পরনে দুধ সাদা ব্রালেট। লাস্যময়ী অবতারে রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে ধরা দিয়ে বিতর্কের শিরোনামে কৃতী শ্যানন। যে প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসার ৪২ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বেলে দিয়েছে আসমুদ্রহিমাচলে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগে নিন্দার ঝড় সোশাল পাড়াতেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিতর্ক থামাতে শেষমেশ বুধবার ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও তুলে নিতে বাধ্য হয় জনপ্রিয় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা। এমন আবহেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সোনু নিগমের একটি মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে। যার জেরে সমালোচিত হতে হচ্ছে খোদ গায়ককেই। বিতর্ক বাড়তেই মাঠে নামলেন সোনু নিগম।
"হিন্দুরা সহনশীল, তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না....।"
রাখি উপলক্ষে জনপ্রিয় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার দূত হিসেবে এক বিজ্ঞাপনী ভিডিও করেন কৃতী শ্যানন। আর তার প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসতেই রে-রে করে ওঠে সভ্যমহলের একাংশ। তাঁদের মতে, 'কৃতীর সাজপোশাক একেবারে বেমানান। রাখিবন্ধনের মতো পবিত্র উৎসবে খোলামেলা পোশাক পরে ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে কলুষিত করছেন তিনি।' কারও বা প্রশ্ন, 'আলমারিতে আর কোনও পোশাক ছিল না?' শুধু তাই নয়, রাখির বিজ্ঞাপনে পোষ্য সারমেয়কে রাখি বাঁধাতেও আপত্তি তুলেছেন একাংশ। বিতর্কের আবহে নিন্দুকদের উদ্দেশে পালটা হাইভোল্টেজ জবাব ছুড়েও রেহাই পাননি কৃতী শ্যানন। এমন আবহে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয় সোনু নিগম নাকি বলেছেন, "হিন্দুরা সহনশীল, তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।" এহেন খবর ভাইরাল হতেই সোশাল পাড়ায় পালটা কাঠগড়ায় উঠতে হয় গায়ককে। কটাক্ষের মাঝেই এবার সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুখ খুললেন সোনু।
বুধবারই এক বিবৃতি জারি করে জনপ্রিয় ওই গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হয়, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান অটুট রেখে বিজ্ঞাপনী ভিডিওটা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
বিতর্কের ঝড়ে কৃতী শ্যাননের রাখির বিজ্ঞাপন তুলে নিল সংস্থা
ওই প্রতিবেদন ভাগ করে নিয়ে সোনু নিগম জানিয়েছেন, "আমি মোটেই এরকম কোনও মন্তব্য করিনি। আপনারা প্লিজ জেগে উঠুন!" জানা গিয়েছে, গায়কের নামে ভুয়ো এক্স হ্যান্ডেল থেকেই এহেন বিপত্তি ঘটেছে। এদিকে বুধবারই এক বিবৃতি জারি করে জনপ্রিয় ওই গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হয়, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান অটুট রেখে বিজ্ঞাপনী ভিডিওটা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার এপ্রসঙ্গে কৃতী যুক্তি দেন, “ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নারীদের মনে থাকে। পোশাকের নেকলাইন কিংবা বিভাজিকায় নয়। রাখিবন্ধন উৎসব একটা আবেগ। সুরক্ষার এক বন্ধন। আমি ও আমার বোন একে-অপরকে রাখি পরাই। আমরা বিশ্বাস করি, ভাই থাকলে যেমন সুরক্ষা দিতে পারত, আমরাও পরস্পরকে ঠিক তেমনই সুরক্ষিত রাখতে পারব। তাছাড়া, নারীরা কী পরবেন- সে বিষয়ে তাঁদের নিদান দেওয়া সমাজ কবে বন্ধ করবে? সময়ের সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, অথচ আজও একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে শুধু তাঁর পোশাক দিয়েই বিচার করা হয়।” তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীও বলেন, “একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন এবং কোথায় যাবেন?– সেসব একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। নারীদের স্বাধীনতায় নাকগলানো বন্ধ করুন।” এমন আবহেই বিজ্ঞাপনী ভিডিও তুলে নেওয়া হল।
