দীর্ঘ ৯ বছরেও সোনিকা চৌহান মৃত্যুমামলার বিচার অধরা। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় জনপ্রিয় মডেল সোনিকা চৌহানের। যে মামলা আজও বিচারাধীন। সেসময় এই ঘটনা ঘিরে টলিপাড়ায় নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কিন্তু বছরের পর বছর 'তারিখ পে তারিখ' এলেও এই মামলার কোনও সুরাহা হয়নি এযাবৎকাল। ২১ জুলাই, মঙ্গলবার, সংশ্লিষ্ট মামলাতেই আলিপুর আদালতে হাজিরা দেন সাহেব ভট্টাচার্য। আর এদিন কোর্ট থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোনিকা মামলায় অভিযুক্ত অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক সাহেব।
"সরকার বদলের পরই হঠাৎ এই মামলার পরপর হিয়ারিং শুরু হয়ে গেল। কাকতালীয় না বিষয়টা?..."
সোনিকা চৌহান মৃত্যুমামলায় ৯ বছরেও বিচার অধরা। বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে 'প্রাক্তন সরকার ঘনিষ্ঠ' হওয়ার অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক সাহেব।
সাহেব জানান, "দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একটা মামলা চলছে, কোনও অগ্রগতি হয়নি। এই প্রথমবার আমি আদালতে এসেছি নিজের বক্তব্য রাখতে। ২০১৭-তে ঘটনাটি ঘটার সময় বড় প্রতিবাদ হয়েছিল। কিন্তু যে কোনও প্রতিবাদ দমিয়ে দেওয়ার সহজ উপায় হলো সেটাকে দীর্ঘমেয়াদী করে দেওয়া। প্রথমদিকে বহু মানুষ পাশে ছিলেন, পরে অনেকে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন, অনেকে ভুলেও গেছেন। কিন্তু দুটো মানুষ ৯ বছর ধরে লড়ে গিয়েছেন- সোনিকার মা-বাবা। সোনিকার মা (শারন সিংহ চৌহান) ৯ বছর ধরে ওর সমাধিতে ফুল শুকোতে দেননি।" সরকার বদলাতেই কীভাবে সোনিকা মৃত্যুমামলা গতি পেল? সেই প্রশ্ন তুলেও বিস্ফোরক দাবি করেন সাহেব। তাঁর কথায়, "সরকার বদলের পরই হঠাৎ এই মামলার পরপর হিয়ারিং শুরু হয়ে গেল। কাকতালীয় না বিষয়টা? আগের সরকারের ভীষণই স্নেহভাজন ছল বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। এবার রাজ্যে সরকার বদলাতেই মামলা গতি পেল। বাকিটা বুদ্ধিমানরা বুঝবেন!"
সোনিকা চৌহান মৃত্যুমামলায় আদালতে হাজিরা সাহেব ভট্টাচার্যর।
দুর্ঘটনার পর বিক্রমের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অবহেলার কারণে মৃত্যু-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। যার জেরে অভিনেতা গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীকালে তিনি জামিনে ছাড়া পান।
২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে কলকাতার রাসবিহারী কানেক্টর সংলগ্ন এলাকায় ভহাবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি। সেসময়ে গাড়িতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন সোনিকা চৌহান। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় দু'জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা সোনিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই মামলা গড়ায় আদালতে। দুর্ঘটনার পর বিক্রমের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অবহেলার কারণে মৃত্যু-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। যার জেরে অভিনেতা গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীকালে তিনি জামিনে ছাড়া পান। তারপর থেকেই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলছে। সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের অংশ হিসেবেই সাহেব ভট্টাচার্যকে আদালতে ডাকা হয়। কারণ সোনিকা শুধু সাহেবের সহকর্মী ছিলেন না, দীর্ঘ চার বছর সম্পর্কেও ছিলেন তাঁরা। সোনিকার মৃত্যুর পর নিজেকে গুটিয়েও নিয়েছিলেন তিনি! সেকারণেই সোনিকা মৃত্যুমামলায় তাঁর সাক্ষ্যকে শুরু থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
