সায়নী ঘোষের (Saayoni Ghosh) মাথা কাটলেই ১ কোটি টাকা পুরস্কার! সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিতের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্কের ঝড়। বছর দশেক আগে 'শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরানো'র ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করে জোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সায়নী। পরবর্তীতে একাধিকবার সেই ইস্যু 'অভিশাপে'র মতো ফিরে ফিরে এসেছে নেত্রী-অভিনেত্রীর জীবনে! এবার সংশ্লিষ্ট বিতর্ক টেনে হিন্দু ভাবাবাগে আঘাতের দাবি তুলে সায়নী ঘোষের শিরচ্ছেদের পুরস্কার ঘোষণা করেন উত্তরপ্রদেশের ওই বিজেপি নেতা। যে ভিডিও ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিকমহল। এবার 'প্রকাশ্য়ে খুনের হুমকি' নিয়ে তৃণমূলের তারকা সাংসদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কী বার্তা দিলেন?
"আমি অত্যন্ত স্তম্ভিত যে উত্তরপ্রদেশের সিকন্দরাবাদের এক পুরপ্রধান তথা বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে আমার মাথা কেটে আনার জন্য ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।..."
শিবের বিরুদ্ধে অবমাননাকর পোস্ট নিয়ে যদিও অভিনেত্রী-সাংসদ সাফ জানিয়েছিলেন, সেসময়ে তাঁর এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করা হয়েছিল। তৎসত্ত্বেও বারবার এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। এবার সেই বিষয়টি নিয়েই নতুন করে মাথাচাড়া দিল বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে উত্তরপ্রদেশের সিকন্দারাবাদে গত রবিবার এক প্রতিবাদ সভার ডাক দেয় হিন্দু সংগঠনগুলি। যেখানে বলা হয়, 'সায়নীর মন্তব্য হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করেছে।' এবার সেবিষয়েই বিজেপি সরকারের উদ্দেশে তোপ দাগলেন সায়নী ঘোষ। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, নীতিন নবীন, বাংলার নতুন মখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ট্যাগ করে সাসদ-অভিনেত্রীর মন্তব্য, "আমি অত্যন্ত স্তম্ভিত যে উত্তরপ্রদেশের সিকন্দরাবাদের এক পুরপ্রধান তথা বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে আমার মাথা কেটে আনার জন্য ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যের একজন বিজেপি জনপ্রতিনিধির একজন মহিলা তথা বর্তমান সংসদের মাথা কাটার ফতোয়া জারি করা— এটাই কি আপনাদের 'নিউ ভারত'-এর 'নারী শক্তি বন্দন' প্রকল্পের আসল রূপ?"
সায়নী ঘোষ। ফাইল ছবি
৪মে'র আগে পর্যন্ত বিরোধী শিবিরকে 'দেখে নেব' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। যেখানে ভোট পরবর্তী হিংসায় উসকানি দেওয়ার 'ইন্ধন'ই দেখেছিলেন ওয়াকিবহালমহল। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় 'বাড়বাড়ন্তের' অভিযোগও উঠেছিল তৃণমূলের তারকা সাংসদের বিরুদ্ধে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি হতেই সুর নরম সায়নী ঘোষের।
শুধু তাই নয়, নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করার দাবিও জানিয়েছেন সায়নী ঘোষ। নেত্রী-অভিনেত্রীর কথায়, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিনিধিত্বকে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেখানে একজন নির্বাচিত মহিলা সাংসদকে খোদ আপনারাই প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিচ্ছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে আমাকে খুন করার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার আর্জি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ওই বিজেপি নেতার উদ্দেশে সায়নীর চ্যালেঞ্জ, তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী নন, বরং এযাবৎকাল সংসদের ভিতরে-বাইরে যেভাবে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলে এসেছেন, বরাবরের মতো সেটাই করবেন। যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদের সাফ কথা, 'কোনও হুমকি বা ধমকির মুখে আমাকে চুপ করানো যাবে না।'
উল্লেখ্য, ৪মে'র আগে পর্যন্ত বিরোধী শিবিরকে 'দেখে নেব' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। যেখানে ভোট পরবর্তী হিংসায় উসকানি দেওয়ার 'ইন্ধন'ই দেখেছিলেন ওয়াকিবহালমহল। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় 'বাড়বাড়ন্তের' অভিযোগও উঠেছিল তৃণমূলের তারকা সাংসদের বিরুদ্ধে। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি হতেই সুর নরম সায়নী ঘোষের। হম্বিতম্বি ভুলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি।
