চলচ্চিত্র পরিচালক সঞ্চয়লীলা বনশালির সিনেমা মানেই 'লার্জার দ্যান লাইফ'। বিভিন্ন সময় তাঁর ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভাঙা হয়েছে শুটিং সেট। এমনকী বিরোধীতার মুখে সিনেমা থেকে বেশ কিছু দৃশ্য ছাটাই পর্যন্ত করতে হয়েছে। তবে সঞ্জয়লীলা বনশালির ছবি ঘিরে সিনেপ্রেমীদের প্রত্যাশার পারদ সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী থাকে তা বললে অত্যুক্তি হবে না। আগামী প্রোজেক্ট 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার'। বিগ বাজেটের এই ছবিতে রণবীর কাপুরের সঙ্গে রয়েছেন আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশল। শুটিং চলাকালীন এক ক্রু মেম্বারের মৃত্যুতে চাপ বাড়ছে পরিচালকের, বিপাকে বনশালির প্রযোজনা সংস্থা।
অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুরোধ করেছে। FSSAMU যৌথভাবে প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ লক্ষ ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। এবার আরও একধাপ এগিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ফিল্ম সংগঠন। পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালির (Sanjay Leela Bhansali) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের থেকে মৃতের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবির কথা উল্লেখ রয়েছে।
এফআইআর দায়ের হতে পারে পরিচালকের বিরুদ্ধে
চিঠি পাঠিয়েছেন অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত। সংগঠনের এক্স হ্যান্ডেলে সেই চিঠি পোস্টও করা হয়েছে। যার একাংশে উল্লেখ রয়েছে, 'এই ঘটনা সিনেমার শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল এবং আলিয়া ভাটের মতো তারকাদের নিয়ে নির্মিত বড় বাজেটের এই ছবির সেটে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়নি। যার ফলে একজন কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর করা হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত।'
শুটিং সেটে মর্মান্তিক মৃত্যু
প্রসঙ্গত, মৃত ব্যক্তি চন্দ্রধারী সিং যাদবের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কন্যাসন্তান। একমাত্র উপার্জনকারীর অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবার! আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করেই ফিল্ম সংগঠন মোটা টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। অতীতে বানশলির শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া অন্যান্য দুর্ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত।
তিনি লিখেছেন, 'এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বছরের পর বছর ধরে সঞ্জয়লীলা বানশালির শুটিং সেটে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ‘দেবদাস’ ছবি তৈরির সময় দীনদয়াল যাদব প্রাণ হারান এবং আরও একজন গুরুতরভাবে আহত হন। এই ছবিরই শুটিং চলাকালীন সুভাষ মোরকার নামের আরও এক কর্মীরও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পদ্মাবত ছবি নির্মাণের সময় ৩৪ বছর বয়সি মুকেশ ডাকিয়া দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বলে জানা যায়। সর্বশেষ, লাভ অ্যান্ড ওয়ার ছবির শুটিংয়ের সময় ১৭ জুন ২০২৬-এ চন্দ্রধারী সিং যাদব মৃত্যুবরণ করেন।'
এই ঘটনায় যুক্ত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, 'প্রযোজক সঞ্জয় লীলা বানশালি, সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুন, অনিচ্ছাকৃত হত্যা, অবহেলার জন্য এফআইআর দায়ের করা হোক। সঠিক তদন্তের স্বার্থে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। সেই সঙ্গে শুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হোক। মৃত কর্মী চন্দ্রধারী সিং যাদবের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি। তাঁর বিধবা স্ত্রীকে উপযুক্ত চাকরি বা আর্থিক সহায়তা, দুই কন্যার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।'
বিপদে বনশালি
চিঠির শেষাংশে তিনি আরও লেখেন, 'শুটিং অবিলম্বে স্থগিত করা হোক। যতক্ষণ না কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। মহারাষ্ট্রের সব চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আছে কিনা তা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হোক। ভবিষ্যতে এধরনের মর্মান্তিক ঘটনা রোধে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হোক।'
