গোমাংস বিতর্ক নিয়ে সোশাল পাড়ার দাবানল এখনও বহাল। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংসের পদ পরিবেশন করা পানশালার বেয়ারার ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দাগায় তুমুল সমালোচিত হতে হচ্ছে সায়ক চক্রবর্তীকে (Sayak Chakraborty)। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অভিনেতা তথা ইনফ্লুয়েন্সারের নামের পাশে 'বিজেপির পোস্টার বয়' তকমাও জুটেছে! ধর্মীয় মেরুকরণের পালে হাওয়া লেগে বিনোদুনিয়ার ইস্যু এখন রাজনৈতিক ময়দানের 'টক অফ দ্য টেবিল'। যদিও সায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া শেখ নাসির উদ্দিন মঙ্গলবারই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। এবং জেল থেকে বেরনোর পর আদালতে 'বিচারাধীন' ঘটনায় এখনও মৌন তিনি, তবে 'শ্রমজীবী' বেয়ারার হেনস্তার অভিযোগে সায়কের বিরুদ্ধে বর্তমানে নিত্যদিন নিত্যনতুন ত্বত্ত্ব চাউড় হচ্ছে।
রেস্তরাঁর পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, 'অর্ডার স্লিপে বিফ স্টেকেরও উল্লেখ রয়েছে। আগামীতে তা কোর্টে পেশ করা হবে।' তাহলে কি ব্রাহ্মণ সন্তানকে গোমাংস খাওয়ানোর দাবি পুরোটাই স্ক্রিপ্টেড?
শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? প্রকৃত দোষী কে? এহেন কৌতূহল যখন বহাল, তখন শোনা গেল, এদিন সায়ক চক্রবর্তী, অনন্যা গুহ, সুকান্ত কুণ্ডুদের দেওয়া অর্ডারে মাটন এবং বিফ, দুই পদেরই উল্লেখ ছিল। ফেসবুক লাইভে সায়ক জানিয়েছিলেন, "ওয়েটার খাবার পরিবেশন করার পর প্রথমটায় খিদের পেটে না বুঝে খেয়ে ফেলেছিলাম। তবে উনি আরেকটা স্টেকের প্লেট এনে আমাদের টেবিলে রাখাতে আমরা বিষয়টা বুঝতে পারি। অনেকেই বলছেন, পুরো প্লেট শেষ করে আমরা প্রতিবাদ করেছি, ব্যাপারটা সেটা নয়। আমি এবং অনন্যা শুধু চেখে দেখছিলাম। এর মাঝেই উনি আমাদের টেবিলে মাটনের পদ রেখে যান। অথচ আমরা একটাই স্টেক অর্ডার করেছিলাম। তখনই ওই বেয়ারাকে জিজ্ঞেস করাতে উনি বলেন, আমরা নাকি ২টো স্টেকের পদ অর্ডার করেছি। একটা মাটন আরেকটা বিফ! সেসময়ে আমি প্রতিবাদ করি। অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।" যদিও সেই লাইভের অস্তিত্ব আপাতত নেই সায়কের প্রোফাইলে। তবে খবর, রেস্তরাঁর পক্ষের আইনজীবী নাকি জানিয়েছেন, 'অর্ডার স্লিপে বিফ স্টেকেরও উল্লেখ রয়েছে...।' তাহলে কি ব্রাহ্মণ সন্তানকে গোমাংস খাওয়ানোর দাবি পুরোটাই স্ক্রিপ্টেড? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটভুবনে। পাশাপাশি এও জানা গিয়েছে যে, রেস্তরাঁর ওই বিল আগামীতে কোর্টে পেশ করা হবে। সেই প্রেক্ষিতেই সায়ককে পার্ক স্ট্রিটের ওই রেস্তরাঁর বিল প্রকাশ্যে আনার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন সোশাল পাড়ার বাসিন্দারা।
জামিন পেলেন অলি পাবের বেয়ারা, ছবি- ফেসবুক
জানা যায়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা) মামলা রুজু হয়েছিল পানশালার বেয়ারার বিরুদ্ধে। সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখেছে এই ধারায়। তবে গত রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে 'অনিচ্ছাকৃত ভুলের' জন্য সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেয়ারার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন সায়ক চক্রবর্তী। কিন্তু বেয়ারা জামিন পেলেও সাম্প্রদায়িক হিংসায় উসকানির দেওয়ার অভিযোগে অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর এখনও বহাল। যে এই অভিযোগ শনিবার রাতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব। এবার আদালতে অর্ডার বিল পেশ করা হলে সায়ক চক্রবর্তী যে আইনি বিপাকে পড়তে পারেন, তেমনটাই মত ওয়াকিবহালমহলের। এবার প্রশ্ন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তিনি কি বিল প্রকাশ্যে আনবেন?
