২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় আসরে সাতপাকে বাঁধা পড়েন বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানা (Rashmika Mandanna)। গত দু'সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাত্যভূমের তারকাদম্পতির স্বপ্নের বিয়ের রেশে ডুবে রয়েছে গোটা দেশ। বিয়ের পর 'সংস্কারী' নবদম্পতির দান-ধ্যান এবং আচার-অনুষ্ঠান পালনের রীতিতে মুগ্ধ অনুরাগীমহল। ভূ-ভারতের কাছে এ যেন স্বপ্নের এক বৈবাহিক বন্ধন। তবে এই প্রথমবার বিতর্কের শিরোনামে ঠাঁই পেল বিজয়-রশ্মিকার বিয়ে।
অভিযোগ, 'দেবদেবীর ছবি আঁকা পোশাক শরীরের পশ্চাৎদেশে থাকা মানেই তাঁদের অসম্মান করা।' একাংশ আবার বলছেন, 'এটা হিন্দুধর্মের অপমান!' কারও মন্তব্য, 'ওই কাপড়ে পা এবং নিতম্ব জড়িয়ে রাখা মা লক্ষ্মীর প্রতি অসম্মান।' কেউ বা নবপরিণীতা নায়িকাকে নিদান দিলেন, 'ঈশ্বর এবং দেবদেবীর ছবি পোশাকে আঁকার জন্য নয়।'
বিজয়-রশ্মিকার মেহেন্দি অনুষ্ঠান। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মঙ্গলবারই মেহেন্দি অনুষ্ঠানের সাজপোশাকের ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন তারকাদম্পতি। রোম্যান্স, খুনসুঁটিতে ভরপুর সেসব মুহূর্ত দেখে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ভক্তরাও। যদিও নেটবাসিন্দাদের একাংশের আবার নজর পড়েছে রশ্মিকার পোশাকে। যেখানে মেহেন্দি রঙা লেহেঙ্গার ওড়নায় আঁকা মা লক্ষ্মীর ছবি। বিতর্ক অবশ্য সেটা নিয়ে নয়! আপত্তি উঠেছে, পোশাকের ড্রেপিং নিয়ে। যেখানে দেখা গেল, মা লক্ষ্মী আঁকা ওড়নায় ঢাকা রশ্মিকা মন্দানার পশ্চাৎদেশ। ওড়নার কিয়দংশ লুটোচ্ছে পায়ের কাছে। আর সেই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত নজরে পড়তেই রে-রে করে উঠেছেন নেটপাড়ার নীতিপুলিশদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, 'দেবদেবীর ছবি আঁকা পোশাক শরীরের পশ্চাৎদেশে থাকা মানেই তাঁদের অসম্মান করা।' একাংশ আবার বলছেন, 'এটা হিন্দুধর্মের অপমান!' কারও মন্তব্য, 'ওই কাপড়ে পা এবং নিতম্ব জড়িয়ে রাখা মা লক্ষ্মীর প্রতি অসম্মান।' কেউ বা নবপরিণীতা নায়িকাকে নিদান দিলেন, 'ঈশ্বর এবং দেবদেবীর ছবি পোশাকে আঁকার জন্য নয়।' এহেন নানা মন্তব্যে ছয়লাপ সোশাল পাড়া। এদিকে বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠতেই মুখ খুললেন ফ্যাশন ডিজাইনার তোরানি।
পোশাকশিল্পীর মন্তব্য, "ভারতীয় সংস্কৃতিতে বধূবরণের রীতিকে সবসময়ে মা লক্ষ্মীর আগমনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তিনি সমৃদ্ধি, করুণা এবং নতুন সূচনার দেবী। মায়ের উপস্থিতি নতুন বাড়িতে শান্তি, সম্পদ এবং সম্প্রীতি নিয়ে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই অনুভূতিকে সঙ্গী করেই রশ্মিকা মন্দানার মেহেন্দি অনুষ্ঠানের জন্য এই ওড়না ডিজাইন করা হয়েছে। তবে আমরা এর সঙ্গে দক্ষিণী ছোঁয়া রেখেছি। তাঞ্জোর চিত্রকলার সঙ্গে মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছি। যেখানে সমৃদ্ধির প্রতীক দ্বারা বেষ্টিত লক্ষ্মী একটি পবিত্র মন্দিরের মধ্যে বসে আছেন। আর সেটাই রশ্মিকার পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।"
