ব্রাত্য বসুর বিখ্যাত নাটক ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ অবলম্বনে ছবি বানিয়েছেন টলিউডের 'ফার্স্ট বয়' সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি শোনা গিয়েছিল, ব্রাত্য বসুর লেখা এই মঞ্চ কাঁপানো নাটকের স্বত্ব কিনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন পরিচালক। এরপর চব্বিশের নভেম্বরে মুক্তি পেল সিনেমার পোস্টার। যেখানে লেনিনের ভাঙা মূর্তির সামনে বসে দুই ব্যক্তি আর সঙ্গে লেখা 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'। পাশে রয়েছে কাস্তে-হাতুড়ি। তা থেকে যেন রক্তের মতো লাল রং চুঁইয়ে পড়ছে। মাঝে কেটে গিয়েছে প্রায় দু'বছর। এবার দর্শকের দরবারে 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এর টিজার।
মুক্তি পেল টিজার
বলা ভাল, পুরাতন সরকারের আমলে ছবি তৈরির পরিকল্পনা, পোস্টার লঞ্চ আর বদলের বঙ্গে টিজার মুক্তি। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সৃজিত মুখোপাধ্যায় 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এর টিজার দর্শক মনকে আরও একবার কৌতুহলী করে তুলল তা বললে অত্যুক্তি হবে না। রাজনৈতিক পটভূমি থেকে পারিবারিক টানাপোড়েন আর প্রজন্মের ব্যবধানের আঁধারে গল্প বুনেছেন সৃজিত। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন টলিউডের একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী।
অনসূয়া মজুমদার
সেই তালিকায় রয়েছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অঙ্গনা রায়, অনসূয়া মজুমদার, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত-সহ একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে সব্যসাচী। যিনি একজন আদর্শবাদী বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী।রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর শত চেষ্টাতেও সন্ধান মেলে না। অবশেষে দীর্ঘ কুড়ি বছর পর আচমকা ঘরের ঘরে ঘরে ফিরে আসে। আর তখন সে বুঝতে পারে সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। চারপাশের সমাজ, মানুষ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সবকিছুই যেন তার কাছে এক নতুন পৃথিবী।
ঋত্বিক চক্রবর্তী
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে যখন সব্যসাচী জানতে পারবে তাঁর ছেলে ইন্দ্র সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং প্রতিপক্ষ দলের সমর্থক। পিতা-পুত্রের রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যই এই ছবির প্রাণশক্তি তা বললে বোধহয় খুব একটা ভুল বলা হবে না। অন্তত টিজারে রয়েছে সেরকমই ইঙ্গিত। এই আদর্শগত সংঘাত ও সময়ের বিবর্তনের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এর গল্প। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে সৃজিতের এই নতুন ছবি।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
