মঙ্গলবারই জানা গিয়েছে যে, পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন শ্রীজাত। খবর প্রকাশ্যে আসতেই কবি, গীতিকার তথা পরিচালকের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভক্তমহল। কেমন আছেন শ্রীজাত এখন? উৎকণ্ঠার মাঝে নিজেই জানান দিলেন শ্রীজাত।
মঙ্গলবার কবিপত্নী দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানিয়েছিলেন, শো করে বাড়ি ফেরার পথে সাঁতরাগাছিতে শ্রীজাতর গাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। আর তাতেই পেশিতে চোট পান শ্রীজাত। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কবির শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কবি, গীতিকার তথা পরিচালক নিজেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, "এখন সুস্থ আছি, বাড়িতেই আছি। পেশিতে চোট পেয়েছি, চিকিৎসা চলছে। কিছুদিনের বিশ্রামও তারই অন্তর্গত। আমাদের গাড়িটি গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, আমি বিপন্মুক্ত। যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তিনিও নিরাপদে।" মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর সংযোজন, "নানান ব্যস্ততার মধ্যেও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বারেবারে আমার পরিস্থিতির খোঁজ করেছেন, তাঁর এই আন্তরিকতা ভোলবার নয়। তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।"
"অগণিত শুভাকাঙ্খী দূর্বাকে ও আমাকে নানাভাবে যোগাযোগ ক'রে আমার কুশল জানতে চেয়েছেন, আমরা যথাসম্ভব প্রত্যুত্তর করেছি। তবুও হয়তো কারও কারও কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছনো হয়নি। আরেকটি ধোঁয়াশাও সৃষ্টি হয়েছে কোনওভাবে, কাটানো দরকার। তা হলো, দূর্বা সেদিন আমার সঙ্গে গাড়িতে ছিল না।..."
অনেকেই অনুমান করেন, পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িতে শ্রীজাতর সঙ্গে তাঁর পত্নী দূর্বাও ছিলেন। কিন্তু এবার সেই ধোঁয়াশা সরিয়ে শ্রীজাত জানালেন, "কাল আমার এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অগণিত শুভাকাঙ্খী দূর্বাকে ও আমাকে নানাভাবে যোগাযোগ ক'রে আমার কুশল জানতে চেয়েছেন, আমরা যথাসম্ভব প্রত্যুত্তর করেছি। তবুও হয়তো কারও কারও কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছনো হয়নি। আরেকটি ধোঁয়াশাও সৃষ্টি হয়েছে কোনওভাবে, কাটানো দরকার। তা হলো, দূর্বা সেদিন আমার সঙ্গে গাড়িতে ছিল না।" স্বাভাবিকভাবেই পেশিতে চোট পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে দিন কয়েক বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে শ্রীজাতকে। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। অতঃপর আপাতত কোনও অনুষ্ঠানেও যেতে পারবেন না তিনি। সেকথা জানিয়েই অনুষ্ঠান উদ্যোক্তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন তিনি।
শ্রীজাত ও দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত
শ্রীজাতর মন্তব্য, "চিকিৎসকের নির্দেশে এখন কয়েকদিন গৃহবন্দি থাকতে হবে। তাই যে সমস্ত অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত থাকার কথা ছিল, সেসব আয়োজনে পৌঁছতে আমি নেহাতই অপারগ। উদ্যোক্তাদের কাছে সে বাবদ আগাম মার্জনা চেয়ে রাখলাম।" অনুরাগী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানিয়ে পরিশেষে কবি, গীতিকার তথা পরিচালকের সংযোজন, কাছের বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-পরিজনদের শঙ্কা তো স্বাভাবিক ও অনুমেয়। তাঁরা ব্যতিরেকেও এত মানুষ খবর নিয়েছেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যে, আমরা দুঃসময়ে অনেকখানি মনোবল পেয়েছি। প্রত্যেককে আমাদের ভালোবাসা জানাই।"
কলমের জোরে বরাবর মানুষের মন জয় করেছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক বছর আগে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘মানবজমিন’ উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাও পরিচালনা করেছেন। পরিচালক হিসেবে সেটাই তাঁর হাতেখড়ি। এরপর ভারতীয় সিনেদুনিয়ায় মাইলস্টোন তৈরি করা মেগাবাজেট দক্ষিণী ছবি ‘পুষ্পা’র বাংলা সংস্করণের গান, সংলাপও তাঁরই লেখা।
