শুক্রবার সাতসকালে গল্প-চরিত্র চুরির অভিযোগ নিয়ে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন সুমন ঘোষ! পরিচালকের দাবি, তাঁর স্বতন্ত্র ভাবনায় লেখা 'স্টার' নামক সিনেমার গল্প, চরিত্রের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে 'অভিমান'-এর। শুধু তাই নয়! ফেসবুকে এক খোলা চিঠিতে সুমন এও দাবি করেন যে, বিগত আড়াই বছর ধরে এই সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে মূল চরিত্রে ভাবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, যিশু সেনগুপ্ত এবং সৌরভ দাস প্রযোজিত সিনেমার গল্পও প্রসেনজিৎকে ঘিরেই আবর্তিত। আর 'অভিমান'-এর ঝলকে এহেন মিল পেয়েই 'স্টার'-এর ভাবনা এবং গল্প চুরির অভিযোগ এনেছেন সুমন ঘোষ। পরিচালকের পোস্টে বিতর্ক উসকাতেই এবার মুখ খুলল 'হোয়াই সো সিরিয়াস ফিল্মস'।
ছবিমুক্তির দিন সোশাল মিডিয়ায় ইন্ডাস্ট্রির ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’র উদ্দেশে এক খোলা চিঠি লিখেছেন সুমন ঘোষ। যেখানে ‘পেশাগত নীতি এবং দায়বদ্ধতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক। সুমনের দাবি, গত আড়াই বছর ধরে যে চিত্রনাট্য নিয়ে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, ‘অভিমান’-এর টিজার-ট্রেলারের সঙ্গে তার অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে।
যিশু-সৌরভের প্রযোজনা সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, 'অভিমান'-এর গল্পটি মৌলিক। পরিচালক সুমন ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা এই বিবৃতিতে তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কাহিনি নিয়েই 'অভিমান' ছবিটি তৈরি করেছেন তাঁরা। 'হোয়াই সো সিরিয়াস ফিল্মস'-এর বিবৃতিতে উল্লেখ, "'অভিমান'-এর মূল ভাবনাটি যিশু সেনগুপ্তর। সেখান থেকেই চিত্রনাট্য এবং সংলাপ তৈরি করেছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সুশৃঙ্খল, সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই সিনেমা তৈরি হয়েছে।" এরপরই প্রযোজনা সংস্থার সংযোজন, "সব সিনেনির্মাতাদের কাজ ও সৃজনশীলতার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকলেও, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি যে 'অভিমান' একটি মৌলিক সিনেমা। যেটা আমাদেরই গল্প। আমরা বিশ্বাস করি, নিজস্ব গুণমানের ভিত্তিতেই শিল্পকর্মের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।" তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বিবৃতিতে কোথাও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বা সুমন ঘোষের নামোল্লেখ করা হয়নি।
প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে গল্প-চরিত্র চুরির অভিযোগ সুমনের! অভিমানী পরিচালক।
১৯ জুন, শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আলো দেখল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত 'অভিমান'। যে সিনেমার ঝলকে 'রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি'র ভূমিকায় রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ষাটোর্ধ্ব মেগাস্টার। ইন্ডাস্ট্রির 'জ্যেষ্ঠপুত্র'কে এহেন ছকভাঙা অবতারে পেয়ে দর্শকমহলেও উন্মাদনার পারদ। তবে রিলিজের দিনই সংশ্লিষ্ট সিনেমা নিয়ে সরগরম টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়া! 'অভিমান'-এর গল্প চুরির অভিযোগ নস্যাৎ করে প্রযোজকদের আর্জি, সকলে যেন ছবিটি দেখতে আসেন এবং দেখে নিজেরাই বিচার করেন। বিদেশের বাসিন্দা হলেও এযাবৎকাল টলিউডকে ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘কাদম্বরী’, ‘বসু পরিবার’, ‘নোবেল চোর’-এর মতো একাধিক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা উপহার দিয়েছেন সুমন। অপর্ণা সেনকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করেছেন তিনি। সেই পরিচালকই কিনা এবার যিশু সেনগুপ্ত ও সৌরভ দাস প্রযোজিত ‘অভিমান’ সিনেমার ভাবনা চুরির অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেন প্রসেনজিৎকে! শুক্রবার সকাল যে বিতর্কে সরগরম সেলেব পাড়া। ছবিমুক্তির দিন সোশাল মিডিয়ায় ইন্ডাস্ট্রির ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’র উদ্দেশে এক খোলা চিঠি লিখেছেন সুমন ঘোষ। যেখানে ‘পেশাগত নীতি এবং দায়বদ্ধতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক। সুমনের দাবি, গত আড়াই বছর ধরে যে চিত্রনাট্য নিয়ে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, ‘অভিমান’-এর টিজার-ট্রেলারের সঙ্গে তার অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে।
‘অভিমান’-এর ঝলকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
পরিচালকের সংযোজন, “অত্যন্ত যত্ন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্ক্রিপ্ট গড়ে তুলেছিলাম— ‘স্টার’। আর তার চরিত্রচিত্রণে ‘স্টার’ হিসেবে শুরু থেকেই তোমাকে ভেবে এসেছি। এই আড়াই বছরে তোমার মতো একজন সিনিয়র, খ্যাতনামা অভিনেতার সাথে আমার বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে। তোমায় ভেবেই চরিত্রটির দুটি ভিন্ন বয়স ও রূপ সাজানো হয়েছিল— ১) জরাগ্রস্ত, অবক্ষয়ী রূপ এবং ২) তরতাজা যৌবনের ইমেজ। এমনকি হোমওয়ার্ক হিসেবে আমি তোমায় নেটফ্লিক্সের ‘এলভিশ’ সিনেমাটি দেখতেও বলেছিলাম। যদিও সেটি একজন মিউজিক সুপারস্টারকে নিয়ে, তবুও আমাদের ছবির ভাবনার সাথে তা প্রাসঙ্গিক ছিল। শেষবার, গত ডিসেম্বর মাসে আমাদের কথা চূড়ান্ত হয় যে ‘এনআইডিয়াস’ ছবিটি প্রযোজনা করবে এবং সেই অনুযায়ী আমার প্রোডাকশন কোঅর্ডিনেটর একটি বাজেটও তোমাকে পাঠায়। তবে এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক যে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তোমার ‘অভিমান’ ছবির টিজার এবং ট্রেলারে প্রায় হুবহু একই রকম চরিত্রায়ণ, একই রকম দৃশ্য এবং উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।”
