিতেই কৌতুকাভিনেতার বাড়িতে এখন তুমুল ব্যস্ততা। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফাঁস হওয়া ভিডিওতেই ধুতি-কুর্তা পরে একেবারে সাদামাটা পোশাকে মহিলা পরিবেষ্টিত হয়ে বাজনার তালে দেদার নাচ করতে দেখা গেল রাজপাল যাদবকে। আর অভিনেতার সেই ভিডিও এখন নেটভুবনে চর্চার শিরোনামে। জেলমুক্তির পর বলিউড তারকাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দেখে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীমহলও। পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন জেলমুক্তির পর সোশাল মিডিয়ার প্রথম পোস্টে। আগামী ১৮ মার্চ ফের দিল্লি উচ্চ আদালতে চেক বাউন্স মামলার শুনানি। সেদিন কি পুরো বকেয়া মিটিয়ে আইনি জটিলতা কাটাতে পারবেন রাজপাল? নজর সেদিকেই।
জেলে কীভাবে দিন কাটছিল রাজপাল যাদবের? দিন কয়েক আগেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল, সিনেপর্দার ‘ছোটে পণ্ডিতে’র সংশোধনাগারের রোজনামচা। জানা যায়, বলিউড তারকা বলে তিহাড় জেলে বাড়তি কোনও সুবিধে তিনি পাননি। সংশোধনাগারের বাকি বন্দিদের মতোই অভিনেতার খাওয়াদাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিশ্রামও নিতে হচ্ছিল ঘড়ির কাটা ধরে। বলিউড মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রাজপাল যে ‘সেলে’ ছিলেন, সেখানে একসময়ে ছোটা রাজন, গ্যাংস্টার নীরজ বাওয়ানার মতো কুখ্যাতদের রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়। সকাল ৬টা বাজতেই রাজপালকে এক কাপ চা আর রুটি দেওয়া হচ্ছিল প্রাতঃরাশ হিসেবে। বারো ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধে ৬টায় আবার রাতের খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছিল। ডাল-ভাত, রুটি-সবজি… ব্যাস! এরপর খিদে পেলেও সংশোধনাগারে আর খাওয়ার অনুমতি ছিল অভিনেতার। তবে জেলে বলিউড তারকাকে পেয়ে নাকি বেজায় উচ্ছ্বসিত হয়েছিল সেখানকার বাকি বন্দিরা। যদিও নিরাপত্তার কারণে রাজপাল যাদবের সঙ্গে কারও সাক্ষাতের অনুমতি ছিল না, তবে একঝলক দেখার জন্য নাকি থাকত তারা। জেলমুক্তি পর সংশোধনাগার সংস্কারের দাবিও তোলেন রাজপাল যাদব।
