বাদল অধিবেশনের পয়লা দিনেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) 'সংসদ অভিযান' ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি। নিট প্রশ্নফাঁস তৎসহ কেন্দ্রীয় শিক্ষমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলন রুখতে যন্তর মন্তর চত্ত্বর ৫০০০ পুলিশ ও আধা সেনা নামায় কেন্দ্র। এরপরেও ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগনোর চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, একসময়ে বিক্ষোভকারীদের রুখতে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস, চালানো হয় জলকামান। সোমবার সেই আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন শাবানা আজমি।
শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা কর্মীদের গেট খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন, যাতে শাবানাকে ভিড়ের মধ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর পরিচয় তুলে ধরে কাকুতি-মিনতি করতেও শোনা যায় তাঁদের।
'ককরোচ'দের বিক্ষোভে শাবানা আজমি।
এদিন যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে 'চলো সংসদ' কর্মসূচির বেশ কয়েকটি ছবি-ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানেই একটিতে শাবানা আজমিকে প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় দেখা গেল। চোখেমুখে ক্লান্তি, হাফ ধরা ছাপ স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, একা নিজে চলতে পর্যন্ত পারছিলেন না প্রবীণ অভিনেত্রী। নেটভুবনে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতেই দেখা গেল, কয়েক জন বিক্ষোভকারী শাবানা আজমিকে আগলে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক কী ঘটেছিল? দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা কর্মীদের গেট খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন, যাতে শাবানাকে ভিড়ের মধ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর পরিচয় তুলে ধরে কাকুতি-মিনতি করতেও শোনা যায় তাঁদের। এরপর প্রবীণ অভিনেত্রী একটি নিরাপদ কক্ষে নিয়ে গিয়ে বসানো হয়। যদিও ঠিক কেন অসুস্থ হয়ে পড়েন শাবানা? সেকারণ জানা যায়নি, তবে এহেন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত দেখেই শাবানার জন্য উদ্বিগ্ন ভক্তমহল। খোঁজ নিলেন সিনেপাড়ার ঘনিষ্ঠরাও। কারও প্রশ্ন, 'আপনি ঠিক আছেন তো ম্যাডাম?' কেউ বা বললেন, 'এই বয়সে এহেন ধকল শরীরে সহ্য না হওয়ায় স্বাভাবিক।'
এদিন যন্তর মন্তরে এসে শাবানা আজমি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে দেখা করেন। এদিন 'ককরোচ'দের অনশনমঞ্চে যোগ দিয়ে শাবানা আজমি সকলের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলনকারীদের হাতে সম্মানের চুমু এঁকে দেন। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, "জল যখন মাথার উপর দিয়ে বইতে শুরু করে, তখনই আমি কথা বলি। এখন আর প্রতিটা ছোট-বড় ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দিই না, আমার ৭৫ বছর বয়স হয়েছে। আমি সব দেখে নিয়েছি ইহজীবনে। এখন শুধু সেসব বিষয়েই কথা বলি, যেগুলি আমাকে ভিতর থেকে নাড়া দেয়।" প্রবীণ অভিনেত্রীর সংযোজন, "প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। জাভেদ সাহেব তাঁর চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, আপনি আলোচনা শুরু করুন, আমরা প্রেসের কাছে যাচ্ছি না। রাজ্যসভার একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে এই কথাটা বলছি- আমাকে আগে বলা হল, ২ দিনে উত্তর আসবে, ২ দিনে কোনও উত্তর এল না, ৩ দিনেও না। এমনকী ৪ দিনেও যখন কোনও উত্তর এল না, তখন আমরা এখানে এলাম।"
