Advertisement
৮০ শতাংশ জাপানি দেবদেবী আসলে ভারতীয়, কোন রূপে পূজিত হন ব্রহ্মা-মহাদেব?
দুই সভ্যতার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের দিকটিই উঠে আসে এই নিয়ে চর্চা করতে গেলে।
জাপানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ইয়াসুকুনি এনোকি একবার মন্তব্য করেছিলেন, “জাপানি দেবদেবীর ৮০ শতাংশেরও বেশি মূলত ভারতীয়।” কথাটা যতই চমকপ্রদ হোক, সত্যিটা এমনই। আমাদের প্রায় সকল দেব দেবীই জাপানে পূজিত হন। ভিন্ন নামে। কিন্তু তাঁদের কর্মবৈশিষ্ট্য একই। সরস্বতী থেকে ব্রহ্মা, তালিকা সত্যিই অবাক করে। জাপানের নিজস্ব শিন্তো ধর্মের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটা তা নয়।
যিনিই ব্রহ্মা, তিনিই জাপানে পূজিত হন বন-তেন নামে। প্রজাপতি ব্রহ্মার মতো তাঁরও চারটি মাথা। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ১২ জন দেবতার অন্যতম। আকাশের রক্ষাকর্তাও ধরা হয় তাঁকে। বন তেনের বাহনও রাজ হংস। তবে রূপকল্পে সাদৃশ্য ঘটলেও কার্যক্রমের ভিন্নতা অবশ্য রয়েছে। কিন্তু তবুও এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ব্রহ্মা ও বন-তেন একই দেবতা।
ভারতের দেবী সরস্বতী জাপানে শিল্প, জ্ঞান ও জলের দেবী হিসেবে পরিচিত। নাম বেনজাইটেন। চারুকলা, সঙ্গীত ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী 'উদিত সূর্যের দেশে' পূজিত হন এই নামেই। দু'জনেরই হাতে ধরা একধরনের বাদ্যযন্ত্র। তবে সরস্বতীর হাতের যন্ত্রের নাম বীণা। এবং বেনজাইটেনের হাতের বাদ্যযন্ত্রটি বিওয়া।
ভগবান শিবকে জাপানিরা চেনেন দাইকোকতেন বা মাহাকারা নামে। দাইকোকতেনের দুই হাতে ধরা হাতুড়ি ও ঝুলি। কৃষি, উর্বরতা, যুদ্ধ ও গার্হস্থ্য জীবনের এই দেবতার রয়েছে ৬টি প্রধান রূপ। জাপানি বিশ্বাসে, শাক্যমুনি বুদ্ধই পূর্বাবতারে ছিলেন শিব। ধনসম্পদের দেবতা দাইকোকতেনের বিভিন্ন রূপে হাতে তরবারি, বজ্রও দেখা যায়।
কেবল শিব, ব্রহ্মা বা সরস্বতীই নন। জাপানে পূজিত হন আমাদের মা লক্ষ্মীও। নাম কিছিজো তেন। এই দেবীও লক্ষ্মীর মতোই সৌন্দর্য, ফসল, উর্বরতা ইত্যাদির দেবী। এমনকী, দু'জনই অধিষ্ঠান করেন পদ্মের উপরে। তাঁর হাতে একটি বিশেষ চিন্তামণি রত্ন দেখা যায়। ধন-সম্পদের রক্ষাকর্তা দেবতা 'বিশামন'-এর তিনি স্ত্রী (মতান্তরে বোন)।
বিঘ্নহর্তা, বিনায়ক, গণপতি বাপ্পা। এদেশে নানা নামেই ডাকা হয় গণেশকে। মা দুর্গার এই ছেলে যে জাপানেও পূজিত, তা ভাবলে অবাক হতেই হয়। নামে কিন্তু মিল রয়েছে। এখানে তিনি পূজিত বিনায়াকা তেন নামে। সাধারণত সন্তানপ্রাপ্তির জন্য তাঁর পূজা হয়ে থাকে। যদিও গণেশের মতো সেই অর্থে প্রকাশ্যে বিনায়াকা তেনের পুজো সেভাবে দেখা যায় না। বরং মন্দিরের অন্তরালেই তাঁকে রেখে দেওয়া হয়, বিশেষ কিছু শাস্ত্রীয় আচার পালনের সময় ছাড়া।
Published By: Biswadip DeyPosted: 09:14 PM Aug 17, 2026Updated: 09:14 PM Aug 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
