পানমশলারা বিজ্ঞাপন করে আইনি জটিলতায় শাহরুখ খান। সম্প্রতি 'মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন'-এর তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে বাদশাকে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনে মুখ দেখিয়ে কিং খানের সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন অজয় দেবগন, টাইগার শ্রফও। মহারাষ্ট্রের খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের নির্দেশ, অবিলম্বে এই গুটখার বিজ্ঞাপনের প্রচার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সোশাল মিডিয়া থেকেও সমস্ত প্রচারঝলক সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমন আবহেই পানমশলার বিজ্ঞাপনে তারকাদের মুখ দেখানো নিয়ে বিস্ফোরক সানি দেওল।
"পানমশলাকে প্রচারযোগ্য পণ্য বলেই মনে করি না আমি। এগুলোর প্রচার করা মোটেই ভালো কাজ নয়..."
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সানি (Sunny Deol) জানান, "আমি কোনওদিন গুটখার বিজ্ঞাপন করিনি, করবও না। প্রস্তাব আসে, কিন্তু আমি করব না।" কেন? ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেতা জানান, "আমি এমন কোনও কাজ করতে চাই না, যেটায় আমার নিজের বিশ্বাস নেই। কারণ পানমশলাকে প্রচারযোগ্য পণ্য বলেই মনে করি না আমি। এগুলোর প্রচার করা মোটেই ভালো কাজ নয়।" এরপরই সানি দেওলের সংযোজন, "এহেন অনেক কাজই আমি করি না, কারণ আমার বিবেকে বাঁধে।" সানি দেওলের এহেন মন্তব্য ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি শাহরুখ খানকেই বিঁধলেন তিনি? কারণ দেড় দশক আগে বাদশার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া বেঁধেছিল সানির। তারপর আর কোনও সিনেমায় একসঙ্গে কাজও করেননি তাঁরা। তাই এবার যখন বাদশা পানমশলার বিজ্ঞাপন বিতর্কে জড়িয়েছেন, এমন আবহে সানি দেওলের মন্তব্য যে তাঁদের অতীত মান-অভিমান উসকে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। কেন ঝামেলা বাঁধে শাহরুখ-সানির?
শাহরুখ খান, সানি দেওল
আসলে 'ডর' সিনেমার পর থেকেই শাহরুখ ও সানির মনোমালিন্য। ছবিতে দুই নায়ক থাকা সত্ত্বেও যাবতীয় প্রশংসা পেয়েছিলেন শাহরুখই। তাতেই নাকি বেজায় চটেছিলেন ধর্মেন্দ্রপুত্র। তারপর থেকে দু'জনকে একসঙ্গে আর কোনও ছবিতে দেখা যায়নি। তবে তেইশ সালে 'গদর ২' হিট হতেই শাহরুখের সঙ্গে কাজের ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন সানি দেওল। '১৯৪৭ বাটোয়ারা' অভিনেতা জানিয়েছিলেন, “শাহরুখের সঙ্গে যখন ঝামেলা হয়েছিল, তখন সেটা আলাদা একটা সময় ছিল। সময়ের সঙ্গে মানুষ ভুলে যায় সব মান-অভিমান। ওটা হওয়া উচিত ছিল না। শাহরুখের সঙ্গে ঝগড়াটা ছেলেমানুষি ছিল। তারপরও যদিও একাধিকবার শাহরুখের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে অনেক বিষয়ে। ছবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এবার তো শাহরুখ গোটা পরিবার নিয়ে আমার ছবি দেখে এসেছে। আমাকে ফোনও করেছিল। তাই শাহরুখ আর আমার মধ্যে কোনও দূরত্ব নেই। সব ঠিক চলছে।”
