সাধারণ মানুষ হোক বা সেলিব্রিটি, কার সঙ্গে কখন যে কী ঘটে যায় তা বোঝা দায়। সম্প্রতি মুম্বইয়ের রাস্তায় প্রতারকের খপ্পরে পড়েছিলেন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Comedian Abhijit Ganguly)। উপস্থিত বুদ্ধির জেরে বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে বেঁচেছেন। কীভাবে সেই মারাত্মক প্রতারণার শিকার হতে যাচ্ছিলেন, সেই ব্যাখ্যা নিজেই দিয়েছেন অভিজিৎ। অভিযোগ, গাড়ি করে যাওয়ার সময় আচমকা এক ব্যক্তি তাঁর গাড়ির সামনে চলে আসেন। দাবি করেন, অভিজিতের গাড়ির ধাক্কায় তাঁর হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এরপরই মোটা অঙ্কের টাকা হাঁকান ওই ব্যক্তি।
রবিবাসরীয় রাতে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিজিৎ জানান, স্কিম এলাকা থেকে ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিজিতের দাবি, ওই ব্যক্তি নিজের হাতে একটি লালচে দাগ দেখিয়ে বলেন গাড়ির ধাক্কায় আহত। কমেডিয়ানের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি নিজেকে গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, হাতের চোটের কারণে তিনি প্রায় আট হাজার টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই এই টাকাটা তাঁকে দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকেন।
বিষয়টি প্রথমে অভিজিতের বোধগম্য হয়নি। বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তবুও ওই ব্যক্তিকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, কিছুটা সময় পেরনোর পর অভিজিতের সন্দেহ হয়। ট্রমা কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দিলে বেঁকে বসেন। সেসময় উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ওই ব্যক্তির সামনেই পুলিশকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন। অভিজিতের কথায়, পুলিশের নাম শুনেই ভোলবদল!
পুলিশকে এবিষয়ে না জানানোর অনুরোধ করেন। পরিবর্তে জানতে চান, অভিজিৎ তাঁকে কত টাকা দিতে রাজি। কিন্তু, টাকা পয়সার লেনদেনের প্রস্তাব নাকোচ করেন দেন কমেডিয়ান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর বিশে কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই ব্যক্তি অভিজিৎকে তাঁর ছবি তুলতেও বাধা দেন বলে অভিযোগ।
যদিও অভিজিৎ সুকৌশলে তাঁকে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন। ভিডিওতে অভিজিৎ জানান, ওই ব্যক্তির দাগটা পুরনো বলে মনে হয়েছিল। তাছাড়া গাড়ির ধাক্কায় যে ধরনের আঘাত পাওয়ার কথা তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির আঘাতের চিহ্নর সামঞ্জস্য নিয়েও সন্দেহ দানা বাঁধে।
পুলিশের কথায় অস্বস্তি প্রকাশে সন্দেহ আরও জোরাল হয়। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিজিতের পরামর্শ, অপরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ এসে রাস্তার দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার দাবি করে টাকা চাইলে চাপের মুখে নগদ অর্থ দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে না ফেলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
