তেইশ সালে দক্ষিণী পরিচালক অ্যাটলির ফ্রেমে একই অঙ্গে 'বহুরূপ' দেখিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিলেন কিং খান। যে ছবিতে কখনও দেশের কৃষক আত্মহত্যার পরিসংখ্যান উল্লেখ করে নির্বিকার আমজনতাকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, আবার কখনও বা গল্পের মোচড়ে আশির দশকের আগ্নেয়াস্ত্র কেলেঙ্কারির ঘটনা থেকে সরকারি হাসপাতালের হতদরিদ্র দশার কথা মনে করিয়েছিলেন বাদশা। রোজকার ডালভাতের চিন্তা করা আমজনতাকে শিখিয়েছিলেন- জনতাই জনার্দন, তাই ইভিএম মেশিনে আঙুল রাখার আগে তার সদ্ব্যবহার শিখুন। এবার খবর, ফের একবার পর্দায় সরকার নির্বাচনের পাঠ দিতে আসছেন শাহরুখ খান।
'জওয়ান'-এর চরিত্ররা।
'জওয়ান' বক্স অফিসে সাড়া ফেলার পর অনেকেই সিক্যুয়েলের আবদার করেছিলেন। কিন্তু অ্যাটলি সেসময়ে বলিউড-দক্ষিণ মিলিয়ে একাধিক বিগবাজেট ছবি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে এবার খবর, চুপিসারেই 'জওয়ান ২'-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন দক্ষিণী পরিচালক। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, তেইশ সালে ঝড় তোলা সিনেমার সিক্যুয়েল এখন আর শুধু পরিকল্পনা স্তরে নেই, বরং মাসখানেক ধরেই এই ছবির চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেছেন অ্যাটলি। প্রাথমিক খসড়া একেবারে চূড়ান্ত। এবার বহু প্রতীক্ষিত 'কিং' ছবির কাজ মিটলেই নাকি খানিক বিরতি নিয়ে 'জওয়ান ২'-এর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছেন বাদশা। কানাঘুষো, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে সিক্যুয়েলের শুটিং শুরু করার কথা ভেবেছেন অ্যাটলি-শাহরুখ। তবে এবার প্লটে বড়সড় ট্যুইস্ট রাখতে চলেছেন পরিচালক। কীরকম?
‘জওয়ান’-এ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে কিং খান প্রশ্ন রেখেছিলেন- ‘দোকানে চাল-ডাল কিনতে গেলে ভাল না খারাপ প্রশ্ন করেন। দরদাম করেন, কিন্তু ৫ বছরের জন্য যখন কাউকে সরকারে আনতে ভোট দেন, তখন কি তার কাছে যাচাই করতে যান যে, বেকারত্ব ঘুচবে কিনা, শিক্ষার অধিকার পাওয়া যাবে কিনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হলে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে কিনা? এরপর থেকে যাচাই করে ভোট দিন।’
শোনা যাচ্ছে, 'কিং'-এর মতোই 'জওয়ান ২' ছবির ক্ষেত্রেও খতরনাক খলনায়কের সম্মুখ সমরে পড়তে হতে পারে বাদশাকে। ভিলেনের চরিত্রের জন্য নাকি ইতিমধ্যেই দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রির একজন প্রথম সারির তারকার কাছে প্রস্তাব গিয়েছে। উল্লেখ্য, 'জওয়ান' সিনেমাতেও খলচরিত্রে নজর কেড়েছিলেন বিজয় সেথুপতি। এবার সিক্যুয়েলে কোন তারকা ভিলেন বেশে চমক দেন? নজর থাকবে সেদিকে। শাহরুখ খানই নাকি অ্যাটলির হাত ধরে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক।
'জওয়ান' ছবিতে শাহরুখ খান। ছবি- ইনস্টাগ্রাম
উল্লেখ্য, 'স্বদেশ' ছবির পর বহুদিন বাদে তেইশ সালে পর্দায় 'জওয়ান'-এর হাত ধরে দেশপ্রেমের গাঁথা বুনেছিলেন শাহরুখ। যিনি 'স্বদেশ'-এর মোহন ভার্গব, 'চক দে ইন্ডিয়া'র কবীর খান, তিনিই 'জওয়ান'-এর বিক্রম রাঠোর বা আজাদ হিসেবে আমজনতাকে তাঁদের প্রাথমিক অধিকারের বিষয়ে সচেতন করেছিলেন। তার আগে সিনেপর্দায় সমাজদর্শনের পাঠ পড়িয়েছিলেন কিং খান, কিন্তু দর্শক-অনুরাগীদের রাজনৈতিক চেতনাকে হয়তো নাড়া দেননি। তবে 'জওয়ান'-এর প্রতিটা প্লটে প্লটে সিস্টেমের মেরুদণ্ড কতটা মজবুত, সেটা পরখ করে দেখার জন্য টোকা দিয়েছিলেন! রোজকার ডাল-ভাতের চিন্তা করা আমজনতাকে শিখিয়েছিলেন 'পরিবর্তন পরিবর্তন' করে চেঁচালেই হয় না, জনতাই আসল জনার্দন। গণতন্ত্রের আওয়াজ কতটা শক্তিশালী, নির্বিকার জনতাকে তাঁদের ভাষাতেই বোঝান কিং। নেপথ্যের কারিগর নিশ্চয় অ্যাটলি। তবে 'মাস হিরো' শাহরুখের দৌলতেই এই বার্তা তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন আমজনতার কাছে।
'কাঠি না করে, গণতন্ত্রের মসনদে উপযুক্ত সরকার নির্বাচনের জন্য তর্জনী ব্যবহার করুন'- শাহরুখের এমন রগরগে সংলাপকেই ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের বার্তা বলে মনে করেছিল দর্শকমহলের একাংশ। এমনকী নড়েচড়ে বসে কাজের খতিয়ান দিতে বসেছিল কংগ্রেস ও বিজেপি।
কোনওরকম রেয়াত না করেই ‘জওয়ান’-এ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে কিং খান প্রশ্ন রেখেছিলেন- ‘দোকানে চাল-ডাল কিনতে গেলে ভাল না খারাপ প্রশ্ন করেন। দরদাম করেন, কিন্তু ৫ বছরের জন্য যখন কাউকে সরকারে আনতে ভোট দেন, তখন কি তার কাছে যাচাই করতে যান যে, বেকারত্ব ঘুচবে কিনা, শিক্ষার অধিকার পাওয়া যাবে কিনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হলে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে কিনা? এরপর থেকে যাচাই করে ভোট দিন।’ সর্বপরি, আমজনতাকে আঙুলের সদ্ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ পাঠও দিয়েছিল ‘জওয়ান’। চলতি ভাষায় বলতে হলে- 'কাঠি না করে, গণতন্ত্রের মসনদে উপযুক্ত সরকার নির্বাচনের জন্য তর্জনী ব্যবহার করুন।' আর শাহরুখের এমন রগরগে সংলাপকেই ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের বার্তা বলে মনে করেছিল দর্শকমহলের একাংশ। এমনকী নড়েচড়ে বসে কাজের খতিয়ান দিতে বসেছিল কংগ্রেস ও বিজেপি। এবার সিক্যুয়েলেও কি তেমনই ঝড় তুলবেন? নজর থাকবে সেদিকে।
