shono
Advertisement
Rituparna Sengupta

'কুণালদার একই অঙ্গে এত রূপ জানতাম না', 'কর্পূর'-এ নেতা-অভিনেতার অভিনয়ে মুগ্ধ ঋতুপর্ণা

ধাক্কা খেয়েও উঠে দাঁড়াতে জানেন। রাজনৈতিক থ্রিলার 'কর্পূর' মুক্তির আগে অকপট ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:09 PM Mar 13, 2026Updated: 06:12 PM Mar 13, 2026

ঘোষণার পর থেকেই ‘কর্পূর’ চর্চায়। ট্রেলার, ভিউস হুহু করে বেড়েছে। আপনার কাছে ফিডব্যাক কেমন?
- খুব পজিটিভ ফিডব্যাক। সবাই অনেক কিছু নিয়ে ট্রোল করে, কিন্তু এই ছবিটা নিয়ে লিখছে, অপেক্ষায় থাকব বা খুব দেখার ইচ্ছে আছে। ঋতুপর্ণাকে একদম অন্য লুকে দেখাচ্ছে। বা এই ছবিটার বক্তব্য খুব গভীর। আমরা ওয়েট করছি কবে আসবে। অরিন্দম খুব সুন্দরভাবে প্যাকেজিং করেছে। অনেকগুলো দিক এই ছবিতে উঠে আসছে এবং অনেক চরিত্র। প্রত্যেকেরই তাদের জীবনের মূল্যবোধ এবং টানোপোড়েন আছে। তাদের সঙ্গে মূল ঘটনার সঙ্গে কী সম্পর্ক সেগুলোও খুব সুন্দর করে বার করা হয়েছে।

Advertisement

পঞ্চাশ কোটি টাকার শিক্ষা কেলেঙ্কারি গল্পের কেন্দ্রে। সত্যি ঘটনার ছায়ায় তৈরি ছবি। যার কেন্দ্রে মনীষা মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্য। যে চরিত্রে আপনি এখানে ‘মৌসুমি সেন’। এই চরিত্রটা করতে রাজি হওয়ার কারণ কী?
- আমি যখনই কোনও সাবজেক্ট চুজ করি, বা ছবির কোনও চরিত্র বেছে নিই তখন আমার মনে হয় আমি এই চরিত্রটায় দর্শককে নতুন কী দিতে পারছি। প্রথমত, আমার মনে হয়েছে দীপান্বিতা রায়ের স্বতন্ত্র লেখা থেকে পরিচালকের যে ভাবনা সেটা খুব স্ট্রং। মৌসুমি সেনের চরিত্রে অনেক টানাপোড়েন। তার ইনার কনফ্লিক্টস আছে, প্রফেশনাল টানাপোড়েন আছে। তার পার্সোনাল লাইফ আছে। অন্যদিকে সোসাইটি। একজন নারীকে কত রূপ বদলাতে হয় তার জীবনের অস্তিত্বের জন্য, তা দেখার। তার মায়ের সঙ্গে, স্বামীর সঙ্গে এবং পেশার কারণে এডুকেশন সিস্টেমের সঙ্গে, একজন প্রফেসর হিসাবেও কিন্তু অনেক চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয়। এগুলো কিন্তু রাজনৈতিক কারণ ছাড়াই বলছি। আমরা অনেক সময় অফিস পলিটিক্সের জন্য হতাশ হয়ে যাই। কেউ হয়তো সেই অফিসেই আর যেতে চায় না। এমন নজিরও আছে বসের প্রেশারের জন্য কেউ সুইসাইডও করেছে। ছবিটা যে বিষয়ের রেফারেন্সেই হোক না কেন, গল্পটা খুব শক্তিশালী। আমি চলে গিয়েছিলাম মৌসুমি সেনের ওই সময়ে, প্রফেসর হিসাবে সে কত চ্যালেঞ্জ ফেস করেছে সেটাই ছবির উপজীব্য।

ব্রাত্যদা অসম্ভব ডেডিকেটেড থিয়েটার পার্সন, অভিনেতা। তাঁর গুণের শেষ নেই। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় পরে এসেছে। ব্রাত্যদার সঙ্গে কাজ করাটা ডিলাইট। ব্রাত্যদা একটা সিনকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায়! অনন্যা খুব মিনিংফুল রোল করেছে। আমার খুব ভালো লেগেছে। এবং অবশ্যই কুণালদা ইজ আ রিভিলেশন। কুণালদার একই অঙ্গে এত রূপ জানতাম না (হাসি)। কুণালদা যে এত ন্যাচারাল অভিনয় করতে পারবে বুঝতেই পারিনি।

অরিন্দম শীলের পরিচালনায় এর আগে আপনি ‘মায়া কুমারী’ করেছিলেন। সেই অর্থে ওঁর সঙ্গে আপনার দ্বিতীয় ছবি। এই ছবির মাধ্যমেই কুণাল ঘোষ সিনেমায় এলেন, তিনি এক রাজনীতিকের চরিত্রেই। ব্রাত্য বসু রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ডিটেক্টিভের চরিত্রে। অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় নিউজ পার্সনের রোলে। তিনজনেরই রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। এঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
- ব্রাত্যদার সঙ্গে আমি অনেক কাজ করেছি। ব্রাত্যদা অসম্ভব ডেডিকেটেড থিয়েটার পার্সন, অভিনেতা। তাঁর গুণের শেষ নেই। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় পরে এসেছে। ব্রাত্যদার সঙ্গে কাজ করাটা ডিলাইট। ব্রাত্যদা একটা সিনকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায়! অনন্যা খুব মিনিংফুল রোল করেছে। আমার খুব ভালো লেগেছে। এবং অবশ্যই কুণালদা ইজ আ রিভিলেশন। কুণালদার একই অঙ্গে এত রূপ জানতাম না (হাসি)। কুণালদা যে এত ন্যাচারাল অভিনয় করতে পারবে বুঝতেই পারিনি। কোনও কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। অপূর্ব সব অভিনেতারা আছেন। লহমা, অর্পণের কথা বলব, অত্যন্ত প্রমিসিং। সাহেব, রুমকিদি, বিদীপ্তাও খুব ভালো করেছে।

কর্পূর-এর ট্রেলার লঞ্চে ঋতুপর্ণা, সাহেব, লহমা।


এতজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করলেন, আপনার কাছে রাজনৈতিক অফার আসেনি?
- রাজনীতিটা আমার এরিয়া নয়, বুঝি না। নিজের জীবনের পলিটিক্সই হ্যান্ডল করতে পারি না। ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্সও পারি না। সেখানে বোকা বনে যাই। কাঁদি, ধাক্কা খাই। আবার উঠি। এই করেই আমার জীবন চলে গেল। কিন্তু আমার সিনেমায় যদি কোনও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকে, তাহলে সেটা আমি অভিনয় শৈলী দিয়ে বের করার চেষ্টা করব। সেটা আমার শিল্পের এরিয়াতে পড়ে।

ইদানীংকালে বেশ কয়েকবার স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক হয়েছে। যেখানে আপনাকে যেতে দেখা গিয়েছে। স্ক্রিনিং কমিটির ভূমিকা
নিয়ে কি খুশি?
- স্ক্রিনিং কমিটি একটা চেষ্টা করেছে, এত কিছুর মধ্যে তারা যদি একটা স্ট্রিম লাইন করে দিতে পারে, যদি সাকসেস হয়, তা হলে খুব ভালো। আর যদি সাকসেসফুল না হয়, তা হলেও আমি মনে করি যঁারা ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর, প্রোডিউসার আছেন তঁাদেরও জায়গা দিতে হবে। আমরা যদি একটা ব্যালান্স করতে পারি, ভালো হয়। আমি কিছু বিষয়ে সহমত, কিছু বিষয়ে না। সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই যায়।

১৯ মার্চ ‘কর্পূর’ আসছে। সেই সময় ‘ধুরন্ধর ২’ আসছে। ‘কর্পূর’ নিয়ে কতটা আশাবাদী?
- বিষয়গত ভাবে ‘কর্পূর’ খুব শক্তিশালী ছবি। ‘ধুরন্ধর’-এ অভিনয় যেমন, বিষয়টাও স্ট্রং সেটা জানি। তবে আমাদের সময়েও কিন্তু তিন-চারটে দুর্দান্ত সিনেমা একসঙ্গে রিলিজ হয়েছে, সেখানে সবই চলেছে। মনে করি ‘কর্পূর’-এর যারা অডিয়েন্স নিশ্চয়ই ‘কর্পূর’-কে জাস্টিস করবে। দর্শককে অ্যাপিল করব যে, বাংলা সিনেমা তো আপনাদের জন্যই বানাই, আপনারা নিশ্চয়ই দেখবেন। এই ছবিতে মানুষের বিবেক দর্শন হবে। সকলের দেখা উচিত।

"আমি এটাই মনে করি যে, জীবনটা যত খোলা থাকবে, ভালো কিছু আমি জীবনে অ্যাকসেপ্ট করতে পারব, সেটা হলেই হবে। তবে দেবের সঙ্গে আমার এখনও কোনও কাজ হয়নি, হতেও পারে।"

কিছুদিন আগে আমরা দেখেছিলাম কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবি হবে কি?
-  নিশ্চয়ই হবে। আশাবাদী। একটা মিটিং হয়েছে। আমরা ভাবছি।

সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে আপনি নাকি ছবি করতে পারেন?
- একটা সম্ভাবনা আছে।

ট্রেলার লঞ্চে টিম কর্পূর।


হনসল মেহতার সঙ্গে সিরিজের কাজটা কি হল?
- হয়ে গেছে। ওটাও আসবে শিগগির।
‘প্রজাপতি ২’-এর পার্টিতে আপনাকে দেখলাম চমৎকার আড্ডা দিচ্ছেন দেবের সঙ্গে। ছবি হবে কি?
- হতেও পারে। সবসময় ওপেন থাকা উচিত (হাসি)। আমি জীবনে অত হাইড অ্যান্ড সিক করি না। আমি এটাই মনে করি যে, জীবনটা যত খোলা থাকবে, ভালো কিছু আমি জীবনে অ্যাকসেপ্ট করতে পারব, সেটা হলেই হবে। তবে দেবের সঙ্গে আমার এখনও কোনও কাজ হয়নি, হতেও পারে।

কোয়েল রাজনীতিতে এলেন। কোয়েলের সঙ্গে কথা হয়েছে?
- কোয়েলের সঙ্গে আমার একটা বিয়েবাড়িতে দেখা হয়েছিল। আমি অভিনন্দন জানালাম। কোয়েল বলল, আমি জানি না কী হচ্ছে। আমি ওকে অনেক বেস্ট উইশেস জানালাম। ওর একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। আই উইশ হার অল দ্য বেস্ট। (হাসি)

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement