বিজেপি বিধায়ক রাজেশ্বর সিংয়ের লখনউয়ের এক কর্মসূচীতে যোগ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে গিয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত। খবর, পদ্মশিবিরের বিধায়কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সরোজিনী নগরকে 'সুজলা-সুফলা' বানানোর অভিযানে নেমেছেন বলিউড অভিনেতা। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন লখনউতে এক রোড শো করে বক্তৃতা রাখেন সঞ্জুবাবা। আর কাজ সেরেই সেখান থেকে সোজা পৌঁছে যান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়িতে। সেই সাক্ষাৎ পর্বের মুহূর্ত নেটভুবনে ভাগ করে নিয়েছেন খোদ সঞ্জয় দত্ত। পাশাপাশি যোগীর আপ্যায়ণে মুগ্ধতাও প্রকাশ করেন তিনি। আর সেই 'ফ্রেম' দেখেই ভক্তমহলে ফিসফাস!
২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লখনউ কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার কথা ছিল সঞ্জয় দত্তের। 'কাট টু' ২০২৬ সাল। গেরুয়া উত্তরীয় পরে যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনে অভিনেতা। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আদ্যোপান্ত কংগ্রেস সমর্থক পরিবারের সদস্য হয়ে সঞ্জয় দত্ত বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন?
আদিত্যনাথের সঙ্গে করমর্দনের ছবি ভাগ করে নিয়ে সঞ্জুবাবার মন্তব্য, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে লখনউয়ে দেখা করে খুবই ভালো লাগল। আমাদের মধ্যে শুভেচ্ছা ও ইতিবাচক ভাবনার যে আদানপ্রদান হল, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।" আর বলিউড তারকার এহেন পোস্ট দেখেই রাজনৈতিক অভিসন্ধির গন্ধ খুঁজে পাচ্ছে নেটপাড়া। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আদ্যোপান্ত কংগ্রেস সমর্থক পরিবারের সদস্য হয়ে সঞ্জয় দত্ত বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? কারও বা কৌতূহল, 'নাকি মুন্নাভাই রাজ্যসভার টিকিটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন?' যদিও সেসব উত্তর আপাতত সময়ের গর্ভে, তবে যোগী সাক্ষাতের পরই সঞ্জয় দত্তের সক্রিয় রাজনৈতিক ইনিংস শুরুয়াতের গুঞ্জন তুঙ্গে।
শোনা যায়, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে লখনউ কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার কথা ছিল সঞ্জয় দত্তের। প্রায় দু'দশক আগে সংশ্লিষ্ট পার্টির তরফে প্রস্তাব পেয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেসময়ে আইনি জটিলতার জন্য নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেননি সঞ্জুবাবা। 'কাট টু' ২০২৬ সাল। গেরুয়া উত্তরীয় পরে যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনে অভিনেতা। যা দেখে সোশাল পাড়ার একাংশের অনুমান, সঞ্জয় দত্ত সম্ভবত এবার রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করতে চলেছেন। যদিও অভিনেতার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এটা নিছকই সৌজন্য় সাক্ষাৎ কিন্তু গুঞ্জনের দাবানল এখানই থামতে নারাজ!
উল্লেখ্য, সঞ্জয় দত্তর পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সঞ্জয় দত্তের বাবা সুনীল দত্ত ছিলেন পাঁচবারের কংগ্রেস সাংসদ। ২০০৪ থেকে আমৃত্যু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন সুনীল দত্ত। বোন প্রিয়া দত্তও কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের সময় বোন প্রিয়ার হয়ে ভোটপ্রচার করতে দেখা গিয়েছিল সঞ্জয় দত্তকেও। এবার কি গেরিয়া শিবিরের হাত ধরে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করবেন সঞ্জুবাবা? নজর থাকবে সেদিকে।
