শাহরুখ খান, আসমুদ্রহিমাচল তথা বিশ্বের অগণিত অনুরাগীদের কাছে তিনি রোম্যান্স কিং কিংবা মেগাস্টার হলেও ঘনিষ্ঠমহল জানে বাদশা কতটা 'ফ্যামিলি ম্যান'? স্টারডম, কোটি কোটি টাকার ব্যবসা সামলেও যিনি যত্ন করে আগলে রাখেন নিজের পরিবারকে। তাঁর জীবনদর্শন বরাবরই ভক্তদের কাছে ব্যকরণসম। এবার স্ত্রী গৌরী খানের মামা এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ কতটা সংবেদনশীল? তার উদাহরণ দিলেন।
গভীর রাতে শুটিং থেকে ফিরে শাহরুখ যখন জানতে পারেন যে, তাঁর প্রিয় পোষ্য আর নেই, তখন তিনি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই এমন এক পদক্ষেপ করে বসেন, যাতে সকলের চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার জোগাড় হয়!
জানা যায়, গৌরীকে ভালোবাসে একটি পোষ্য কুকুর উপহার দিয়েছিলেন বাদশা। সেই পোষ্যের প্রতি নিজেও এমন মায়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বাদশা যে বাড়িতে থাকলে তাকে চোখের আড়াল করতেন না। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যেই সেই পোষ্যর মৃত্যু হয়। আর যেদিন কুকুরটি মারা যায়, সেদিন শাহরুখ শুটিংয়ের জন্য বাইরে ছিলেন। ফলত, মালিকের অনুপস্থিতিতে বাড়ির পরিচারকরা পোষ্যের দেহ কাপড়ে মুড়ে সমুদ্রের ধারে কবর দিয়ে দেন। কিন্তু গভীর রাতে শুটিং থেকে ফিরে শাহরুখ যখন জানতে পারেন যে, তাঁর প্রিয় পোষ্য আর নেই, তখন তিনি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই এমন এক পদক্ষেপ করে বসেন, যাতে সকলের চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার জোগাড় হয়!
পোষ্যর সঙ্গে শাহরুখ-গৌরী। ছবি- সংগৃহীত
রাত আড়াইটের সময়ে শাহরুখ বাড়ির পরিচারকদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রিয় পোষ্যকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে? সেই জায়গা দেখাতে বলেন। এরপর গভীর রাতে সমুদ্রের ধারে গিয়ে বাদশা নিজেই মাটি খুঁড়ে পোষ্য সারমেয়র দেহ তুলে বাড়িতে আনেন এবং কাঁদতে কাঁদতে পিছনের বাগানে নিজে হাতে সযত্নে সমাধি দেন। ছেড়ে কথা বলেননি গৃহকর্মীদেরও। কড়া ভাষায় বলেন, "ও বেঁচে থাকুক বা না থাকুক, কিন্তু আমাদের সঙ্গেই থাকবে। কোন সাহসে ওকে এভাবে ফেলে দিয়ে এলে তোমরা?" গৌরী খানের মামার ভাগ করে নেওয়া এই ঘটনাই বলে দেয় মানুষ হিসেবে শাহরুখ কতটা সংবেদনশীল। আসলে বাদশা বরাবরই পশুপ্রেমী। তার বাড়িতেও একাধিক পোষ্য রয়েছে।
